৩০শে জানুয়ারিকে সারা দেশের অবশ্য পালনীয় শহিদ দিবস হিসেবে ঘোষনা করল কেন্দ্র সরকার! আপনার সন্তান কী জানে ভারতের ৬টি শহিদ দিবস কোন কোন দিন

430
৩০শে জানুয়ারিকে সারা দেশের অবশ্য পালনীয় শহিদ দিবস হিসেবে ঘোষনা করল কেন্দ্র সরকার! আপনার সন্তান কী জানে ভারতের ৬টি শহিদ দিবস কোন কোন দিন 1

নিজস্ব সংবাদদাতা: এবার থেকে জানুয়ারি ৩০ তারিখ দিনটিকে শহিদদের স্মরণে পালন করা হবে বলে কেন্দ্রের তরফে জানানো হয়েছে। এদিন ২ মিনিটের জন্য বন্ধ সমস্ত কাজ বন্ধ করে নীরবতা পালন করতে হবে। এই মর্মে সমস্ত রাজ্যের কাছে নির্দেশিকা পাঠিয়েছে কেন্দ্র।কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের তরফে ওই নির্দেশিকা পাঠানো হয়েছে। সেখানে বলা হয়েছে, ৩০ জানুয়ারি দিনটি ‘শহিদ দিবস’ হিসেবে পালন করা হবে। সেই উপলক্ষে ওইদিন সকাল ১০টা ৫৯ থেকে ১১টা পর্যন্ত ১ মিনিট পর্যন্ত দেশজুড়ে বিভিন্ন জায়গায় বাজাবে সাইরেন।

বেলা ১১টা থেকে ২ মিনিট নীরবতা পালন করতে হবে। নির্দেশিকায় স্পষ্ট বলা হয়েছে যে যেখানেই থাকুক, সাইরেন শুনতে পেলেই সমস্ত কাজ ফেলে উঠে দাঁড়াতে হবে। তারপর ২ মিনিট হবে নীরবতা পালন। নীরবতা পালনের পর ফের বাজবে সাইরেন। যেখানে সাইরেন বাজানোর মতো পরিকাঠামো নেই সেখানে সংশ্লিষ্ট প্রশাসনকে সক্রিয় হতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। সেখানে ২ মিনিট নীরবতা পালন যে অবশ্যই হয়, তা দেখবে স্থানীয় প্রশাসন। এই নিয়ে প্রশাসনকে প্রয়োজনীয় নির্দেশ দিতে বলা হয়েছে।

৩০শে জানুয়ারিকে সারা দেশের অবশ্য পালনীয় শহিদ দিবস হিসেবে ঘোষনা করল কেন্দ্র সরকার! আপনার সন্তান কী জানে ভারতের ৬টি শহিদ দিবস কোন কোন দিন 2

এমনিতেই ১৯৪৮ সালের ৩০শে জানুয়ারি জাতীয় শহিদ দিবস হিসেবে গণ্য করা হয়। ওইদিন আততায়ী নাথুরাম গডসের হাতে নিহত হয়েছিলেন মোহনদাস করমচাঁদ গান্ধি। এই দিন ভারতের রাষ্ট্রপতি, উপরাষ্ট্রপতি,প্রধানমন্ত্রী, পররাষ্ট্রমন্ত্রী এবং ভারতের স্থল,জল ও বায়ুসেনা বিভাগের তিন প্রধান। রাজঘাটে মহাত্মার সমাধিস্থলে উপস্থিত থাকেন। বহু বর্ন রঞ্জিত ফুলে সাজানো হয় সমাধিস্থল। সশস্ত্রবাহিনী বিউগল বাজিয়ে শ্রদ্ধা জানায় । দেশের অভ্যন্তরীণ বাহিনী অস্ত্র নামিয়ে শ্রদ্ধা প্রদর্শন করে। দেশের শহীদদের উদ্দ্যেশ্যে ২মিনিটের নীরবতা পালন করা হয় ঠিক ১১টার সময়। এবার থেকে সমস্ত সংস্থাকেই এটি আবশ্যিক পালনীয় বলে ঘোষণা করা হল।

৩০শে জানুয়ারি ছাড়াও ভারতে আরও ৫টি শহিদ দিবস পালন করা হয়। যেমন ২৩শে মার্চ। ১৯৩১ সালে এই দিনটিতে ইংরেজ শাসিত ভারতের লাহোর জেলে ফাঁসি হয়েছিল তিন বীর বিপ্লবী ভগৎ সিং, সুখদেব থাপর এবং শিবরাম রাজগুরুর। এরপর ১৯শে মে। ১৯৬১ সালের এই দিনটিতে বাংলা ভাষার জন্য প্রাণ দিয়েছিলেন ১৫জন। তৎকালীন অসম সরকার আসামি ভাষাকেই একমাত্র সরকারি ভাষা বলে ঘোষণা করলে গর্জে ওঠেন বরাক উপত্যকার সিলেটি বাঙালিরা। এই আন্দোলনে প্রাণ গিয়েছে বহু মানুষের কিন্তু বড় ঘটনাটি ঘটে ১৯শে মে শিলচর রেল স্টেশনে। বিক্ষোভরত বাংলা ভাষাভাষি জনতার ওপর পুলিশ গুলি চালালে ১৫জন নিহত হন। ওইদিনটি বর্তমানে ভাষা শহিদ দিবস পালিত হয়।

২১শে অক্টোবর আরও একটি শহিদ দিবস। এই দিনটি পুলিশ শহিদ দিবস হিসাবেই মূলত পালিত হয়। ১৯৫৯ সালে লাদেখের ইন্দো-তিব্বত সীমায় প্রহরারত কেন্দ্রীয় সংরক্ষিত পুলিশ বাহিনী বা CRPF য়ের একটি দল নিহত হন চিনা সৈন্যদের হাতে। ওই সময় চীন-ভারত সীমান্ত সমস্যা চলছিল। CRPF শ্রদ্ধার সঙ্গে দিনটি স্মরণ করে।
ওড়িশা সরকার ১৭ই নভেম্বর দিনটিকে শহীদ দিবস হিসেবে পালন করে থাকেন। ১৯২৮ সালে এই দিনে মৃত্যু হয় পাঞ্জাব কেশরী লালা লাজপত রায়ের। কুখ্যাত সাইমন কমিশন বিরোধী আন্দোলনে ব্রিটিশ পুলিশের বর্বরোচিত আক্রমণে আহত লালার মৃত্যু হয় এই দিনটিতে।

১৯শে নভেম্বর দেশের অপর একটি শহিদ দিবস পালন করে থাকে মহারাষ্ট্র। এই দিনটি পালিত হয় ঝাঁসির রানী লক্ষীবাঈকে স্মরণ। ১৯২৮ সালের এই দিনটিতেই জন্মগ্রহন করেন এই বীরাঙ্গনা। ১৯৫৭সালে সিপাহী বিদ্রোহের যে সমস্ত সেনা ও নেতৃত্ব প্রাণ দিয়েছিলেন তাঁদের উদ্দেশ্যেই উৎসর্গ করা হয়েছে দিনটিকে।