Homeএখন খবরপশ্চিম মেদিনীপুরে তৃনমূল কর্মীরা ভাঙচুর করল কেন্দ্রীয় মন্ত্রী, বিজেপি নেতা আর পুলিশের...

পশ্চিম মেদিনীপুরে তৃনমূল কর্মীরা ভাঙচুর করল কেন্দ্রীয় মন্ত্রী, বিজেপি নেতা আর পুলিশের গাড়ি ! ইট আর চেলা কাঠ দিয়ে মারা হল সাংবাদিকদের, প্রাণ ভয়ে পালাতে দেখা গেল পুলিশ কর্মীকে, গ্রেপ্তার ৮

Advertisement

তান্ডবচিত্র

নিজস্ব সংবাদদাতা: নির্বাচনের ফল ঘোষণার পর রাজ্যের বিভিন্ন জায়গায় তান্ডব চলার অভিযোগ আসছে। আর যার যেখানে জোর বেশি সেই সেখানে তান্ডব চালাচ্ছে এমনটাই অভিযোগ। দক্ষিণে যখন একের পর এক অভিযোগ উঠেছে তৃনমূলের বিরুদ্ধে উত্তরে তখন অভিযোগ ঘুরে যাচ্ছে বিজেপির দিকে। মাঝখানে সর্বনাশের মধ্যে পড়েছেন সাধারণ দলীয় সমর্থক থেকে আম আদমি। জীবন আর সম্পত্তি নাশ হচ্ছে তাঁদের। এরই মধ্যে এক অন্য ছবি পশ্চিম মেদিনীপুর জেলায় যেখানে তৃনমূল সমর্থকদের হামলার মুখে পড়লেন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী থেকে বিজেপি নেতার কনভয়। ভাঙচুর করা হল পুলিশের কনভয়ও। উন্মত্ত তান্ডবের মুখে পালাতেও দেখা গেল এক পুলিশ কর্মীকে কিন্তু দিনের শেষে বেধড়ক মার খেয়ে আহত হলেন সাংবাদিকরা।
জেলার মেদিনীপুর সদর ব্লকের পাঁচখুরি এলাকায় ঘটনাটি ঘটেছে বেলা ১টা নাগাদ যখন ওই এলাকায় আক্রান্ত বিজেপি কর্মীদের ঘরবাড়ি দেখে ফিরছিলেন কেন্দ্রীয় প্রতিমন্ত্রী ভি মুরলিধরন ও রাজ্য বিজেপির নেতা রাহুল সিনহা সহ কয়েকজন বিজেপি নেতা। জানা গেছে ওই সময় তৃনমূলের একটি দলীয় অফিসের সামনেই উন্মত্ত তৃনমূল কর্মী সমর্থকরা ঘিরে ধরে মন্ত্রীর গাড়ির কনভয়।

পালাচ্ছেন পুলিশ কর্মী

গাড়িগুলিকে ঘিরে চলে নির্বিচার ইট বর্ষণ। পার্টি অফিসের সামনেই আগে থেকে পড়ে থাকা বড় বড় কাঠ দিয়ে মারা হতে থাকে গাড়ি গুলিতে। মন্ত্রী এবং সঙ্গে থাকা পুলিশের পাইলট কারের গাড়ির কাঁচ গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়। গাড়ির পেছনের কাঁচ ভাঙা অংশ দিয়ে লম্বা কাট ঢুকিয়ে গাড়ির ভেতরে থাকা মন্ত্রীকে মারার চেষ্টা করা হয় বলেও অভিযোগ।

কুড়ি পঁচিশজনের এই পুরুষ মহিলাদের সামাল দিতে পারেননি কনভয়ে থাকা গোটা কয়েক পুলিশ কর্মী। মৌখিক আবেদন জানিয়ে ব্যর্থ হয়ে ইট বর্ষনের মুখে রনেভঙ্গ দিয়ে তখন য পলয়তি স জীবতি। ছুটে পালাতে দেখা যায় পুলিশ কর্মীকে। কোনোও রকমে গাড়ি নিয়ে পালিয়ে বাঁচে মন্ত্রী,নেতা ও পুলিশের গাড়ি। তৃনমূল কর্মীদের সেই তান্ডবের ছবি ক্যামেরাবন্দী করে মন্ত্রী ছড়িয়ে দেন ট্যুইটার মারফৎ। মন্ত্রী লেখেন, তৃনমূল গুন্ডারা আমার কনভয় আক্রমন করেছে। গাড়ির কাঁচ ভেঙে দিয়েছে। আমার ব্যক্তিগত কর্মী আক্রান্ত। আমি আমরা কর্মসূচি কাটছাঁট করছি।’ ট্যুইট আর রি-ট্যুইট চলছে হাজার হাজার। ইতিমধ্যে ৫লক্ষ মানুষ দেখে ফেলেছেন সেই ভিডিওটি।

ওদিকে ঘটনার ছবি ও ভিডিও করছিলেন সঙ্গে থাকা সাংবাদিকরা। তাঁরা পালাবেন কোথায় চেলা কাঠ দিয়ে তাঁদের ওপর আক্রমণ শুরু হয়। মাথায়, ঘাড়ে, পায়ে বেধড়ক মারা হয়। আহত হন তিনজন সাংবাদিক, ক্যামেরাম্যান। এরমধ্যে রিপাবলিক টিভির সুদীপ্ত দাস ও ক্যামেরাম্যান মৃন্ময় চক্রবর্তী ওরফে ঝন্টু এবং সিএন প্রতিনিধি অভিষেক চক্রবর্তী আক্রান্ত হন। ঝন্টুর পায়ে এবং সুদীপ্ত, অভিষেকের মাথায় ও ঘাড়ে আঘাত লাগে। মেদিনীপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয় এঁদের। স্ক্যান করার পর সুদীপ্তর মাথায় কল্ড দেখা গিয়েছে বলে খবর।

এদিকে ঘটনার পরই ডেবরা আর সবং পরিদর্শনের পরিকল্পনা ত্যাগ করে মুরলীধরন ও রাহুল সিনহা কলকাতায় ফিরে যান। ঘটনার খবর পেয়েই তৎপর হয়ে উঠে পুলিশ। এক বিশাল বাহিনী ঘিরে ফেলে পাঁচখুরির ওই এলাকা। রাত অবধি ৮জনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। বাকিদের খোঁজে জোর তল্লাশি চলছে এলাকায়। ৩ পুলিশ কর্মীর বিরুদ্ধে বিভাগীয় তদন্ত শুরু হয়েছে বলে জানিয়েছেন জেলার পুলিশসুপার। তৃনমূলের জেলা সভাপতি তথা সদ্য নির্বাচিত পিংলার বিধায়ক অজিত মাইতি বলেন, ‘তেমন কোনোও বড় গন্ডগোল হয়নি ওখানে। শান্ত পশ্চিম মেদিনীপুরকে অশান্ত করার উদ্দেশ্যে ওখানে প্ররোচনা চড়াচ্ছিল বিজেপির নেতারা তাই এরকম ঘটনা ঘটে গেছে যদিও আমাদের কেউ এসবের সাথে জড়িত নয়।”

Advertisement

Advertisement

RELATED ARTICLES

Most Popular