স্বামীর সঙ্গে ঘনিষ্ট মুহুর্তের ভিডিওগ্রাফি করছেন নিজের মা! ব্লু-ফিল্মের হাত কত লম্বা? চাকরির খোঁজে গিয়ে বর্ধমানের তরুণীর নির্মম অভিজ্ঞতা

2720
Advertisement

অশ্লেষা চৌধুরী: পড়াশোনা করে নিজের পায়ে দাঁড়াতে চান সকলেই। একটা চাকরির আশায় হন্যে হয়ে ঘুরে বেরাতে হয়, কেউ কেউ আবার ঘুষ দিয়ে হলেও পেতে চান একটা চাকরি। চাকরি পাওয়ার আশায় সব কিছু করতে প্রস্তুত যে কেউ। কিন্তু এই চাকরি পাওয়ার আশাই যে কাল হয়ে দাঁড়াবে, তা হয়তো ভাবতেও পারেননি এই তরুণী।
চাকরি পাওয়ার আশায় সেনা অফিসারকে বিয়ে করেছিলেন তিনি। ওই তরুণী বর্ধমান শহরের বিধানপল্লির বাসিন্দা। তবে সেনা অফিসার ভেবে যাকে বিয়ে করেছিলেন তিনি আসলে নিজের আসল পরিচয় গোপন করেন।

Advertisement

পরে চাকরি তো দুরস্ত, উল্টে সেনা অফিসারের পরিচয় দেওয়া ওই যুবকের সাথে বিয়ে করে, বৈবাহিক সম্পর্ক স্থাপন করে বেশ কয়েকবার সন্তান সম্ভবা হয়ে পড়েন তরুণী। এমনকি তাঁকে জোর করে গর্ভপাত করানো হয় বলেও অভিযোগ করেন তিনি। তাঁদের সহবাসের ছবি সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে দেওয়ার হমকিও দিয়েছে ওই যুবক। এখানেই শেষ নয়, তরুণীর পরের অভিযোগ আরও সাংঘাতিক, টাকার লোভে ওই যুবকের সাথে হাত মিলিয়েছিলেন তার জন্মদাত্রীও। সাহস জুগিয়ে অবশেষে পুলিশের দ্বারস্ত হয়েছেন তিনি। লিখিত অভিযোগও দায়ের করেছেন।

Advertisement
Advertisement

তরুণী জানিয়েছেন, চার বছর আগে তাঁর বাবা ও মায়ের বিচ্ছেদ হয়ে যায়। তিনি একমাত্র সন্তান। তার পর থেকে চাকরির জন্য হন্যে হয়ে ঘুরছিলেন তিনি। সেই সময় তাঁর সঙ্গে বর্ধমান শহরের ইছলাবাদ ও খণ্ডঘোষ থানার গোলাহাটের দু’জনের পরিচয় হয়। গোলাহাটের বাসিন্দা নিজেকে সেনাবাহিনীর অফিসার এবং ইছলাবাদের বাসিন্দা নিজেকে স্কুল সার্ভিস কমিশনের সেক্রেটারি বলে পরিচয় দেয়। তাদের সঙ্গে সুসম্পর্ক রাখলে ভাল সরকারি চাকরি পাইয়ে দেওয়ার আশ্বাস দেয় তারা দুজনেই।

জানা গিয়েছে, এরপর তরুণীকে চাকরির নাম করে বেশ কয়েকবার বর্ধমান শহরের কয়েকটি রেস্তোরাঁয় ডেকে পাঠায় তারা। সেখানে আরও কয়েকজন হাজির হত। তারাও নিজেদের উচ্চপদস্থ অফিসার বলে পরিচয় দিত। কিছুদিন পর তাঁর কাছ থেকে শিক্ষাগত যোগ্যতার শংসাপত্র, পাসপোর্ট মাপের ছবি ও ৪৮ হাজার টাকা নেয় তারা। তাঁকে কয়েকটি সাদা স্ট্যাম্প পেপারে সই করিয়ে নেওয়া হয়। চাকরির প্রয়োজনেই এসব করা হচ্ছে বলে জানানো হয় তাঁকে।

সূত্রের খবর, এর মধ্যেই নিজেকে সেনা অফিসার পরিচয় দেওয়া যুবক তরুণীকে বিয়ের প্রস্তাবও দিয়ে বসে। তরুণীর মা বিয়েতে রাজি থাকায় গত বছরের জুন মাসে দু’জনের বিয়ে হয়। তবে বিয়ের অনুষ্ঠানের কোনও ছবি নাকি তুলতে দেওয়া হয়নি। কারণ হিসেবে যুবক জানায় সেনা অফিসার হওয়ায় প্রকাশ্যে বিয়ে বা কোনও সামাজিক অনুষ্ঠানে যোগ দিতে সে পারে না। তাই এই ব্যবস্থা।
তরুণী জানিয়েছেন, বিয়ের পর একটি লালবাতি লাগানো গাড়িতে করে তরুণীকে গোলাহাটের বাড়ীতে নিয়ে যায় ওই যুবক। কিছুদিন পর তাঁকে বর্ধমান শহরে বিজয়নগর এলাকার একটি ভাড়া বাড়ীতে নিয়ে আসে সে। কিছুদিনের মধ্যেই তাঁর চাকরি হয়ে যাবে বলে জানায়। স্বামীর সঙ্গে কিছুদিন কাটানোর পর তার আসল রূপ জানতে পারেন তরুণী। পুরো চক্রটি যে একটি প্রতারক তা নিশ্চিত হন তিনি।

তরুণী পুলিশকে জানিয়েছেন, বেশ কয়েকবার তাঁকে জোর করে গর্ভপাত করানো হয়। এমনকি বন্ধুদের সঙ্গে আপত্তিজনক কাজ করার জন্য তাঁকে চাপ দেওয়া হয়। তাতে রাজি না হওয়ায় তরুণীকে মারধর করা হয়। এমনকি আগ্নেয়াস্ত্র দেখিয়ে তাঁকে ভয় দেখানো হয় বলেও অভিযোগ। শ্বশুরবাড়ীতে কয়েকবার শ্বশুরও তরুণীর শ্লীলতাহানি করেছে বলে অভিযোগ করেছেন তিনি। বিষয়টি তরুণী তাঁর মাকে জানান। কিন্তু উল্টে মা তাঁকে স্বামীর যাবতীয় আবদার মেনে নেওয়ার কথা বলেন।

তরুণীর অভিযোগ, একদিন তিনি দেখেন সহবাসের ভিডিও জানালা দিয়ে রেকর্ডিং করছেন তাঁরই মা। তরুণী কারণ জানতে চাওয়ায় মা তাঁকে জানান, প্রত্যেকটি রেকর্ডিংয়ের জন্য তাকে ১,২০০ টাকা দেওয়া হয়। খোঁজখবর নিয়ে তরুণী জানতে পেরেছেন তাঁর স্বামী বিবাহিতএবং তানর ছেলেও রয়েছে। স্বামীর বিরুদ্ধে নাকি একটি মামলাও রয়েছে। এসব নিয়ে প্রশ্ন করা হলে অশ্লীল ভিডিও সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে দেওয়ার হুমকি দেওয়া হয়। যদিও তাতে দমে জাননি যুবতী। তাই শেষ পর্যন্ত তাঁকে কিছুদিন আগে মারধর করে তাড়িয়ে দেওয়া হয়। তারপরেই থানায় অভিযোগ করেন তিনি।

অভিযোগের ভিত্তিতে মামলা রুজু করেছে বর্ধমান থানার পুলিশ। তদন্ত শুরু করেছে তারা। যদিও এই ঘটনায় এখনও পর্যন্ত কেউ গ্রেফতার হয়নি বলেই খবর। থানার এক অফিসার জানিয়েছেন, অভিযোগ পেয়ে নির্দিষ্ট ধারায় কেস রুজু করে তদন্ত শুরু হয়েছে। ম্যাজিস্ট্রেটের কাছে তরুণীর গোপন জবানবন্দি নথিভুক্ত করা হয়েছে।
তবে, এই তরুণীর অদম্য সাহসীই তাঁকে একটু দেরিতে হলেও ভয়ঙ্কর এই জাল ছিঁড়ে বেরিয়ে আসতে সাহায্য করেছে।