নদীয়ার গয়েশপুরে বিজেপি কর্মীর ঝুলন্ত দেহ উদ্ধার ঘিরে চাঞ্চল্য, সোমবার ১২ ঘন্টার কল্যানি বনধের ডাক গেরুয়া শিবিরের

134
নদীয়ার গয়েশপুরে বিজেপি কর্মীর ঝুলন্ত দেহ উদ্ধার ঘিরে চাঞ্চল্য, সোমবার ১২ ঘন্টার কল্যানি বনধের ডাক গেরুয়া শিবিরের 1

ওয়েব ডেস্ক: নির্বাচনের আগে রাজ্যে একের পর বিজেপি কর্মী খুনের ঘটনায় ইতিমধ্যেই উত্তপ্ত রাজ্য রাজনীতি। দিন কয়েক আগেই গুলিবিদ্ধ হয়ে খুন হয়েছেন বাগনানের বিজেপি নেতা কিঙ্কর মাঝি। এই ঘটনার রেশ কাটতে না কাটতেই নদীয়ার গয়েশপুরে উদ্ধার হল এক বিজেপি কর্মীর ঝুলন্ত দেহ। জানা গিয়েছে, এদিন সকালে নদিয়ার গয়েশপুরের এক আমবাগান থেকে বছর ৩৪ এর বিজয় শীল নামে ওই যুবকের ঝুলন্ত দেহ উদ্ধার করে পুলিশ। এই খবর প্রকাশ্যে আসতেই ওই ব্যক্তিকে নিজেদের কর্মী বলে দাবি করেন গেরুয়া শিবির। পাশাপাশি বিজয়কে খুন করে গাছে ঝুলিয়ে দেওয়া হয়েছে বলেও অভিযোগ করে স্থানীয় বিজেপি। এই ঘটনা প্রকাশ্যে আসতে ইতিমধ্যেই এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। এই ঘটনায় সরাসরি শাসকদলকেই কাঠগড়ায় তুলেছে বিজেপি। যদিও বিজেপির এই অভিযোগ একেবারেই অস্বীকার করে নিহত বিজয় শীলকে শাসকদলের কর্মী হিসেবে দাবি করেন স্থানীয় তৃণমূল নেতৃত্ব।

এদিকে এ ঘটনার প্রতিবাদে সোমবার ১২ ঘণ্টার কল্যাণী বন্‌ধের ডাক দিয়েছে বিজেপি। রাজ্যে একের পর এক বিজেপি কর্মী খুনের ঘটনার প্রতিবাদ করে রাজ্য বিজেপি সভাপতি দিলীপ ঘোষ এদিন জানান, সোমবার শুধুমাত্র কল্যাণী বনধ করা হবে তা নয়, পাশাপাশি রাজ্যের সমস্ত থানার সামনে বিক্ষোভ দেখাবে বিজেপি। পাশাপাশি ওই বিজেপি কর্মীর দেহ উদ্ধারের পর রবিবার সকালেই কল্যাণী থানায় পৌঁছে পুলিশ আধিকারিকদের সঙ্গে কথা বলেন বিজেপি নেতা শুভ্রাংশু রায়। পাশাপাশি এদিন তিনি দাবি করেন, জেলা ম্যাজিস্ট্রেটের উপস্থিতিতেই যেন মৃত যুবকের ময়নাতদন্তের ভিডিওগ্রাফি করা হয়। শুধু তাই নয়, এই ঘটনায় গেরুয়া শিবিরের তরফে সঠিক তদন্তের দাবি জানানো হয়েছে। ঘটনার পর ইতিমধ্যেই পুলিশের তরফে দেহ উদ্ধার করে কল্যাণী জেএনএম হাসপাতালে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে।

নদীয়ার গয়েশপুরে বিজেপি কর্মীর ঝুলন্ত দেহ উদ্ধার ঘিরে চাঞ্চল্য, সোমবার ১২ ঘন্টার কল্যানি বনধের ডাক গেরুয়া শিবিরের 2

এদিকে মৃত যুবকের পরিবার সূত্রে জানা গিয়েছে, বিজয় শীল নামে ওই যুবক রান্নার গ্যাস সরবরাহকারী সংস্থায় কাজ করতেন। ঘটনায় পরিবারের অভিযোগ, দিন কয়েক আগেই বিজয়কে কয়েকজন হুমকি দিয়েছিল। কিন্তু সে ব্যাপারে খুব একটা গুরুত্ব দেয়নি বিজয় ও তাঁর পরিবার। তবে কোনো রাজনৈতিক কারণে তাকে হুমকি দেওয়া হয়েছিল কিনা সে ব্যাপারে কিছুই জানেননা পরিবারের সদস্যরা। এই ঘটনায় মৃতের স্ত্রীর দাবি, বিজয় কোনোভাবেই আত্মহত্যা করতে পারে না। তাঁকে খুন করে ঝুলিয়ে দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি তিনি আরও জানান, এর আগেও তাঁকে স্থানীয় দুই দুষ্কৃতী খুনের হুমকি দিয়েছিল।

এদিকে বিজেপির পাশাপাশি তৃণমূলের তরফেও বিজয়কে শাসকদলের কর্মী হিসেবে দাবি করা হয়। এবিষয়ে গয়েশপুরের তৃণমূল সভাপতির দাবি, মৃত যুবক শাসকদলের সমর্থক ছিলেন। এটি একেবারে আত্মহত্যার ঘটনা। বিজেপি এই মৃত্যু নিয়ে রাজনীতি করছে। এবিষয়ে তৃণমূল সাংসদ আবিররঞ্জন বিশ্বাস বলেন, “‌প্রতিটি অস্বাভাবিক মৃত্যুর ঘটনা নিয়ে রাজনীতি করছে বিজেপি। পুলিশি তদন্তেই মৃত্যুর আসল কারণ সামনে আসবে।”