বেসরকারি স্কুলগুলির বকেয়া ফি মেটাতে অবিভাবকদের সময়সীমা বেঁধে দিল কলকাতা হাইকোর্ট

282
বেসরকারি স্কুলগুলির বকেয়া ফি মেটাতে অবিভাবকদের সময়সীমা বেঁধে দিল কলকাতা হাইকোর্ট 1

ওয়েব ডেস্ক : বেসরকারি স্কুলগুলিতে লাগামছাড়া ফি বৃদ্ধির প্রতিবাদে রাজ্যের বিভিন্নপ্রান্তে অবিভাবকরা প্রতিদিনই রাস্তায় নেমে বিক্ষোভ দেখাচ্ছেন। এই নিয়ে অবিভাবক ফোরামের তরফে হাইকোর্টেও মামলা দায়ের করা হয়েছে৷ এই মাঝেই কলকাতা হাইকোর্টের তরফে জানিয়ে দেওয়া হল, আগামী ১৫ আগস্টের মধ্যেই বেসরকারি স্কুলগুলিতে অভিভাবকদের বকেয়া ফি-র ৮০ % মিটিয়ে দিতে হবে। এ নিয়ে পূর্ববর্তী নির্দেশই বহাল রাখল কলকাতা হাইকোর্ট। একইসাথে আদালতের তরফে জানিয়ে দেওয়া হয়েছে যে, এই মামলার কোনও নথি ফেসবুকের মত সোশ্যাল মিডিয়ায় দেওয়া যাবে না।

সোমবার অভিভাবক ফোরামের পক্ষ থেকে মামলাকারী বিনিত রুইয়া হয়ে সওয়াল করতে গিয়ে তার আইনজীবী হাইকোর্টের কাছে বকেয়া ফি মিটিয়ে দেওয়ার সময়সীমা বৃদ্ধির আবেদন জানান। কিন্তু এদিন আইনজীবীর সেই আবেদনে সায় দেয়নি বিচারপতি সঞ্জীব বন্দোপাধ্যায় ও বিচারপতি মৌসুমী ভট্টাচার্যের ডিভিশন বেঞ্চ। এদিন বেঞ্চ এর তরফে জানানো হয়েছে, ১৫ আগস্টের মধ্যেই বকেয়া ফি-র ৮০% মিটিয়ে দিতে হবে। তবে আদালতের তরফে স্পষ্ট জানানো হয়েছে, বকেয়া ফি মেটানোর সময়সীমার মধ্যে কোনও ছাত্র ছাত্রীকে অনলাইন ক্লাস ও পরীক্ষা থেকে বঞ্চিত করা যাবে না।

বেসরকারি স্কুলগুলির বকেয়া ফি মেটাতে অবিভাবকদের সময়সীমা বেঁধে দিল কলকাতা হাইকোর্ট 2

বেসরকারি স্কুলগুলির তরফে টিউশন ফি ছাড়াও অন্য বিভিন্ন সুযোগ সুবিধার নামে পড়ুয়াদের কাছ থেকে মোটা অংকের টাকা নেওয়া হয়। তাই করোনা পরিস্থিতিতে যাতে সেই বাড়তি টাকা নেওয়া বন্ধ হয়, এমনই দাবি জানিয়ে কলকাতা হাইকোর্টের দ্বারস্থ হয়েছিলেন প্রায় ১৫ হাজার অবিভাবক। প্রাথমিকভাবে কল্যাণ ভারতী ট্রাস্ট, অশোকা হল স্কুল গোষ্ঠী, অ্যাডামাস ইন্টারন্যাশনাল এবং বিড়লা স্কুলের বিরুদ্ধে এই জনস্বার্থ মামলাটি দায়ের করা হয়। পরবর্তীতে মোট ১১২টি স্কুলকে এই মামলায় যুক্ত করতে নির্দেশ দিয়েছিল আদালত। তবে এবিষয়ে রাজ্য সরকারের তরফে আদালতে জানান হয়েছিল, এবিষয়ে ইতিমধ্যেই যাবতীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। করোনা পরিস্থিতি চলাকালীন বেসরকারি স্কুলগুলির লাগামছাড়া ফি বৃদ্ধির বিষয়টিতে সাবধান করে একাধিক বিজ্ঞপ্তি জারি করা হয়েছে। বিজ্ঞপ্তিতে সরকারের তরফে এই পরিস্থিতির মধ্যে বেসরকারি স্কুল গুলিকে লাগামছাড়া ফি বৃদ্ধিতে রাশ টানতে ও ফি ছাড় দেওয়ার ব্যাপারে অনুরোধ জানানো হয়েছে।