বিমল গুরুংকে মানছেন না, নবান্নের উদ্দেশ্যে যাত্রার আগেই বিমলকে কার্যত চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে জানিয়ে দিলেন বিনয়

105
বিমল গুরুংকে মানছেন না,  নবান্নের উদ্দেশ্যে যাত্রার আগেই বিমলকে কার্যত চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে জানিয়ে দিলেন বিনয় 1
বিমল গুরুংকে মানছেন না,  নবান্নের উদ্দেশ্যে যাত্রার আগেই বিমলকে কার্যত চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে জানিয়ে দিলেন বিনয় 2

নিউজ ডেস্ক: তিন বছর আড়ালে থাকার পর বিমল গুরুং পঞ্চমীর দিন হঠাৎ করেই উদয় হন। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে সমর্থন করবেন, এই ঘোষণা করে তিনি রাজনীতির পরবর্তী ইনিংস শুরু করার ভূমিকা দিয়ে রাখলেন। আর ঠিক তারপর থেকেই বিনয় তামাং–অনীত থাপা গোষ্ঠী বিমল গুরুংয়ের বিরোধিতা করে নানারকম বার্তা দিচ্ছেন। পাহাড়ে বের করছেন শান্তি মিছিল। শনিবারই এরকম একটি মিছিল ছিল। এই পৃথক রাজনীতির পাহাড়ে যাতে আর আগুন জ্বলে না ওঠে তাই স্বয়ং মুখ্যমন্ত্রী নড়েচড়ে বসলেন। নবান্নে ডেকে পাঠালেন বিনয় তামাং, অনীত থাপাকে। আগামী মঙ্গলবার অর্থাৎ ৩ নভেম্বর তাঁদের ডাক পড়েছে বলে খবর।

নবান্নে মুখ্যমন্ত্রীর ডাকা বৈঠকে যোগ দিতে যাওয়ার আগে শিলিগুড়ির বাগডোগরা বিমানবন্দরে কার্যত বিমল গুরুংয়ের বিরুদ্ধে চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে দিলেন মোর্চার নেতা বিনয় তামাং। তিনি বলেন, ‘বিমল গুরুং রোশন গিরি আমাদের জন্য কোনও থ্রেড নয় বরং বিনয় তামাং বিমল গুরুংয়ের জন্য থ্রেড।’

বিমল গুরুংকে মানছেন না,  নবান্নের উদ্দেশ্যে যাত্রার আগেই বিমলকে কার্যত চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে জানিয়ে দিলেন বিনয় 3

বিনয় তামাং আরও বলেন, ‘বিমল গুরুং প্রসঙ্গে মুখ্যমন্ত্রী এখনও অফিশিয়ালি কোনও রকম স্টেটমেন্ট দেয়নি তাই আমরা এ বিষয়ে কোন মন্তব্য করব না। তবে এটা খুব ভুল ধারণা বিমল গুরুং পাহাড়ে ফিরলে আমাদের রাজনৈতিক ক্যারিয়ার নষ্ট হয়ে যাবে। বিমল গুরুং, রোশনগিরী এই মুহূর্তে পাহাড়ের কোন সাবজেক্টই নয়। বর্তমানে পাহাড় শান্ত রয়েছে, কোভিড পরিস্থিতির পরে আনলক পর্বে পাহাড়ে এই মুহূর্তে পর্যটকদের আগমন শুরু হয়েছে।’ বিনয় তামাং এদিন আরও বলেন পাহাড়ে কেউ অশান্তি করতে চাইলে প্রশাসন রয়েছে, আমরা পাহাড়ে শান্তি চাই।’

প্রসঙ্গত, বিমলের প্রত্যাবর্ত‌নের পরেই তাঁকে নিয়ে বিনয় তামাং–অনীত থাপা গোষ্ঠী অনিশ্চয়তায় ভুগছে। কারণ তাঁরা অশান্ত পাহাড়কে শান্ত করেছিলেন। আর এখন বিমল এসে লাভের গুঁড় খেয়ে নেবে তা তাঁরা কখনই হতে দিতে চান না। তাই পাহাড় জুড়ে বিমল বিরোধী আওয়াজ তোলা শুরু হয়েছে। যদিও বিমল–উত্তর নতুন পরিস্থিতিতে মমতা পরিষ্কার করে দিয়েছেন, পাহাড়ের প্রশাসনিক প্রধান বিনয়ই।

মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কাছে এখন সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব পাচ্ছে পাহাড়ে শান্তি বজায় রাখা এবং সেখানের ভোট ব্যাঙ্ক ফিরে পাওয়া। কারণ সামনেই ভোট। সেখানে বিমলের নিজস্ব সমর্থকের সংখ্যাটা কম নয়, যা ভোট–অঙ্কে সুবিধায় রাখবে তৃণমূলকে। আর সবদিক ভালোভাবে সামলাতে গেলে ঠিক রাখতে হবে পাহাড়কে। সেই কথা ভেবেই নবান্নে তিনি ডেকে পাঠিয়েছেন বিনয়-অনীতকে। তবে বাগডগরা বিমানবন্দরে বিমলকে যেভাবে চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে দিলেন বিনয়, তাতে এই বৈঠক কতটা ফলপ্রসূ হবে, এখন সেদিকেই তাকিয়ে সকলে।