আদিবাসী পরিবারের সিঁদুর দান অনুষ্ঠানে হামলার ঘটনায় নিহত পাত্রের মা, বিনপুরে চাপা উত্তেজনা

45

নিজস্ব সংবাদদাতা: শনিবার রাতে মৃত্যু হল ঝাড়গ্রাম জেলার বিনপুর থানার এক বিয়ে বাড়িতে হামলার ঘটনায় গুরুতর আহত হওয়া পাত্রের মায়ের। বৃহস্পতিবার ওই হামলার পর গভীর রাতেই কলকাতার নীলরতন সরকার হাসপাতালে স্থানান্তরিত করা হয় পাত্রের বাবা শঙ্কর টুডু ও মা সিংগ টুডুকে। প্রায় ৫৬ ঘন্টা মৃত্যুর সাথে লড়াই করে অবশেষে মৃত্যু হয় সিংগ টুডুর। এ ব্যাপারে বিনপুর থানায় প্রায় ডজন খানেক ব্যক্তির বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের করা হলেও রবিবার বিকাল অবধি কোনও গ্রেপ্তার হয়নি।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে বিনপুর থানার আশাকাঁথি এলাকার রাজকুশমা গ্রামে জিতেন টুডু নামে এক আদিবাসী যুবকের সাম রীতি মেনে সিঁদুর দান অনুষ্ঠান হচ্ছিল। সাঁওতালি প্রথা অনুযায়ী বিশেষ পারিবারিক অসুবিধা থাকলে দুই দুই যুবক যুবতী পারিবারিক ও সামাজিক সম্মতির ভিত্তিতে সিঁদুর ছাড়াই বিবাহিত জীবন যাপন করতে পারেন। সময়ান্তরে সেই সিঁদুরদান প্রক্রিয়া সেরে নিতে হয়। সেই প্রক্রিয়ার অঙ্গ হিসাবেই অনুষ্ঠিত হচ্ছিল সিঁদুর অনুষ্ঠান যেখানে পরিবারের অভিযোগ অনুযায়ী ‘দুষ্কৃতি’রা সশস্ত্র হামলা চালায় যাঁদের দাবি ছিল, রীতি মেনে তাদের নিমন্ত্রন করা হয়নি।

পরিবার এবং তাদের পক্ষের লোকেদের সঙ্গে বহিরাগতদের বচসা এবং হাতাহাতি এবং পরিণতিতে ধারালো অস্ত্র নিয়ে হামলা চালানোর অভিযোগ ওঠে। ।এই হামলার জেরে আহত হন পাত্র জিতেন টুডুর মা সিংউ টুডু,বাবা শঙ্কর টুডু সহ আরও চারজন। আঘাত গুরুতর হওয়ায় সিংউ টুডু এবং শঙ্কর টুকুকে নীলরতন সরকার মেডিকেল কলেজে ভর্তি করা হয়।আর ভর্তি থাকাকালীন শনিবার রাতে মৃত্যু হয় সিংগ টুডুর।এই ঘটনার জন্য রাজকুশমা গ্রামে একটা চাপা উত্তেজনা রয়েছে।

আরও পড়ুন -  ভর সন্ধ্যায় পেট্রোল পাম্পে ডাকাতিতে বাধা দিতে গিয়ে গুলিতে নিহত যুবক, পূর্ব মেদিনীপুরে চাঞ্চল্য

ঘটনার জন্য বিনপুর থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছে জিতেন টুডু এর পরিবার। রবিবার কলকাতা থেকে মৃতদেহ আসার পর জিতেন টুডুর পরিবারকে সমবেদনা জানাতে তার বাড়িতে উপস্থিত হন তৃণমূলের ঝাড়গ্ৰাম জেলা সভাপতি বীরবাহা সরেন সহ একগুচ্ছ নেতৃত্ব।
শুধুই প্রথা মেনে আমন্ত্রন জানানো হয়নি বলেই এই হামলা এরকমটা মনে করেনা পুলিশ বা শাসকদল। ঘটনার পেছনে স্থানীয় একটি সামাজিক ও রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট রয়েছে যার সূত্রপাত গত পঞ্চায়েত নির্বাচন থেকেই এমনটাই মনে করা হচ্ছে। পঞ্চায়েত নির্বাচনে বিনপুর ও সংলগ্ন বেলপাহাড়ী অঞ্চলে স্থানীয় একটি মঞ্চ তৈরি করে প্রতিদ্বন্দ্বীতায় নামে একটি আদিবাসী সংগঠন যাঁদের দাবি ছিল এলাকার কেউই কোনও রাজনৈতিক দলের ব্যানারে নির্বাচনে অবতীর্ন হতে পারবেননা।

আরও পড়ুন -  স্ত্রীকে খুন করে আত্মঘাতী স্বামী, চাঞ্চল্য পটাশপুরে, দিঘার বালি খুঁড়ে উদ্ধার গৃহবধূর মৃতদেহ

এই হুঁশিয়ারি মেনে বহু মানুষ নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা থেকে সরে দাঁড়ায়। মঞ্চ বহু আসনে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় জয় লাভ করে। কিন্তু এই ফতোয়া মানেননি আপাদমস্তক তৃনমূল কংগ্রেসের সমর্থক এই পরিবারটি। পরিবারের এক সদস্য প্রতিদ্বন্দ্বিতায় অংশ নেন। যদিও জয়ী হতে পারেননি তিনি। সেই সময় থেকে কার্যত এক ঘরে হয়েই ছিল পরিবারটি।

আরও পড়ুন -  মাঝ রাতে আগুন লাগিয়ে দেওয়া হল খড়গপুরের এনজিও অফিস ও একাধিক দোকানে, ক্ষোভে ফুটছে চায়না টাউন

বিনপুর পুলিশের এক আধিকারিক জানিয়েছেন, “সিঁদুর দানের ওই অনুষ্ঠানে রীতি মেনে নিমন্ত্রন করা হয়েছিল কী না এমনটা জানা নেই আর এও জানা নেই যে রীতি না মানলে এমন ভয়াবহ হামলা চালানোর রীতি রয়েছে কিনা কিন্তু ব্যক্তিগত ভাবে আমার মনে হয়েছে এই হামলার পেছনে এমন একটি সংগঠিত প্রতিহিংসা কাজ করেছে যার কারন ওই পঞ্চায়েতে প্রতিদ্বন্দিতা।” ঘটনা যাই হোকনা কেন জঙ্গলমহলের সাম্প্রতিক অতীত দেখার পরই হয়ত এই ঘটনার বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নিতে পুলিশকে যথেষ্টই দ্বিধাগ্রস্ত মনে হচ্ছে। অসহায় মনে হচ্ছে শাসকদলকেও।

আদিবাসী পরিবারের সিঁদুর দান অনুষ্ঠানে হামলার ঘটনায় নিহত পাত্রের মা, বিনপুরে চাপা উত্তেজনা 1