বহুবছর পর নির্বাচনী লড়াইয়ের ময়দানে রাজ্য রাজনীতির চাণক্য; প্রার্থী তালিকায় ফের চমক পদ্ম শিবিরের

422
বহুবছর পর নির্বাচনী লড়াইয়ের ময়দানে রাজ্য রাজনীতির চাণক্য; প্রার্থী তালিকায় ফের চমক পদ্ম শিবিরের 1

অশ্লেষা চৌধুরী: এর আগের প্রার্থী তালিকায় শিল্পী পাড়ায় ঝড় তুলতে মন্ত্রী বাবুলকে দাঁড় করিয়েছিল গেরুয়া শিবির। এবারে পোড়া মাটির পুতুলের শহরে রাজ্য রাজনীতির চাণক্য মুকুলকে দাঁড় করিয়ে বড়সড় চমক দিল গেরুয়া শিবিব। যেমনটা আগেই ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছিল যে বৃহস্পতিবারেই বাকি কেন্দ্রগুলিতে প্রার্থীর নাম ঘোষণা করবে পদ্ম শিবির। সেই মতই এদিন ঘোষণা হল প্রার্থীদের নাম। এদিনের প্রার্থী তালিকাও দিল্লি থেকে ঘোষণা করা হয় এবং একই ভাবে মুকুল রায় সহ একাধিক চমক রেখেই প্রার্থী তালিকা প্রকাশ হয়। কৃষ্ণনগরের উত্তর কেন্দ্র থেকে প্রার্থী নির্বাচিত হলেন মুকুল রায়।

বহুবছর পর নির্বাচনী লড়াইয়ের ময়দানে রাজ্য রাজনীতির চাণক্য; প্রার্থী তালিকায় ফের চমক পদ্ম শিবিরের 2

মুকুল রায় ছাড়াও শিলিগুড়িতে শঙ্কর ঘোষ, হাবড়ায় রাহুল সিনহা, ভবানীপুরে রুদ্রনীল ঘোষ, বিজপুরে মুকুল পুত্র শুভ্রাংশু রায়, রাজারহাট-গোপালপুরে শমীক ভট্টাচার্য, খড়দায় শীলভদ্র দত্ত, ফাঁসিদেওয়ার বিজেপি প্রার্থী হিসেবে দুর্গা মুর্মুর নাম ঘোষণা করা হল। এই আসনটি তপশিলি উপজাতিদের জন্য সংরক্ষিত। নাগরাকাটায় বিজেপি প্রার্থী হিসেবে পুণা ভেঙ্গরার নাম ঘোষণা করা হল। আসনটিও তপশিলি উপজাতিদের জন্য সংরক্ষিত। মাল কেন্দ্রে বিজেপি প্রার্থী হিসেবে মহেশ বাগের নাম ঘোষণা করা হল। এই আসনটি তপশিলি উপজাতিদের জন্য সংরক্ষিত। জলপাইগুড়িতে বিজেপি প্রার্থী আইনজীবী সুজিৎ সিংহ। এই আসনটি তপশিলি জাতির জন্য সংরক্ষিত। চৌরঙ্গীতে বিজেপি প্রার্থী হিসেবে প্রয়াত প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি সোমেন মিত্রর স্ত্রী শিখা মিত্র চৌধুরী, পাণ্ডবেশ্বরে বিজেপি প্রার্থী আসানসোল পুরসভার প্রাক্তন মেয়র জিতেন্দ্র তিওয়ারি।

বহুবছর পর নির্বাচনী লড়াইয়ের ময়দানে রাজ্য রাজনীতির চাণক্য; প্রার্থী তালিকায় ফের চমক পদ্ম শিবিরের 3

এর আগে গত রবিবার তৃতীয় ও চতুর্থ দফায় প্রার্থী তালিকা ঘোষণা করার পর থেকেই প্রকাশ্যে আসতে শুরু করেছে বিজেপির আদি-নব্যের লড়াই। প্রার্থী পছন্দ না হওয়ায় কোথাও ভাঙচুর, কোথাও আবার দল ছাড়ার প্রবণতা লক্ষ্য করা যায়। কিন্তু সিঙ্গুর নিয়ে খোদ বিজেপির দপ্তর হেস্টিংসে যা হয়ে গেল তাতে বোঝা গেল আগুনের উত্তাপ থামার লক্ষণ নেই। সোমবার হেস্টিংসে বিজেপি কার্যালয়ের সামনে তুমুল বিক্ষোভ দেখাতে শুরু করেন বিজেপি কর্মী সমর্থকরা।

এদিকে বিক্ষোভের পাশাপাশি লক্ষণীয় ভাবে ভিড় কমতে শুরু করে বিজেপির সভায়, যা নজর এড়ায়নি অমিত শাহের। সেদিন বাঁকুড়ার রানিবাঁধের সভা করে উড়ে গিয়েছিলেন অসমে৷ কিন্তু বিক্ষোভ সামলাতে ফের সোমবার রাতেই ফের গুয়াহাটি থেকে কলকাতায় ফিরে রাজ্য বিজেপি-র কোর কমিটির বৈঠকে যোগ দেন অমিত শাহ। কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর পাশাপাশি রাতেই কলকাতায় চলে আসেন বিজেপি সভাপতি জে পি নাড্ডাও। নিউ টাউনের একটি পাঁচতাঁরা হোটেলে শুরু হয় উচ্চ পর্যায়ের বৈঠক। বঙ্গ বিজেপির নেতারাই সেখানে উপস্থিত হন। কীভাবে কর্মীদের ক্ষোভ-বিক্ষোভ সামাল দেওয়া যায় তা নিয়েই মূলত আলোচনা হয়। কেন এমন ঘটনা হল সে নিয়ে রীতিমত ধমক জুটেছিল মুকুল ও দিলীপের কপালে। এরপরেই তাদের দিল্লী ডেকে পাঠান কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী। তখন থেকেই জানা যাচ্ছিল মুকুল দাঁড়াতে চলেছেন কৃষ্ণনগর থেকে, অমিত শাহ তেমনটাই চাইছিলেন বলেও খবর। অবশেষে সেই মতই রায় বাবুকে।

বিজেপির এদিনে প্রার্থী তালিকা প্রকাশ তো হল, তবে গতবারের ন্যায় এবারেও বিক্ষোভের আঁচ ছড়ায় না কী শান্তির পরিবেশ বজায় থাকে, সেটাই দেখার।

Previous articleলোকসভায় তৃণমূল হাফ, বিধানসভায় পুরো সাফ; পুরুলিয়ার জনসভায় বললেন মোদি
Next articleপ্রার্থী তালিকা ঘোষনার পরেই বিক্ষোভের ঢেউ জলপাইগুড়ির বিজেপিতে, দলীয় কার্যালয় ভাঙচুর করল কর্মীরাই