দলবদলুর আগুন লাগল পদ্মবনেই! আলিপুরদুয়ার বিজেপি সভাপতির কড়া হুঁশিয়ারি রাজ্য কমিটিকে

563
দলবদলুর আগুন লাগল পদ্মবনেই! আলিপুরদুয়ার বিজেপি সভাপতির কড়া হুঁশিয়ারি রাজ্য কমিটিকে 1

অশ্লেষা চৌধুরী: ২ঘন্টা আগে নিজের Face book ওয়ালে দু’লাইনের একটি পোষ্ট করেছেন বিজেপির আলিপুরদুয়ার জেলা সভাপতি গঙ্গাপ্রসাদ শর্মা। লিখেছেন, “ধন্যবাদ রাজ্য বিজেপিকে আমাকে শো-কজ নোটিশের জন্য। উচিৎ উত্তর পাবেন।” এই দু’ঘন্টার মধ্যেই ১১৬টি লাইক, ১০টা শেয়ার আর ৬৮টা কমেন্ট। কমেন্ট বক্সে রাজ্য কমিটির বিরুদ্ধে ক্রোধ আর গঙ্গা প্রাসাদের সমর্থনে প্রতিক্রিয়া উপচে পড়ছে ছোট বড় বিজেপি নেতা আর কর্মীদের। ‘দাদা আপনার সঙ্গে আছি’ বার্তা দিয়েছেন তাঁরা। সব মিলিয়ে রাজ্য কমিটিকে হুঁশিয়ারি দেওয়ায় কর্মীদের হৃদয় ছুঁয়ে বিজেপি কর্মী সমর্থকদের গঙ্গা দা!দলবদলুর আগুন লাগল পদ্মবনেই! আলিপুরদুয়ার বিজেপি সভাপতির কড়া হুঁশিয়ারি রাজ্য কমিটিকে 2

এই পোষ্টের মাত্র আধঘন্টা আগে রাজ্য বিজেপির সহ-সভাপতি প্রতাপ ব্যানার্জীর শো-কজ লেটার পেয়েছেন গঙ্গা প্রসাদ। চিঠিতে বলা হয়েছে বিজেপি সভাপতি দিলীপ ঘোষের বকলমে চিঠি দিচ্ছেন প্রতাপ। দলবিরোধী মন্তব্যের জেরে আলিপুরদুয়ারের বিজেপি জেলা সভাপতি গঙ্গাপ্রসাদ শর্মাকে শোকজ করা হয়েছে। গঙ্গাপ্রসাদকে শোকজ করে সাতদিনের মধ্যে জবাব চাওয়া হয়েছে। অভিযোগ গঙ্গাপ্রসাদ শর্মা সংবাদ মাধ্যমে ‘দলবিরোধী’ মন্তব্য করেছিলেন।

দলবদলুর আগুন লাগল পদ্মবনেই! আলিপুরদুয়ার বিজেপি সভাপতির কড়া হুঁশিয়ারি রাজ্য কমিটিকে 3

ঘটনা ১৮ই ডিসেম্বর, গঙ্গা প্রসাদ খবর পেয়েছেন পরের দিনই অর্থাৎ ১৯ ডিসেম্বর মেদিনীপুরে অমিতের শাহী সভায় তৃণমূল থেকে বিজেপিতে যোগ দিচ্ছেন আলিপুরদুয়ারের প্রাক্তন তৃণমুল সাংসদ দশরথ তিরকে। এই যোগদান প্রসঙ্গে, গঙ্গাপ্রসাদ শর্মার মন্তব্য করেছিলেন, ‘এখন জেলায় দলে কোনও পদ খালি নেই। কাউকে পদ দেওয়া যাবে না।‘ আর এমন ঘটনার জন্যই তাঁর কাছে জবাব জানতে চাওয়া হয়েছে। উত্তরে গঙ্গাপ্রসাদের ওই ছোট্ট পোষ্ট আগুন লাগিয়েছে বিজেপিতে।

এরপরেই গঙ্গা প্রসাদ শর্মার ঐ পোস্ট, যেটা ঘিরে তোলপাড় সোশ্যাল সাইট এবং সেইসাথে রাজনৈতিক আঙিনা। নানান ধরণের কমেন্টের বন্যা বয়ে গিয়েছে সেই পোস্টে। কেউ কেউ লিখেছেন, আমরা আপনার পাশে আছি দাদা, কেউ লিখেছেন জেলার অনেক করমিয়াপনার সাথে আছে, আপনি সঠিক উত্তর দিন, তো আবার কেউ জানতে চেয়েছেন এমন পোস্টের কারণ। কিন্তু গোটা বিষয় নিয়ে মুখে যেন কুলুপ এঁটেছেন গঙ্গা প্রসাদ শর্মা।  তবে গঙ্গা প্রসাদ যা করেছেন তা একা করেননি। দশরথ তিরকের বিজেপিতে যোগদানের পরই বিজেপি কর্মীদের মধ্যে ক্রোধের আগুন ক্রমশ মাথা চাড়া দিচ্ছে। তাঁদের অনেকেই বলছেন দশরথ তিরকের মত ‘লুটেরা’, অত্যাচারী তৃনমূল ছেড়ে বিজেপিতে চলে এলে বরং তৃনমূল করাটাই বুদ্ধিমানের কাজ হবে। বিজেপির এই কর্মীরাই গঙ্গাপ্রসাদের পোষ্টের জবাব দিতে গিয়ে বলেছেন,”দাদা ঠিকই করেছেন আপনি।”

দশরথ পদ্ম শিবিরে যোগ দিতেই আলিপুরদুয়ারে শুরু হয়ে গিয়েছিল বিক্ষোভ। দশরথ তিরকের বাসস্থান কুমারগ্রাম ব্লকে প্রথম বিক্ষোভ শুরু হয়। বিজেপি কর্মীরা দলীয় পতাকা হাতে আলিপুরদুয়ার জেলার কুমারগ্ৰাম ব্লকের কামাখ্যাগুড়িতে বিক্ষোভ দেখাতে শুরু করে। তাদের বক্তব্য, তৃণমূলের হার্মাদ দশরথ তিরকেকে কোনমতেই দলে নেওয়া যাবে না। দশরথ তিরকের দলে কোন ঠাঁই নেই । এদিন কামাখ্যাগুড়ি প্রধান সড়কে নেমে বিক্ষোভ দেখায় বিজেপি কর্মী সমর্থকরা। প্রচন্ড বিক্ষোভ তৈরি হয় আলিপুরদুয়ার জেলা বিজেপির সাধারণ সমর্থকদের মধ্যে। মঙ্গলবারই সন্ধ্যার আগে জেলার কামাখ্যাগুড়ি, বারোবিশা ও কুমারগ্রামে দশরথ তিরকের কুশপুতুল দাহ করেন বিজেপি কর্মীরা।

সোমবারই দুর্গাপুরে দিলীপ ঘোষের সভায় ‘কয়লা মাফিয়া রাজু ঝা’ কে দলে নেওয়া নিয়ে কথা কাটাকাটি, হাতাহাতি থেকে চেয়ার ছোঁড়াছুঁড়িতে জড়িয়ে পড়েন নব্য বনাম আদি বিজেপির কর্মীরা। কিন্তু সেটা ছিল কর্মী সমর্থকদের ব্যাপার। তার ২৪ঘন্টার মধ্যে একজন জেলা সভাপতির এই পোষ্ট বুঝিয়ে দিয়েছে আগুন অনেক ভেতরে লেগেছে।

উল্লেখ্য, এমন একটি শো’কজ লেটার বিজেপির অন্যতম নেতা তথা সাধারণ সম্পাদক সায়ন্তন বসুও পেয়েছেন। পাণ্ডবেশ্বরের তৃণমূল বিধায়ক জিতেন্দ্র তিওয়ারি তৃণমূল থেকে বিজেপিতে আসার প্রক্রিয়ার মাঝখানে বিবৃতি দিয়েছিলেন সায়ন্তন। আর তারপরই জিতেন্দ্র নিজের সিদ্ধান্ত বদলে তৃনমূলেই থেকে যান। সায়ন্তনের সেই মন্তব্য ভাল ভাবে নেয়নি রাজ্য যে কারনে গঙ্গা প্রাসাদের সাথে তাঁকেও শো-কজ করা হয়েছে।  আগুনের আশঙ্কা কী তবে খোদ হেড কোয়ার্টারেই?