Homeএখন খবরসবংয়ে বোমায় উড়ে গেল ময়নার বিজেপি কর্মীর দেহ! শুরু চাপান উতোর

সবংয়ে বোমায় উড়ে গেল ময়নার বিজেপি কর্মীর দেহ! শুরু চাপান উতোর

শশাঙ্ক প্রধান: এক তরুন বিজেপি কর্মীর বিস্ফোরনে মৃত্যুকে কেন্দ্র করে চাপান উতোর শুরু হয়েছে পশ্চিম মেদিনীপুরের সবং থানার মোহাড় গ্রাম পঞ্চায়েতের করনপল্লী এলাকা। শনিবার রাতে এখান থেকেই উদ্ধার হয়েছে ৩০বছর বয়সী বিজেপি কর্মী দীপক মন্ডলের ক্ষত বিক্ষত দেহ। দীপকের কোমরের নিচের অংশ বোমার আঘাতে ছিন্ন ভিন্ন হয়ে গেছে। দুটি পায়ের অধিকাংশ অংশ ঝলসে গেছে। দীপক ঘটনাস্থল থেকে মাত্র কয়েক কিলোমিটার দুরে পূর্ব মেদিনীপুর জেলার ময়না থানার বাকচা অঞ্চলের বাসিন্দা। ঘটনাক্রমে এই বাকচা এলাকা রাজনৈতিক সংঘর্ষের উপদ্রুত এলাকা।

অন্যদিকে সবংয়ের এই করোনাপল্লী এলাকাও যথেষ্ট উত্তেজনা প্রবন এলাকা যেখানে গত বিধানসভা নির্বাচনে তৃনমূল কর্মী জয়দেব জানার খুন বদলে দিয়েছে সবংয়ের রাজনৈতিক মানচিত্রকে। বিজেপির দাবি শনিবার করনপল্লী এলাকায় ঢালাই বল টুর্নামেন্ট চলছিল। দিন রাতের প্রতিযোগিতা ছিল এটি। যেখানে দুই জেলারই স্থানীয় দল গুলি খেলায় অংশ নিয়েছিল। সেই খেলাই দেখতে গিয়েছিল তাদের সক্রিয় কর্মী দীপক।

পূর্ব মেদিনীপুর তমলুক জেলার সাংগঠনিক সভাপতি নবারুণ নায়েক বলেন, ” কাছাকাছি দুটি এলাকা। দুটি জেলা কিন্তু লাগোয়া এলাকা বলে দুপাশেই বন্ধুত্ব আছে অনেকের। দীপক যে বন্ধুদের সাথে খেলা দেখতে এসেছিল খেলা শেষ হওয়ার পর সেই বন্ধুদের এগিয়ে যেতে বলে এপাশের বন্ধুদের সাথে থেকে গিয়েছিল কিছুক্ষণ। সেই সময় তৃণমূল দুষ্কৃতিদের একটি মোটর সাইকেল বাহিনী তাঁকে ঘিরে ফেলে। আগে থেকেই দীপককে হুমকি দিত এই দুষ্কৃতিরা। সুযোগ পেয়ে বোমা মেরে খুন করে তাকে।”

নবারুনের অভিযোগ সবংয়ের মোহাড় পঞ্চায়েত প্রধান প্রসাদ অধিকারী ও তৃণমূল নেতা লালু ভূঁইয়া, সুশান্ত মাল ও আশুতোষ দাস এর নেতৃত্বেই এই হামলা। ঘটনার পর ছুটে আসে ময়না ও সবং উভয় থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছয়। রাতেই দেহ উদ্ধার করে সবং থানার পুলিশ সবং গ্রামীন হাসপাতালে নিয়ে আসে। তৃণমূলের স্থানীয় নেতাদের দাবি দীপকের কোমরে গামছায় বোমা বাঁধা ছিল। বোমা নিয়ে এসেছিল সে কোনোও এক উদ্দেশ্যে। পড়ে গিয়ে সেটাই ফেটে যায়। যদিও তৃণমূলের সবং ব্লক সভাপতি অমল পণ্ডা সরাসরি কাউকে অভিযুক্ত না করে বলেছেন, “আমি বিষয়টি সম্পর্কে কিছুই জানিনা। পুলিশ তদন্ত করে দেখুক।”

পুলিশ মৃতদেহ ময়নাতদন্ত করতে পাঠিয়েছে। পুলিশ ঘটনাস্থল খতিয়ে দেখছে। বিষয়টি নিয়ে কতগুলি জট সামনে আসছে। প্রথমত: কেউ বোমা মারলে বেছে বেছে নিচের অংশে মারল কেন? দ্বিতীয়: যদি দীপক কোমরে গামছায় বোমা বেঁধে নিয়ে যায় তাহলে সে একা থেকে গেল কেন? তৃতীয়ত: দীপক থেকে গেল কেন? স্থানীয় একটি সূত্র বলছে এ পাশের কিছু বন্ধুদের সঙ্গে মদ্যপানের জন্য থেকে গিয়েছিল। তারপরই ঘটনাটি ঘটে। বিজেপির বক্তব্য কোমরের নীচে গামছায় বোমা বেঁধে ফাটিয়ে দেওয়া হয়েছে। পুলিশ অবশ্য সমস্ত দিক খতিয়ে দেখছে। ময়নাতদন্তের রিপোর্টের ওপর অনেক কিছুই নির্ভর করছে বলে জানা গেছে।

RELATED ARTICLES

Most Popular