হলদিয়ার পর মেদিনীপুর, জঙ্গলে উদ্ধার মহিলার নগ্ন দগ্ধ দেহ, ক্ষত বিক্ষত যৌনাঙ্গ, ধর্ষনের পর খুন করে পোড়ানোর চেষ্টা বলেই অনুমান

646

নিজস্ব সংবাদদাতা : হলদিয়ার হুগলি নদির চরে মা মেয়ের দগ্ধ দেহ ঝড় তুলেছে রাজ্য রাজনীতিতে। গ্রেপ্তারের পর মূল অভিযুক্তর শাসক যোগ স্পষ্ট হওয়ায় বিতর্ক অন্যমাত্রা পেয়েছে আর তারই মধ্যে পাশের জেলা পশ্চিম মেদিনীপুরের সদর ব্লকের অধীন একটি ঘনজঙ্গল থেকে উদ্ধার হল মহিলার নগ্ন দেহ যাকে হলদিয়ার কায়দাতেই পেট্রোল ঢেলে পুড়িয়ে প্রমান লোপাটের চেষ্টা হয়েছে বলেই মনে হচ্ছে পুলিশের। শুক্রবার এই দেহটি উদ্ধার হয়েছে মেদিনীপুর শহর থেকে ১৬কিলোমিটার দুরে ডুমুরকোটা হেতিয়াশোলের জঙ্গল থেকে । এলাকাটি গুড়গুড়িপাল থানার অন্তর্গত।

 

স্থানীয় পঞ্চায়েত সদস্য করুনা মাহাত জানান, সাধারনত হাতির ভয়ে আমরা এখন জঙ্গল এড়িয়ে চলি। তাই জায়গাটা বর্তমানে বেশ নির্জন । গতকাল জঙ্গলে কিছু আদিবাসী মানুষ শিকারের উদ্দেশ্যে প্রবেশ করেছিল , তাঁরাই প্রথম এই মৃতদেহ দেখেন এবং স্থানীয় বেলিয়া গ্রামে খবর দেন। সেই মারফৎ আমরা খবর পাই এবং পুলিশকে রাতে জানাই। এরপরই আজ সকালে গিয়ে, পুলিশ মৃতদেহ উদ্ধার করে।

আরও পড়ুন -  এবার আশংকা হচ্ছে করোনা নিয়েই ঘরে ফিরছি, শ্রমিক স্পেশালের অভিজ্ঞতা জানালেন খড়গপুরের হিজলীতে নামা যাত্রী

 

  1. পুলিশের প্রাথমিক অন্য কোথাও খুন করে মৃতদেহ এখানে নিয়ে এসে তরল দাহ্য ঢেলে পোড়ানোর চেষ্টা হয়েছে। আশেপাশের শুকনো পাতায় আগুন লেগে থাকায় তেমনটাই মনে করা হচ্ছে। প্রাথমিক ভাবে আশেপাশের থানা এলাকায় কোনও নিখোঁজ হয়ে যাওয়া মহিলার সন্ধানে আভিযোগ দায়ের হয়নি তাই মনে করা হচ্ছে মহিলা অন্য জায়গার। তবে যে ভাবে এখানে মৃতদেহ বয়ে আনা হয়েছে তাতে মনে হচ্ছে এলাকাটি খুনিদের পরিচিত। যাতায়াতের রাস্তা সম্পর্কে তারা ওয়াকিবহাল। মৃতদেহটি যেভাবে পচে গেছে তাতে অনুমান করা হচ্ছে অন্ততঃ ৪৮ঘন্টা আগে এই ঘটনা ঘটেছে। এমনভাবে মৃতদেহ পোড়ানোর চেষ্টা হয়েছে যে মহিলাকে চেনার প্রাথমিক ভাবে কোনও উপায় নেই।
আরও পড়ুন -  মেয়ের ডাকে দিল্লি থেকে ৯দিন সাইকেল চালিয়ে কাঁথির শ্বশুরবাড়িতে , তবুও জুটল না জামাই আদর, প্রতিবেশীদের তাড়ায় ঠাঁই কোয়ারেন্টাইন সেন্টারে

 

স্থানীয় এক গ্রামবাসী মহিলা রাইমনি টুডু বলেন, ‘মহিলার যৌনাঙ্গ এতটাই ক্ষতি করে দেওয়া হয়েছে যে পচনের পর সেখান থেকে নাড়িভুঁড়ি বেরিয়ে এসেছে আর এতেই আমাদের মনে হচ্ছে নারকীয় অত্যাচারের পরই খুন করা হয়েছে তাঁকে। সে যেই হোক এই খুনি বা খুনিদের খুঁজে বের করে চরম শাস্তি দেওয়া উচিৎ।” পুলিশ যদিও এখনও ধর্ষনের বিষয়ে নিশ্চিত করে কিছুই বলেনি। ময়নাতদন্তের পরই বিষয়টা নিশ্চিত হবে বলেই পুলিশ জানিয়েছে। আশেপাশের জেলার থানা গুলিতেও খোঁজ নিচ্ছে পুলিশ কোথাও কোনও মহিলা নিখোঁজের খবর আছে কিনা। ঘটনা স্থল থেকে একটি প্ল্যাস্টিক বোতল সহ বেশ কিছু নমুনা উদ্ধার করা হয়েছে।