মেদিনীপুরে উদ্ধার যুবকের রক্তাক্ত মৃতদেহ! ডেকে এনে খুন? খতিয়ে দেখছে পুলিশ

141
Advertisement

নিজস্ব সংবাদদাতা: এক অজ্ঞাত পরিচয় যুবকের রক্তাক্ত মৃতদেহ উদ্ধারকে ঘিরে চাঞ্চল্য ছড়ালো মেদিনীপুর শহর লাগোয়া এলাহিগঞ্জে। প্রাথমিকভাবে পুলিশের মনে হয়েছে ওই যুবক এলাকার বাসিন্দা নয়। তাকে অন্য কোথাও থেকে এনে খুন করা হয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দারা জানিয়েছেন মেদিনীপুর শহর লাগোয়া ধর্মা থেকে কেশপুরগামী রাজ্য সড়কের ওপর এলাহিগঞ্জে যে উঁচু সেতু রয়েছে সেই সেতু থেকে কিছুটা দুরে নিচু জমির মধ্যে পড়েছিল যুবকের মাথা থেঁতলানো মৃতদেহটি। শনিবার সকালে দৈনন্দিন কৃষিকাজে যাওয়ার সময় যা স্থানীয় বাসিন্দারা দেখতে পান। তাঁদের মারফৎই পুলিশ খবর পেয়ে গিয়ে মৃতদেহটি উদ্ধার করে।

Advertisement

পুলিশ জানিয়েছে, আশেপাশের গ্রাম ও স্থানীয় এলাকায় সন্ধান করে এখনও অবধি জানা যাচ্ছে যে যুবক স্থানীয় বাসিন্দা নন। সম্ভবতঃ তাঁকে অন্য জায়গা থেকে এখানে ডেকে আনা হয়েছিল অথবা খুনি বা খুনিরাই তাঁকে নিয়ে আসে এখানে তারপর কোনও অজুহাতে তাঁকে রাস্তা থেকে নিচে নামিয়ে নিয়ে যাওয়া হয় এবং বড় পাথর দিয়ে তাঁর মাথা থেঁতলে দেওয়া হয়। পুলিশ এদিন মৃতদেহের পাশ থেকেই প্রমান মাপের একটি রক্তাক্ত ভারি পাথরও উদ্ধার করেছে। ওই জায়গায় প্রচুর পরিমানে রক্ত পড়ে থাকতে দেখা গিয়েছে।

Advertisement
Advertisement

পুলিশ এখনও অবধি ময়নাতদন্তের রিপোর্টের জন্য অপেক্ষা করছে কারন সেটা পাওয়ার পরই অনেকগুলি বিষয় পরিষ্কার হয়ে যাবে। তবে কয়েকটি সূত্র থেকে পুলিশ মনে করছে এটি একটি ঠান্ডা মাথার খুন। প্রাথমিক ভাবে মনে করা হচ্ছে যুবকটিকে মাদক জাতীয় কোনও কিছু খাওয়ানোর পর খুন করা হয়েছে। এক পুলিশ আধিকারিকের বক্তব্য, “যে প্রমান মাপের পাথর দিয়ে ওই ব্যক্তিকে খুন করা হয়েছে তার ওজন কুড়ি কিলোর ওপরে। একজন ব্যক্তি দাঁড়িয়ে থাকা অবস্থায় খুনির পক্ষে ওই পাথর দিয়ে তার মাথা থেঁতলে দেওয়া সম্ভব নয়। এক্ষেত্রে নিহত ব্যক্তিকে মাটিতে ফেলেই পাথর দিয়ে মারা হয়েছে এবং যতদূর সম্ভব তাঁকে অচেতন বা অর্ধ অচেতন করেই এই কাজটি করা হয়েছে।”

পুলিশের আরও অনুমান খুনি বা খুনিরা খুনের জায়গাটি সম্পর্কে ভালো ভাবে অবহিত। দেখা যাচ্ছে ওখানে আগে থেকেই কয়েকটি প্রমান মাপের পাথর পড়েছিল। রাস্তা থেকে বেশকিছুটা দুরে এই নির্জন জায়গা বেছে নেওয়া হয়েছিল। যা থেকে বোঝা যাচ্ছে যে খুনের সঙ্গে জড়িত অন্ততঃ একজন ব্যক্তি এই জায়গাটা ভালভাবে জানে এবং সে স্থানীয় হওয়ার সম্ভবনাই বেশি। এক্ষেত্রে ময়নাতদন্তের রিপোর্ট থেকে খুনের সময় জানতে পারলে ওই সময় এই এলাকায় কোন কোন মোবাইল ফোন সক্রিয় ছিল তা থেকে খুনিদের সম্পর্কে কিছুটা আলো পেতে পারে অবশ্য যদি খুনি বা খুনিদের কেউ মোবাইল ফোন ব্যবহার করে থাকে।

পুলিশের আরও অনুমান পুরানো শত্রুতার জেরেই ওই ব্যক্তিকে এই এলাকায় আনা হয়েছিল। হতে পারে বকেয়া টাকা মিটিয়ে দেওয়া কিংবা অন্য কোনোও প্রলোভন দেখিয়ে। তারপর তাঁকে মাদক খাইয়ে অথবা মদ খাওয়ার অছিলায় ওই নির্জন জায়গায় নিয়ে যাওয়া হয়। তারপর এই খুন করা হয়। “এখন প্রযুক্তি খুবই উন্নত ফলে এধরনের খুন করে পার পেয়ে যাওয়াটা প্রায় অসম্ভবই। আমরা খুবই আশাবাদী যে এই খুনের কিনারা করতে পারব। আপাতত খুন হওয়া যুবকের পরিচয় জানাটা আবশ্যিক আর তারজন্য ইতিমধ্যেই আশেপাশের থানা গুলিতে খোঁজ খবর নেওয়া হচ্ছে। কোথাও কোনও মিসিং ডায়রি হয়েছে বা হচ্ছে কিনা। আর ময়নাতদন্তের রিপোর্ট হাতে পেলেই এই খুনের মামলার গতি ঘুরে যাবে।” জানালেন ওই পুলিশ আধিকারিক।