গত ২৪ ঘন্টায় রাজ্যে নতুন আক্রান্ত ১৩জন, দেশে ৬২০, রাজ্যে মোট আক্রান্তের সংখ্যা ১১৬,দেশে ৫৮৬৫ জন, জানাল কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্যমন্ত্রক

166
Advertisement

নিজস্ব সংবাদদাতা: কেন্দ্রের স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যান দপ্তরের হিসাব অনুযাযায়ী ১০এপ্রিল সকাল ৮ পর্যন্ত পশ্চিমবঙ্গে নতুন করে ১৩ জন করোনা আক্রান্ত হয়েছেন এবং সেই হিসাবে রাজ্যে মোট ১১৬ জন করোনা আক্রান্ত হওয়ার খবর পাওয়া গেল। এরমধ্যে ১৬ জন করোনা ভাইরাস মুক্ত হয়ে স্বাভাবিক জীবনে ফিরে গিয়েছেন আর মৃত্যু হয়েছে ৫ জনের। কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যান দপ্তর মোট ৬৯ টি করোনা সংক্রমনের জেলা ভিত্তিক তথ্য প্রদান করেছে। সেই হিসাবে শীর্ষে রয়েছে কলকাতা ২৯, এরপরই হাওড়া, কালিম্পং ও পূর্ব মেদিনীপুর ৭টি করে ,নদিয়া ৫জন ,জলপাই গুড়ি ও হুগলিতে ৪জন , উত্তর ২৪পরগনা ৩,পশ্চিম মেদিনীপুরে ২জন বলা হয়েছে। যদিও পশ্চিম মেদিনীপুর জেলা স্বাস্থ্য দপ্তর জানিয়েছিলেন জেলায় ওই সংখ্যা ৩। অন্যদিকে দক্ষিন ২৪ পরগনা ১জন।

Advertisement

কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্য মন্ত্রকের হিসাবে করোনা আক্রান্তের সংখ্যায় পশ্চিম বঙ্গ ১৪তম স্থানে রয়েছে আর ১৩৬৪ জন আক্রান্ত নিয়ে মহারাষ্ট্র রয়েছে দেশের মধ্যে শীর্ষে। ওই হিসাব ধরলে মহারাষ্ট্রের পরে তমিলনাডু ও তার পরেই রয়েছে দিল্লি। সংখ্যাটা যথাক্রমে ৮৩৪ ও ৭২০। মহারাষ্ট্র, তমিলনাডু ও দিল্লিতে গত ২৪ঘন্টায় নতুন করে সংক্রমিত হয়েছেন ২২৯, ৯৬ ও ৫১ জন। অন্যদিকে এই তিন রাজ্যে গত এক সপ্তাহের আক্রান্তের সংখ্যা ধরলে মহারাষ্ট্র, তমিলনাডু ও দিল্লিতে সংক্রমিত হয়েছেন ১০২৯, ৫২৫ ও ৫০১। পশ্চিমবঙ্গে গত এক সপ্তাহে আক্রান্ত হয়েছেন ৫৩জন।

Advertisement
Advertisement

করোনা সংক্রমনে দেশের রাজ্যগুলির মধ্যে ১জন করে আক্রান্তের সংখ্যা নিয়ে অরুনাচল, মিজোরাম ও ত্রিপুরা। ১০জন কিংবা তার নিচে রয়েছে ছত্তিশগড়(১০),গোয়া (৭),পণ্ডিচেরি(৫),মণিপুর(২)। এগুলি ছাড়াও ১০১ থেকে ১১য়ের মধ্যে রয়েছে ১০টি রাজ্য। দিল্লির পরে ও পশ্চিমবঙ্গের ওপরে রয়েছে ১০টি রাজ্য যেখানে আক্রান্তের সংখ্যা ৪৬৩ থেকে ১৫৮। এই পরিসংখ্যান কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যান মন্ত্রকের শুক্রবার সকাল ৮টায় জারি করা হয়েছে।

যদিও পশ্চিমবঙ্গ সরকারের হিসাব দিয়ে রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় জানান, “রাজ্যে মোট করোনায় আক্রান্ত ৮০ জন।এরমধ্যে মৃত্যু হয়েছে ৫ জনের।এই ভাইরাসে গত ২৪ ঘন্টায় নতুন করে আক্রান্ত হয়েছেন ১২জন।
করোনা সংক্রমণের শৃঙ্খল ভাঙতে লকডাউনের মেয়াদ হয়ত বাড়ানো হতে পারে।তাই রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় আগে থেকেই চা বাগান, অত্যাবশ্যকীয় পণ্য বহনের জন্য ট্যাক্সি এবং হোম ডেলিভারিতে ছাড় দিয়েছেন।তিনি বলেছেন যে, ট্যাক্সিতে চালক ছাড়া ৩জনের বেশি ওঠা যাবে না।এছাড়া নির্দেশ দিয়েছেন চা বাগানের ক্ষেত্রেও কম সংখ্যক শ্রমিকদের দিয়ে কাজ করানোর জন্য। হুঁশিয়ার করা হয়েছে, যাতে সামাজিক দূরত্ব বজায় থাকে।

এছাড়াও করোনা সংক্রমণ কোথায় বেশি, তা বোঝার জন্য একটি মোবাইল অ্যাপ চালু করবে রাজ্য সরকার। সেই অ্যাপের মাধ্যমে সমস্ত তথ্য সরাসরি পৌঁছবে নবান্নে। যে সমস্ত এলাকায় সংক্রমণ বেশি হবে, সেখানে আশাকর্মীরা গিয়ে তথ্য জোগাড় করে এই নতুন অ্যাপের মাধ্যমে নবান্নে পৌঁছে দেবে। অন্যদিকে গোটা দেশেও আক্রান্তের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৫,৮৬৫। গত ২৪ ঘন্টায় নতুন আক্রান্ত ৬২০জন। মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১৬৯ এবং সুস্থ হয়েছেন ৪৭৮জন।