রাজ্যে ৮০ জন আক্রান্ত! কেন্দ্রের তথ্য মানছেনা রাজ্য, আক্রান্তের সংখ্যায় গরমিল ১৯,মৃত সেই ৩

164
রাজ্যে ৮০ জন আক্রান্ত! কেন্দ্রের তথ্য মানছেনা রাজ্য, আক্রান্তের সংখ্যায় গরমিল ১৯,মৃত সেই ৩ 1

নিজস্ব সংবাদদাতা:রাজ্যে করোনা আক্রান্তের সংখ্যা নিয়েও বিবাদ কেন্দ্রের সঙ্গে। সোমবার বিকেলে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সাংবাদিক বৈঠক করে জানালেন রাজ্যে এই মুহূর্তে করোনা আক্রান্তের সংখ্যা ৬১। কিন্তু ওই একই সময়ে কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্য মন্ত্রক জানাচ্ছে পশ্চিমবঙ্গে আক্রান্তর সংখ্যা ৮০। অর্থাৎ ১৯ জনের গরমিল যা রীতিমত বিভ্রান্তি ছড়িয়েছে। এদিনও মূখ্যমন্ত্রী জানিয়েছেন এখনও পর্যন্ত মারা গিয়েছেন তিন জন। অর্থাৎ দু’দিন আগে রাজ্যেরই গঠিত তিন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের দেওয়া ৭ জনের মৃত্যু শেষ অবধি স্বীকার করলনা রাজ্য।
কেন্দ্রের এই ‘বাড়তি’ আক্রান্তের সংখ্যা নিয়ে তোপ দেগেছেন মুখ্যমন্ত্রী। সোমবার তিনি অভিযোগ করেছেন, করোনা আক্রান্তের সংখ্যা নিয়ে ভুয়ো খবর ছড়ানো হচ্ছে। এ বিষয়ে পুলিশকে কড়া পদক্ষেপ করার নির্দেশ দিয়েছেন তিনি। করোনা মোকাবিলায় কেন্দ্রীয় সরকার সাহায্য করতে গড়িমসি করছে বলেও তিনি অভিযোগ করেন।

এ দিন সাংবাদিক বৈঠকে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় দাবি করেন, রাজ্যে এই মুহূর্তে ৬১ জন করোনায় আক্রান্ত। যাঁরা করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন, তাঁদের মধ্যে ৫৫ জন ৭টি পরিবারের বলে জানান তিনি। কালিম্পঙে মৃত এক মহিলা-সহ ওই পরিবারের মোট ১১ জন করোনায় আক্রান্ত। আলিপুর কমান্ড হাসপাতালের চিকিৎসক-সহ ওই পরিবারের মোট ৫ জন করোনা পজিটিভ। এছাড়া, হলদিয়ায় একই পরিবারের ২ জন, এগরার ১২ জন, তেহট্টের ৫ জন এবং হাওড়ার ৮ জন করোনায় আক্রান্ত বলে জানিয়েছেন তিনি। তাঁর কথায়, ‘‘হয় আত্মীয়, নয়তো ঘনিষ্ঠ কারও সঙ্গে মেলামেশা করেছেন।’’

রাজ্যে ৮০ জন আক্রান্ত! কেন্দ্রের তথ্য মানছেনা রাজ্য, আক্রান্তের সংখ্যায় গরমিল ১৯,মৃত সেই ৩ 2

তিনি আরও জানান, রাজ্যে করোনা আক্রান্তের ৯৯ শতাংশ ক্ষেত্রেই বিদেশি যোগ রয়েছে। এ দিন মমতা বলেন, ‘‘রাজ্যে মোট ৩ জনের মৃত্যু হয়েছে। কিন্তু আশার কথা, ১৩ জন সুস্থও হয়ে উঠেছেন।’’
রাজ্যে করোনা আক্রান্ত ও মৃতের সংখ্যা নিয়েই, নাম না করে একটি রাজনৈতিক দলের আইটি সেলের বিরুদ্ধে অভিযোগ করেছেন মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর দাবি, ‘‘কিছু রাজনৈতিক দলের আইটি সেল স্বাস্থ্য ভবনের বুলেটিন বলে ভুয়ো খবর ছড়াচ্ছে, সাধারণ মানুষকে ভুল বোঝাচ্ছে।’’ এ নিয়ে পুলিশকে ব্যবস্থা নেওয়ার জন্যও নির্দেশ দিয়েছেন তিনি।

মূখ্যমন্ত্রীর অভিযোগ, কেন্দ্র পার্সোনাল  প্রোটেকশন ইকুইপমেন্ট (পিপিই), এন-৯৫ মাস্ক ও নমুনা কিট প্রয়োজন অনুসারে সরবরাহ   করছেনা । কেন্দ্রের বিরুদ্ধে পরিসংখ্যান তুলে ধরে অসহযোগিতার অভিযোগ এনেছেন তিনি। তাঁর অভিযোগ, ‘‘যা পাওয়া উচিত ছিল, কেন্দ্রের থেকে তা পাইনি।’’ টাকা দিয়েও সরঞ্জাম মেলেনি বলে অভিযোগ করেছেন তিনি। এর পরেই মমতা বলেন, ‘‘পরিসংখ্যান পাওয়ার পর আশা করি আর কেউ রাজনীতি করার চেষ্টা করবেন না।’’

করোনা মোকাবিলায় ‘গ্লোবাল অ্যাডভাইসরি বোর্ড ফর কোভিড রেসপন্স পলিসি ইন ওয়েস্ট বেঙ্গল’ গঠনের কথা এ দিন ঘোষণা করেছেন মুখ্যমন্ত্রী। ওই বোর্ডে থাকবেন, নোবেলজয়ী বাঙালি অর্থনীতিবিদ অভিজিৎ বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার প্রাক্তন আঞ্চলিক অধিকর্তা স্বরূপ সরকার। এঁদের সঙ্গে সমন্বয় রক্ষা করবেন চিকিৎসক অভিজিৎ চৌধুরী এবং সুকুমার মুখোপাধ্যায়। যদিও যেখানে নিজের তৈরি করোনা বিষয়ক বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদেরই তথ্যকে রাজ্য সরকার অস্বীকার করে সেখানে এই বোর্ড কতটা স্বাধীনতা পাবে সে নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করেছেন অনেকেই।