Homeসাহিত্যজীর্ণ মন্দিরের জার্নালজীর্ণ মন্দিরের জার্নাল - ২৮ ॥ চিন্ময় দাশ

জীর্ণ মন্দিরের জার্নাল – ২৮ ॥ চিন্ময় দাশ

জীর্ণ মন্দিরের জার্নাল– ২৮

                                চিন্ময় দাশ

রাধাকান্ত মন্দির, মোহাটি (খেজুরী)
মেদিনীপুর জেলার সর্ব দক্ষিণের একটি পরগণা হোল হিজলী। পর্তুগিজ জলদস্যুদের দমনের জন্য সম্রাট শাজাহান বঙ্গ-উপসাগরের কুল বরাবর যে কটি ফৌজদারী প্রতিষ্ঠা করেছিলেন, হিজলী তার অন্যতম।  হিজলীতে জনৈক তাজ খাঁ ‘ মসনদ-ই-আলা ‘র জমিদারী ছিল। নবাবী আমলে, সারা জেলায় তিনিই ছিলেন একমাত্র মুসলমান জমিদার।

(adsbygoogle = window.adsbygoogle || []).push({});
তাজ খাঁ-র বংশ পতনের পর, জমিদারিটি জলামুঠা, মাজনামুঠা এবং সুজামুঠা– ৩টি পরগণায় ভাগ হয়ে বিভিন্ন হাতে চলে যায়। জলামুঠা পরগণায় জনৈক কৃষ্ণ পণ্ডা জমিদারী প্রতিষ্ঠা করেছিলেন। রাজধানী ছিল এগরা থানার গড় বাসুদেবপুর।

বাসুদেবপুর রাজার অধীনে একজন পত্তনীদার ছিলেন জনৈক হৃদয়রাম বেরা। প্রবাদ আছে– নিজের জীবদ্দশায় ” ছ’ বুড়ি দেউল ন’ বুড়ি পুস্করিণী ” প্রতিষ্ঠা করেছিলেন হৃদয়রাম। হৃদয়রামের প্রতিষ্ঠিত শ্রেষ্ঠ মন্দির হল তাঁর নিজের গ্রাম জুখিয়ার রাধাগোবিন্দ মন্দির। শোনা যায়, মন্দির প্রতিষ্ঠার দিন বাসুদেবপুরের জমিদার এসেছিলেন আমন্ত্রিত হয়ে। পালকি থেকে নামার পর, জমিদার বাবুর প্রতি পদক্ষেপে একটি করে মোহর পেতে দিয়েছিলেন হৃদয়রাম।

(adsbygoogle = window.adsbygoogle || []).push({});
মোহাটি গ্রামের এই মন্দিরও হৃদয়রামের হাতে প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল। অষ্টাদশ শতকের শেষ দিকের সময়কাল তখন।
রাধাকান্ত জীউর এই মন্দির আকারে বড় নয় তেমন। তবে, টেরাকোটা অলংকরণের গৌরবে গরীয়ান। ইটের তৈরী আট-চালা রীতির পূর্বমুখী মন্দির। বিশাল ব্যাপ্ত এক প্রাঙ্গনের ভিতর মন্দিরটি প্রতিষ্ঠিত। বেশ উঁচু পাদপীঠ। মন্দিরের চার দিক জুড়ে প্রদক্ষিণপথ।

বেশ বড় আকারের মন্দির–  দৈর্ঘ্য ২৭ ফুট, প্রস্থ ২৩ ফুট এবং উচ্চতা ৫০ ফুটের কম নয়।
সামনের অলিন্দে খিলান রীতির তিনটি দ্বারপথ। থামগুলি ইমারতি রীতির, খিলান দরুন রীতির। গর্ভগৃহের একটিই দ্বারপথ।
অতি জীর্ণ অবস্থা মন্দিরের। জমিদারি উচ্ছেদের পর, এর পতনের সূচনা। দেবতা বেরা পরিবারে ফিরিয়ে নেওয়া হয়েছে। পরিত্যক্ত হয়ে, অবহেলায় অনাদরে ভারী করুন দশা সৌধটির। কিন্তু টেরাকোটা ফলকে মোড়া এমন দেবালয় কাঁথি মহকুমায়  আর একটিও নাই।

(adsbygoogle = window.adsbygoogle || []).push({});
পাঁচটি প্যানেলে রয়েছে ফলকগুলি। তিনটি খিলানের মাথায় তিনটি প্যানেল। কার্নিশের তলায় দুটি সারি এবং দুই কোনাচের গা বরাবর দুটি খাড়া সারি। এগুলি সবই সামনের দেওয়ালে। ফলকের মোটিফ মুখ্যত রামায়ণ কাহিনী।

(adsbygoogle = window.adsbygoogle || []).push({});
বাকি তিনটি দেওয়ালে আছে কিছু জ্যামিতিক নকশা, আর চক্র আছে বেশ কয়েকটি। 
রোদ. বৃষ্টি আর নোন বাতাসে একেবারে জরাজীর্ণ দশা এই মন্দিরের। ফলকগুলির সিংহভাগ খসে পরে গিয়েছে। যা টিকে আছে এখনও, তার অধিকাংশই নোন ধরা ক্ষয়ে যাওয়া।
সকলের গোচরেই ধ্বংস হয়ে যাচ্ছে সারা মহকুমার গৌরবচিহ্নটি। সুরক্ষা বা সংস্কারের উদ্যোগ নাই কোনও তরফেই।

সমীক্ষা-সঙ্গী : সুদর্শন সেন, আঞ্চলিক ইতিহাস গবেষক– খেজুরী।
যাওয়া-আসা : হাওড়া-দীঘা রেলপথের হেঁড়িয়া স্টেশন। কিংবা হাওড়া-দীঘা বাস পথের হেঁড়িয়া স্টপেজ। সেখান থেকে দক্ষিণ-পশ্চিমে কিমি তিনেক দূরে মোহাটি গ্রাম। নিয়মিত টোটো চলাচল করে। মন্দির পর্যন্ত ভালো রাস্তা আছে। প্রচ্ছদ-রামকৃষ্ণ দাস

RELATED ARTICLES

Most Popular