ক্রমশই দৃঢ় হচ্ছে করোনার রক্তচক্ষু; বাতিল ছুটিও, পুলিশ স্টেশনেই গায়ে হলুদের অনুষ্ঠান কনস্টেবল ‘আশা’র 

282
ক্রমশই দৃঢ় হচ্ছে করোনার রক্তচক্ষু; বাতিল ছুটিও, পুলিশ স্টেশনেই গায়ে হলুদের অনুষ্ঠান কনস্টেবল ‘আশা’র  1

নিউজ ডেস্ক: এই কোভিড আবহে যে সবার ছুটিই বাতিল। বিয়ের জন্য আগের থেকেই ছুটি নেওয়া থাকলেও সেটা আর শেষপর্যন্ত হয়ে ওঠেনি ৷ তাই গায়ে হলুদ পর্ব সারা হল পুলিশ স্টেশনের মধ্যেই ৷ রাজস্থানের দুঙ্গারপুর কোতোয়ালিতে ঠিক এমন দৃশ্যই দেখা গেল সম্প্রতি।

ক্রমশই দৃঢ় হচ্ছে করোনার রক্তচক্ষু; বাতিল ছুটিও, পুলিশ স্টেশনেই গায়ে হলুদের অনুষ্ঠান কনস্টেবল ‘আশা’র  2

দেশজুড়ে করোনা পরিস্থিতি ভয়াবহ রূপ নিয়েছে। প্রতিদিনই আক্রান্তের সংখ্যা আগের দিনের রেকর্ড ছাপিয়ে নতুন রেকর্ড গড়ছে। আর এমন ভয়াবহ পরিস্থিতিতে চিকিৎসক, হাসপাতালকর্মী, পুলিশকর্মীদের মতো কোভিড যোদ্ধাদের এই সময় ছুটি বাতিল হয়েছে। ডিউটির সময় আর এই পরিস্থিতিতে বাধাধরা নেই বলা চলে।

ক্রমশই দৃঢ় হচ্ছে করোনার রক্তচক্ষু; বাতিল ছুটিও, পুলিশ স্টেশনেই গায়ে হলুদের অনুষ্ঠান কনস্টেবল ‘আশা’র  3

জানা গিয়েছে, পুলিশ কনস্টেবল আশার বিয়ে ঠিক হয়েছিল গত বছর মে মাসে ৷ তারপর সেটা পিছিয়ে দেওয়া হয় এই লকডাউনের কারণে ৷ বিয়ের তারিখ ঠিক হয় ২০২১-এর ৩০ এপ্রিল ৷ কিন্তু ফের একবার একই পরিস্থিতি মাথা চাড়া দিয়ে উঠছে দেশে ৷ কিন্তু এইবার আর বিয়ে পিছিয়ে দিতে রাজি ছিলেন না আশা এবং তাঁর পরিবার ৷ তাই ছুটি বাতিল হওয়ার পরেও আশার গায়ে হলুদের অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয় পুলিশ স্টেশনের মধ্যেই ৷ অন্যান্য পুলিশকর্মীরাই তাঁকে এই কাজে সাহায্য করেন। কিছু নিয়মনীতি পালন করলেন সহকর্মীরা। ৷ একজন মহিলা পুলিশ কনস্টেবলের বিয়ের গায়ে হলুদ পর্বের আয়োজন করা হয়েছিল পুলিশ স্টেশনের মধ্যেই কারণ আর কোনও উপায় নেই ৷

অতিমারী করোনা ভারতে থাবা বসানোর পর ২০২০-র ৫ মার্চ থেকে দেশজুড়ে লকডাউন শুরু হয়। ২৪ মার্চ লকডাউনের আগে পর্যন্ত দেশে মোট করোনা আক্রান্তের সংখ্যা ছিল ৫১২। ১৪ এপ্রিল পর্যন্ত ২১ দিনের প্রথম দফার লকডাউনে সারাদেশে আক্রান্ত ছিলেন ১০,৮৭৭ জন। দ্বিতীয় দফার লকডাউনে ১৯ দিনে গোটা দেশে আক্রান্ত হয়েছিলেন ৩১,০৯৪ জন। এরপর ১৭ মে পর্যন্ত তৃতীয় দফার লকডাউনে সারা দেশে করোনা আক্রান্ত হয় ৫০ হাজারের বেশি মানুষ। এই পরিস্থিতিতে কেন্দ্রীয় সরকার ১৮ মে থেকে ৩১ মে মধ্যরাত পর্যন্ত চতুর্থ দফার লকডাউন ঘোষণা করে। এই পর্যায়ে করোনা আক্রান্ত হন সবচেয়ে বেশি ৮৭ হাজারেরও বেশি মানুষ। আর এই দফাতেই সবচেয়ে বেশি পরিযায়ী শ্রমিকরা ঘরে ফিরেছেন। পরিযায়ীদের ঘরে ফেরার সেই করুণ দৃশ্য এখনও দেশবাসী ভুলতে পারেননি।

তবে,একুশের শুরুর দিকে ভাইরাসের প্রভাব কিছুটা কমতে শুরু করলেও আবারও সে তেজ দেখাতে শুরু করে দিয়েছে। প্রতিদিন ৩ লক্ষের ওপরে মানুষ আক্রান্ত হচ্ছেন বেশ কয়েকদিন ধরে। পরিস্থিতি মোকাবেলায় সব রকম ব্যবস্থা কেন্দ্র ও বিভিন্ন রাজ্য সরকারগুলো নিয়েছে। একই সঙ্গে বাতিল করা হয়েছে করোনা যোদ্ধাদের ছুটিও। কিন্তু জীবন যে থেমে থাকে না। আর সেইসঙ্গেই থেমে থাকে ব্যক্তিগত জীবনের অত্যন্ত প্রয়োজনীয় কিছু চাহিদা। তাই এবারে আর কোন বাধা মেনে নিতে নারাজ আশা ও তার পরিবার-পরিজনেরা। সেইজন্যই কাজের মাঝে থানা ভেতরেই বিয়ের নিয়ম-কানুন সেরে নিচ্ছেন আশা, সহকর্মীদের সহায়তায়।

Previous articleদিল্লীতে মিটছে না অক্সিজেনের অভাব, ফের শ্বাস নিতে না পেরে মৃত ২৮ জন করোনা রোগী, অক্সিজেন ঘাটতি পাঞ্জাবেও, মৃত ৬
Next articleকমিশনের নির্দেশকে বুড়ো আঙুল দেখিয়েই মিঠুনের সভায় উপচে পড়ল ভিড়, এফআইআরের নির্দেশ জেলাশাসকের