শেষ হল ২দিন ব্যাপী বালি-জগাছায় দু’দিনের প্রাণীসম্পদ বিকাশ মেলা

428
শেষ হল ২দিন ব্যাপী বালি-জগাছায় দু'দিনের প্রাণীসম্পদ বিকাশ মেলা 1

নিজস্ব সংবাদদাতা: শুরু হয়েছিল প্রবল উদ্দীপনা নিয়ে আর শেষ হল গভীর প্রত্যাশা নিয়ে, প্রত্যাশা, প্রাণী পালন করে স্বনির্ভর হয়ে ওঠার। বৃহস্পতিবার সেই প্রত্যাশা নিয়েই শেষ হল বালি-জগাছা ব্লকে নিশ্চিন্দা গ্রাম পঞ্চায়েতের জয়পুর পঞ্চাননতলা স্কুল মাঠে দুইদিনব্যাপী প্রাণীসম্পদ বিকাশ মেলা ২১। বুধবার শুরু হয়েছিল মেলা। প্রদীপ প্রজ্জ্বলনের মাধ্যমে মেলার শুভ সূচনা করেছিলেন হাওড়া জিলা পরিষদের মৎস্য ও প্রাণী সম্পদ বিকাশ স্থায়ী সমিতির কর্মাধ্যক্ষ শ্রী বিকাশ দে মহাশয়। শুরুর দিনেই ২১৬ জন নির্বাচিত উপভোক্তাকে দশটি করে মুরগির বাচ্চা বিতরণ করা হয়।

প্রাণী সম্পদ বিকাশ বিভাগের স্টলে উন্নত প্রযুক্তিকে সাথে করে প্রাণী পালন বিষয়ক পোস্টার প্রদর্শনী ও লিফলেট বিলি করা হয় প্রাণী পালকদের সচেতন করার উদ্দেশ্য নিয়ে। বুধবারের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে পঞ্চায়েত সমিতির সহকারী সভাপতি শ্রী তাপস আইন সহ কর্মাধ্যক্ষ শ্রী রমেন মান্না, শ্রীমতী লীনা সাঁতরা, মিঠু গাঙ্গুলী, কাকলি বিশ্বাস, তনুশ্রী চ্যাটার্জী ও অন্যন্য সদস্য, জিলা পরিষদের সদস্য ও গ্রাম পঞ্চায়েতের প্রধান ও অন্যান্য সদস্যগন উপস্থিত ছিলেন। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানটিকে সুচারু ভাবে সঞ্চালনা করেন সমাজসেবী শ্রী তাপস মাইতি।

শেষ হল ২দিন ব্যাপী বালি-জগাছায় দু'দিনের প্রাণীসম্পদ বিকাশ মেলা 2

উদ্বোধক শ্রী বিকাশ দে তাঁর বক্তৃতায় উল্লেখ করেণ মাননীয়া মুখ্যমন্ত্রী সরকারে যোগ দেওয়ার পর বিভিন্ন মেলার আয়োজনের উদ্যোগ নেন, মেলায় সাধারণ জনগণ মিলিত হয়। তাদের বিভিন্ন মতের আদান-প্রদান ঘটে। মেলায় বিভিন্ন সরকারি দপ্তর জনগণের জ্ঞাতার্থে কি কি সরকারি সুযোগ সুবিধা সহজে কিভাবে পাওয়া যায় তা সাবলীলভাবে আলোকপাত করে লিফলেট, ব্যানার, পোস্টার ও আলোচনা চক্রের মাধ্যমে। গ্রামীন অর্থনৈতিক উন্নয়নে প্রাণীসম্পদের বিকাশে সাফল্য আনতে উপভোক্তাদের উন্নত মানের বকনা, ছাগল, হাঁস ও মুরগীর বাচ্চা বিতরণ করা চলছে। চিকিৎসা দোরগোড়ায় পৌঁছাতে চালু করা হয়েছে মোবাইল ভেটেনারি ক্লিনিক। বালি-জগাছা ব্লকে প্রাণীসম্পদ বিকাশ বিভাগ বিভিন্নরকম পরিষেবা প্রদান করছেন।

প্রাণী সম্পদ বিকাশ বিভাগের আধিকারিক ডাঃ দেবজ্যোতি ঘোষ জানান আজ পর্যন্ত ৩৯৬ জন উপভোক্তাকে ১০ টি করে মুরগি বাচ্চা দেওয়া হয়েছে। বর্তমান অর্থবর্ষে ব্লকে মোট ১৫৮৯ জন উপভোক্তাকে মুরগির বাচ্চা ও ৫০ জন উপভোক্তাকে হাঁস বাচ্চা দেওয়া হবে। এগারোটি সেল্ফ হেল্প গ্রুপকে ২১ টি করে ছাগল দেওয়া হয়েছে। ব্লকের বিভিন্ন প্রান্তে প্রাণী স্বাস্থ্য, টীকাকরণ ও সচেতনতা শিবির চলছে।
প্রাণী চিকিৎসা আধিকারিক ডাঃ সুব্রত সানকি ও ডাঃ রেশমী ঘোষ উন্নত উপায়ে প্রাণীপালনের বিভিন্ন বিষয় উপস্থাপন করেন। প্রাণীপালন বিষয়ক স্পট ক্যুইজে উদ্দীপনার সাথে সকলকে অংশ নিতে দেখা যায়।

বৃহস্পতিবার শেষ দিনের মেলার শুরুতে বন্ধ্যাত্ব দূরীকরণ শিবির ও ‘কৃত্রিম গো প্রজনন ও আধুনিক বিজ্ঞানসম্মত উপায়ে প্রাণীপালন’ বিষয়ক আলোচনা চক্র অনুষ্ঠিত হল। এদিনের বিশেষ আকর্ষণ ছিল থাকছে সংকর গাভী, বকনা, বাংলার কালো ছাগল, RIR মুরগি, খাঁকি ক্যাম্পবেল হাঁস প্রতিযোগিতা। ছাত্রছাত্রীদের জন্য প্রাণীসম্পদ বিষয়ক বসে আঁকো প্রতিযোগিতা। ছিল স্পট ক্যুইজের আয়োজন। সংস্কৃতি প্রেমী স্থানীয় শিল্পীদের নিয়ে একটি মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের মধ্যে দিয়েই শেষ হল মেলার।

Previous article৩১ জানুয়ারি অমিত শাহের হাতেই তৃণমুলের অবসান! বললেন অর্জুন, বড় ফাটলের ইঙ্গিত মুকুল, শুভেন্দুর
Next articleডেবরার লোয়াদায় হাজারো ভক্ত সমাগমে বৈষ্ণব মঠের উদ্বোধন