বেতন ঢোকেনি ঘরে, লকডাউনে তীব্র অনটনে রাজ্যের কলেজগুলির অস্থায়ী কর্মচারীরা

367
Advertisement

নিজস্ব সংবাদদাতা: লকডাউনের তীব্র বিপর্যয়ের মুখে রাজ্যের কলেজগুলিতে কর্মরত অস্থায়ী কর্মচারীরা। করোনা পরিস্থিতিতে যেন সবাই বেমালুম ভুলেই গিয়েছে এই শ্রেনীটির কথা যাঁদের ছাড়া রাজ্যের ২৫০টিরও বেশি কলেজ অচল। কেন্দ্রের পরামর্শ মেনে লকডাউন পরিস্থিতিতে কারুরই বেতন কাটার কথা না থাকলেও কেউ ভাবেননি এদের কথা। প্রায় দিনপ্রতি কাজের বিনিময়ে বেতন পাওয়া প্রায় সাড়ে চার হাজার কর্মীর এখনও মার্চ মাসের বেতন হয়নি। ফলে সংসার পরিজন নিয়ে তীব্র আর্থিক অনটনের মুখে এই কর্মীরা। নাম কে ওয়াস্তে কলেজ কর্মী হওয়ায় ত্রানও জোটেনি সরকারের। অনেকেই আক্ষেপ করে বলেছেন বাড়িতে বৃদ্ধ বাবা মার ওষুধ পথ্য, বাচ্চাদের দুধ কেনার পয়সা পর্যন্ত নেই।

Advertisement

পশ্চিমবঙ্গ কলেজ ক্যাজুয়াল এমপ্লয়ীজ সমিতির রাজ্য সহসভাপতি সব্যসাচী গুচ্ছাইত জানিয়েছেন, ” রাজ্য সরকারের বিশেষ করে উচ্চ শিক্ষামন্ত্রীর স্পষ্ট নির্দেশিকা ছিল কলেজ কর্মীদের কারুরই বেতন কাটা যাবেনা কিন্তু বহুক্ষেত্রেই পরিচালন সমিতিগুলি তা মানছেননা। আমরা ইতিমধ্যেই ১৮টি কলেজের কথা জানতে পেরেছি যেখানে কর্মীদের বেতন হয়নি। এদিকে নতুন করে আবার লকডাউনের সময়সীমা বাড়তে চলেছে। এবার কী হবে ক্যাজুয়াল কর্মীদের ভবিষ্যৎ তা ভেবেই পাচ্ছিনা।”

Advertisement
Advertisement

তিনি বলেন , ” সবাই ভাবছে এরা কলেজে চাকরী করে, সরকারী কাজ, সরকারী স্কেলে বেতন এই ধারনাটাই ক্ষতবিক্ষত করে তুলেছে কলেজে কর্মরত ক্যাজুয়াল কর্মচারীদের জীবন। বেশীর ভাগ কলেজেই ডেলি ওয়েজের কাজ যেখানে মাসের শেষে সর্বসাকুল্যে ৩০০০ থেকে ৬০০০ টাকা। তাঁরা ওই টাকায় স্বাভাবিক অবস্থায় মাসই চালাতে পারেননা, তাঁদের কোনও পুঁজি নেই যে সংসার চালাবেন এই লকডাউনের বাজারে।”
গুচ্ছাইত আরও বলেন, ” করোনা পরিস্থিতিতে কলেজগুলো বন্ধ থাকায় ডিউটি না করায়, বেশীরভাগ কলেজ বেতন বন্ধ। পরিবার পরিজন নিয়ে দিশেহারা। কি ভাবে কাটাবে লকডাউন পরিস্থিতি। সরকারের তরফে কোন প্যাকেজ ঘোষনা না করলে কর্মহীন উপার্জনহীন হয়ে অচিরেই ঝরে পড়বে কলেজ ক্যাজুয়ালদের জীবন।”

বিষয়টি নিয়ে ইতিমধ্যেই রাজ্যের শিক্ষামন্ত্রী পার্থ চট্টোপাধ্যায়কে চিঠি লিখেছেন অল ইন্ডিয়া সেন্ট্রাল কাউন্সিল অফ ট্রেড ইউনিয়নস য়ের পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য কমিটির সম্পাদক দিবাকর ভট্টাচার্য্য। তিনি আবেদন করেছেন মন্ত্রী যেন কলেজের পরিচালন সমিতিকে নির্দেশ দেন এঁদের বেতন না কাটার জন্য। সেই চিঠির পরেও কেটে গেছে অনেকগুলো দিন। কাজের কাজ হয়নি কিছুই। ফলে চরম অনিশ্চয়তার মুখে এই কর্মচারীরা।