মৃত্যুর হারে সর্বোচ্চ বাংলা,দুশ্চিন্তা সেই কলকাতাই, ২৪ ঘন্টায় আক্রান্ত সর্বাধিক, দুর্বল নজরদারির ফাঁকেই ছড়াচ্ছে কোভিড-১৯

1125
মৃত্যুর হারে সর্বোচ্চ বাংলা,দুশ্চিন্তা সেই কলকাতাই, ২৪ ঘন্টায় আক্রান্ত সর্বাধিক, দুর্বল নজরদারির ফাঁকেই ছড়াচ্ছে কোভিড-১৯ 1

নিজস্ব সংবাদদাতা: করোনা আক্রান্তদের মৃত্যুর হারে দেশের সমস্ত রাজ্যগুলির চেয়ে এগিয়ে রয়েছে বাংলা আর সেই হার হল ১৩.২%। যদি এখনও সতর্ক না হওয়া যায় তবে বিপদ আরও বাড়বে এমনটাই জানালেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র সচিব অজয় কুমার ভাল্লা। বুধবার যখন এই চিঠি পশ্চিমবঙ্গের মূখ্য সচিবের কাছে এসে পৌঁছেছে তখন আরও উদ্বেগ বাড়িয়ে রাজ্যে গত২৪
ঘন্টায় নতুন করে আক্রান্তের সংখ্যা ১১২, যা দিনের হিসাবে এ যাবৎ কালের সর্বাধিক।

রাজ্যে সংক্রমন বৃদ্ধির একাধিক কারন উল্লেখ করা হয়েছে ভাল্লার চিঠিতে, তার মধ্যে বিশেষ ভাবে উল্লেখ যোগ্য হিসাবে উল্লেখ করা হয়েছে, কলকাতা ও হাওড়ায় লকডাউনের শর্ত ভাঙা হচ্ছে। এমনকি ‘করোনা যোদ্ধা’ পুলিশের উপরেও হামলা করা হচ্ছে। এই পরিস্থিতি কঠোর ভাবে দমন করা উচিত। তা ছাড়া স্বাস্থ্য কর্মীদের কোথাও কোথাও এক ঘরে করে দেওয়া হচ্ছে বলে জানা গিয়েছে। সেই সঙ্গে কোয়ারেন্টাইনের পর্যাপ্ত ব্যবস্থা নেই বলেও দেখা গিয়েছে। ভাল্লা সুনির্দিষ্ট ভাবে উল্লেখ করেছেন একটি ‘বিশেষ গোষ্ঠী’র কথা।
ভাল্লার চিঠি নিয়ে রাজ্য বিতর্ক তুলতেই পারে কিন্তু পরিসংখ্যান বলছে রাজ্যে মোট যত মানুষ আক্রান্ত তার অর্ধেকের বেশি আক্রান্ত শুধু কলকাতাতেই। বুধবার সন্ধেয় রাজ্য সরকারের স্বাস্থ্য দফতরের তরফে প্রকাশিত বুলেটিন। ওই বুলেটিন অনুযায়ী, এই মুহূর্তে কলকাতা শহরে করোনায় আক্রান্ত ৭৫৪ জন। রাজ্যের মোট আক্রান্তের সংখ্যা ১৪৫৬।

মৃত্যুর হারে সর্বোচ্চ বাংলা,দুশ্চিন্তা সেই কলকাতাই, ২৪ ঘন্টায় আক্রান্ত সর্বাধিক, দুর্বল নজরদারির ফাঁকেই ছড়াচ্ছে কোভিড-১৯ 2

পশ্চিমবঙ্গে করোনাভাইরাসের প্রথম সংক্রমণ ধরা পড়েছিল কলকাতায়। রাজ্যের এই মহানগরীতেই এখনও আক্রান্তের সংখ্যা শুধু সবথেকে বেশি নয়, সারা রাজ্যের অর্ধেকের বেশি! সোমবার পর্যন্ত কলকাতায় আক্রান্তের সংখ্যা ছিল ৬৫৯। মঙ্গলবার আরও ৪১ জনের আক্রান্ত হওয়ার খবর আসার পরে সেই সংখ্যা দাঁড়িয়েছিল ৭০০-তে। বুধবার আরও ৫৪ জন নতুন করে আক্রান্ত হয়েছে, এমনই বলছে বুলেটিনের হিসেব। কলকাতায় এই মুহূর্তে করোনা অ্যাকটিভ রয়েছে ৫২৪ জনের দেহে, এমনটাও বলছে বুলেটিন।

বুধবারের বুলেটিনে বলা হয়েছে রাজ্যে মোট করোনায় মৃতের সংখ্যা ৭২। আরও ৭২ জন করোনা সংক্রামিত ব্যক্তি কো-মর্বিডিটির কারণে মারা গেছেন বলেও উল্লেখ করা হয়েছে। বুধবার বুলেটিনে উল্লেখ, কলকাতায় করোনা আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন মোট ৪২ জন। আরও ৫২ জন করোনা সংক্রান্ত ব্যক্তি কো-মর্বিডিটির কারণে মারা গেছেন এই শহরেই। সব মিলিয়ে আক্রান্ত ও মৃত দুই কলকাতাতে বেশি।
কলকাতার পরেই আছে উত্তর ২৪ পরগনা, সেখানে আক্রান্তের সংখ্যা ২০২। গতকাল এটি ছিল ১৮৭। অর্থাৎ ১৫ জন আক্রান্ত হয়েছেন গত ২৪ ঘণ্টায়। এখনও পর্যন্ত এই জেলা থেকে মোট মারা গেছেন ১১ জন।

ইতিবাচক হল রাজ্যের সাত জেলায় এখনও পর্যন্ত কেউ করোনা আক্রান্ত হননি। সেগুলি হল: আলিপুরদুয়ার, কোচবিহার, দুই দিনাজপুর, পুরুলিয়া, বাঁকুড়া, ঝাড়গ্রাম।
পুর্বেই উল্লেখিত যে, বুলেটিন অনুযায়ী গত ২৪ ঘণ্টায় ১১২ জন সংক্রামিত হয়েছেন রাজ্যে, যা এই পর্যন্ত সর্বাধিক হিসেব। ফলে আক্রান্তের সংখ্যা ১৩৪৪ থেকে বেড়ে হয়েছে ১৪৫৬। মোট মৃত্যু হয়েছে ১৪৪ জনের, যাঁদের মধ্যে ৭২ জন মারা গেছেন কোভিডের কারণেই আর বাকি ৭২ জন করোনা ছাড়াও অন্য কো-মর্বিডিটির কারণে। মোট সুস্থ হয়ে উঠেছেন ২৬৫ জন।

কেন্দ্রীয় সচিবের চিঠিতে বলা হয়েছে, পশ্চিমবঙ্গে বহু কন্টেইমেন্ট জোনে লকডাউন ও সোশ্যাল ডিস্টেন্সিং ঠিক মতো মানাই হচ্ছে না। বাজারে ভি়ড় হচ্ছে, ছেলেরা মাঠে ক্রিকেট খেলছে, রাস্তায় রিকশা চলছে, মুখে মাস্ক না পরে বহু মানুষ ঘুরছে, নদীতে স্নান করছে—এসবই চলছে কন্টেইনমেন্ট জোনে। এতেই প্রমাণিত যে সরকারের নজরদারি খুবই দুর্বল। এবং রাস্তায় ভিড় নিয়ন্ত্রণে ঠিকমতো ব্যবস্থা নিচ্ছে না জেলা প্রশাসন। আর এসবের ফাঁকেই বাড়ছে করোনা।