শাসক দলের বিরুদ্ধে হুঙ্কার বিজেপি নেতাদের, পাল্টা কটাক্ষ সৌগতের

235
Advertisement

অশ্লেষা চৌধুরী: বঙ্গে বিধানসভা নির্বাচনের দিন ঘোষণা না হলেও, নির্বাচন ঘিরে ক্রমশই চড়ছে রাজনৈতিক পারদ। শাসক দল ও বিরোধী দলের নেতা-নেত্রীদের পাল্টা বাদ-বিবাদ যেন লেগেই রয়েছে। এদিন শাসক দলের বিরুদ্ধে যেন একসাথে গর্জে উঠলেন গেরুয়া শিবিরের দুই নেতা। রীতিমত হুমকির সুর তাদের গলায়। একজন তো আবার হাতে অস্ত্র তুলে দেওয়ার নিদান দিলেন। ওপর জনের হুমকি বাংলাকে তারা গুজরাট বানিয়েই ছাড়বেন। তবে তাদের এই কথার যোগ্য জবাব দিতে ছাড়েনি তৃণমূল নেতৃত্ব। সব মিলিয়ে ঘটনাকে কেন্দ্র করে তুঙ্গে রাজনৈতিক তরজা।

Advertisement

রবিবার উত্তর ২৪ পরগনার দত্তপুকুরে একটি গোশালায় গোপাষ্টমীর পুজো দিতে গিয়েছিলেন বঙ্গ বিজেপি সভাপতি দিলীপ ঘোষ। সেখান থেকেই তিনি হুঙ্কার দেন, ‘পশ্চিমবঙ্গকে গুজরাট বানাবো।’সেই সাথেই এই কথাও বলেন, কারও বাপের হিম্মত থাকলে এখন গুজরাটে দাঙ্গা করে দেখাক।

Advertisement
Advertisement

এদিন পুজো সেরে, বাংলাকে গুজরাট বানানোর জন্য সুর চড়ান তিনি। তিনি বলেন, ‘২০০২ সালের কথা ভুলে যান। তার পর জল অনেকদূর গড়িয়ে গিয়েছে। এখন কারও হিম্মত থাকলে গুজরাটে দাঙ্গা করে দেখাক।‘ গত ১০ বছরে কত দাঙ্গা হয়েছে পশ্চিমবঙ্গে? প্রশ্ন ছুঁড়ে দেন দিলীপ। এরপরেই জোর গলায় হুঙ্কার দেন, বাংলাকে গুজরাট বানাবোই, কারও হিম্মত থাকলে আটকে দেখাক।

অপরদিকে, রবিবার বিকেলে উত্তর ২৪ পরগনার বরানগর টবিন রোডে জগদ্ধাত্রী পুজোর উদ্বোধন আসেন বিজেপি নেতা রাজু বন্দ্যোপাধ্যায়। তার সঙ্গে ছিলেন বিজেপি নেত্রী অথা অভিনেত্রী কাঞ্চনা মৈত্র। এদিনের অতিথির সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে তরোয়াল দিয়ে সংবর্ধিত করা হয় রাজু বন্দ্যোপাধ্যায় এবং কাঞ্চনা মৈত্রকে। পরে সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে রাজু বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, ” তৃণমূলের নেতারা বোমা, পিস্তল, রিভলবার নিয়ে ঘুরে বেড়াচ্ছে। তারা কী ছড়াচ্ছে? আমি সকলকে বলব যে মানুষের ঘরে ঘরে গিয়ে বাঙালিদের হাতে অস্ত্র তুলে দিন। তৃণমূল নামে পশ্চিমবঙ্গে যে সন্ত্রাসবাদী দল প্রতিষ্ঠিত হয়েছে, এদের কে সরাতে গেলে হাতে অস্ত্র তুলে নিতে হবে। এনজিও অভিষেক বন্দ্যোপাধ্য়ায়ের দল যেভাবে মানুষকে খুন করছে, মাফিয়া নিয়ে ঘুরে বেড়াচ্ছে, তাদের বিরুদ্ধে লড়তে গেলে অস্ত্র লাগবে।”

শাসক দলের বিরুদ্ধে ক্ষোভ উগরে দিতে ছাড়েননি অভিনেত্রী তথা বিজেপি নেত্রী কাঞ্চনা। তিনি বলেন, ‘রাজ্যে করোনা ভাইরাস যেভাবে আক্রান্ত করেছে মানুষকে, তার থেকে বড় ভাইরাস হল তৃণমূল কংগ্রেস। করোনার প্রতিষেধক না আসলেও, তৃণমূলের প্রতিষেধক তৈরি হয়ে গিয়েছে, আর সেটা হল বিজেপি।‘

তবে রাজু বন্দ্যোপাধ্যায়ের মন্তব্যের পরিপ্রেক্ষিতে পাল্টা কটাক্ষ দমদমের তৃণমূল কংগ্রেস সাংসদ সৌগত রায়ের। তিনি বলেন “এটাই হল বিজেপির আসল রূপ। তারা চায় অস্ত্র হাতে তৃণমূলকে আক্রমণ করতে। পুলিশ আছে, প্রশাসন আছে আশা করি তারা পদক্ষেপ নেবে। ”

বিজেপি নেতাদের গলায় এহেন আক্রমনাত্মক সুর এই প্রথম শোনা গেল তা নয়, সম্প্রতি একাধিক জায়গায় ‘বাংলাকে গুজরাট বানাবো’ বলে মন্তব্য করেছেন বিজেপির রাজ্য সভাপতি। আর এর জন্য নানান সমালোচনার মুখেও পড়তে হয়েছে তাঁকে। কিন্তু তার পরেও নিজের বাণীতে অনড় দিলীপ। অপরদিকে বিজেপি নেতা রাজুর তৃণমূলের বিরুদ্ধে হাতে অস্ত্র তুলে নেওয়ার নিদান শুনে বেজায় চটেছে ঘাস-ফুল শিবির। শুরু হয়েছে নানান বিতর্ক।