শীতে উষ্ণতা বিলোতে ধুনুচ নিয়ে হাজির লেপ আর তোষক ওয়ালারা

293
শীতে উষ্ণতা বিলোতে ধুনুচ নিয়ে হাজির লেপ আর তোষক ওয়ালারা 1

পলাশ খাঁ, গোয়ালতোড় :- গুটি গুটি পায়ে শীতের আগমন ঘটলেও এখনো গ্রাম বাঙলাতে সে ভাবে ধনুকিদের ধনুকের টুংটাং শব্দ আর বাতাসে টুকরো তুলো উড়ে বেড়ানোর ছবি সেভাবে চোখে পড়েনি৷ কিন্তু পুরোপুরি শীত খুব একটা না থাকলেও শীতের আভাস ভালভাবে টের পাওয়া যাচ্ছে। তারই প্রস্তুতি হিসেবে পশ্চিম মেদিনীপুর জুড়ে পসরা সাজিয়ে বসেছেন লেপ তৈরির কারিগরেরা । কিন্তু পসরা সাজালেও এখনো যেন তাদের ব্যস্ততা শুরু হয়েছে হয়নি৷

বেশ কিছুদিন থেকে শেষ রাতে ও খুব সকাল পর্যন্ত শীত অনুভূত হচ্ছে। আর এই অনুভূতিকেই কাজে লাগিয়ে বিভিন্ন বাড়িতে বা পাড়ায় পাড়ায় প্রস্তুতি নিচ্ছে লেপ-তোশক বের করা সহ সেটি মেরামত বা নতুন করে তৈরির প্রস্তুতি। কেউ বা বাক্সবন্দি করে রাখা লেপ-তোষক বের করছেন ঠিক করার জন্য। গোয়ালতোড়ের বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা গেছে কারিগররা তৈরি করছেন লেপ-তোষক। কারিগরদের টুংটাং আওয়াজ আর বাতাসে উড়ে বেড়ানো তুলা জানিয়ে দিচ্ছে শীত এসে গেছে। তবে এবার করোনার কারনে বিগত বছর গুলোর মতো ব্যস্ততা নেই।

শীতে উষ্ণতা বিলোতে ধুনুচ নিয়ে হাজির লেপ আর তোষক ওয়ালারা 2

জেলার বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বাজার গুলিতে বিক্রি ও তৈরিতে কাটছে ব্যস্ত সময়। এক কারিগর জানান, সপ্তাহ আগেও তেমন কাজকর্ম ছিল না। গত এক সপ্তাহ ধরে ভোরের হালকা কুয়াশায় শীতের আমেজ একটু বিরাজ করছে। এতেই লেপ তৈরির অডার্র টুকটাক শুরু হয়েছে।
দীর্ঘ প্রায় এক পঞ্চাশ বছর ধরে এই ব্যাবস্যায় যুক্ত গোয়ালতোড়ের এক লেপ কারিগর মীর মান্নান আলী। তিনি কেশপুর থেকে গোয়ালতোড়ে এসে এই ব্যাবস্যা শুরু করেন বাবার হাত ধরে। তিনি বলেন, ‘এখন কেবল শীতের একটু প্রবাহ শুরু। গত বছর এই সময় রাত-দিন এক করে সমান তালেই কাজ করেছি৷ কিন্তু করোনার কারনে এবার যে আমাদের এই ব্যাবসাতেও ভাটা পড়েছে৷ বতর্মানে পুরনো লেপ ভেঙে নতুনভাবে তৈরির অডার্রই বেশি পাওয়া যাচ্ছে। সেই সঙ্গে গামের্ন্টসের তুলা দিয়ে তৈরি লেপও বিক্রি হচ্ছে। তবে তা সংখ্যায় কম৷

বাইরে থেকে আসা লেপ-তোশক তৈরির কারিগরেরা (ধুনক) ব্যস্ত হয়ে পড়েছেন পুরোদমেই। ধুনক মন্টু চৌধুরী জানান, ‘ করোনার কারনে এবার তো ব্যাবসা লাটে উঠেছে৷ গত এক দু সপ্তাহ কোনো বায়না পায়নি। এখন যদিও বা বায়না আসছে তা নিতান্তই হাতে গোনা৷ জানিনা এবার সেভাবে বায়না আসবে কিনা৷ তার উপর তুলো, কাপড় আর মজুরীর দাম বৃদ্ধি পাওয়ার জন্য মানুষ লেপের পরিবর্তে রেড়িমেড তোষক কিনে নিচ্ছে৷ আমার কাছে প্রতিটি লেপ দেড় হাজার থেকে দুই হাজার টাকা পর্যন্ত পাঁচ কেজি তুলা দিয়ে বানিয়ে বিক্রি করছি।’ আরেক কারিগর জানান, ‘আমরা শীত পড়লেও এবার সেভাবে লেপ তোষকের অর্ডার নেই। কিন্তু আমরা অগ্রিম কিছু লেপ-তোশক বানিয়ে রাখছি। সাধারণত অনেক ক্রেতা রেডিমেট ভাবে এসব ক্রয় করে থাকেন।’

মান্নান বাবু জানান, করোনার কারনে এবার তুলার ও কাপড়ের দামে আগুন লেগেছে। তার উপর অর্ডার দিলেও সময় মতো কাপড় তুলো পাওয়া যাচ্ছে না। ফলে বড় লেপের দাম গত বছরের চেয়ে প্রায় ৫০০ টাকা বেশী লাগছে আর সিঙ্গেল লেপে বেড়েছে প্রায় ২৫০ টাকার মতো। পাশাপাশি কারিগরদের মজুরিও এবার একটু বেশি বেড়েছে। কিন্তু ব্ল্যাঙ্ককেট বেরিয়ে যাওয়ার কারনে এখন অনেকেই তা কিনে নিচ্ছে। ফলে কিছুটা হলেও তাদের ব্যাবসায় ক্ষতির মুখোমুখি হতে হচ্ছে। আজ থেকে দশ বছর আগে যেহারে লেপ বানানোর কাজ হতো এখন অতোটা অর্ডার আর হয় না।