নয়া লকডাউনেই আক্রান্ত ও মৃত্যুতে রেকর্ড গড়ল রাজ্যে, ২৭ মৃত্যু নিয়ে আক্রান্ত ছাড়াল হাজার

127
নয়া লকডাউনেই আক্রান্ত ও মৃত্যুতে রেকর্ড গড়ল রাজ্যে, ২৭ মৃত্যু নিয়ে আক্রান্ত ছাড়াল হাজার 1

বিশেষ সংবাদদাতা: বৃহস্পতিবার থেকে রাজ্য জুড়ে নতুন করে শুরু হয়েছে নব পর্যায়ের লকডাউন সেদিনই রেকর্ড সংখ্যক করোনা আক্রান্তর সন্ধান পাওয়া গেল পশ্চিমবঙ্গে। রাজ্য সরকারের দেওয়া রিপোর্ট অনুযায়ী, একদিনেই এক হাজারেরবেশি মানুষ করোনা আক্রান্ত হয়েছেন এই রাজ্যে। গত ২৪ ঘণ্টায় এই রাজ্যে নতুন করে আক্রান্ত হয়েছেন ১০৮৮ জন। গত চব্বিশ ঘণ্টার মধ্যে মৃত্যু হয়েছে ২৭জনের । এই নতুন করে আক্রান্ত হওয়ার পর এই রাজ্যে করোনা আক্রান্তর সংখ্যা বেড়ে দাঁড়াল ২৫৯১১জন। মোট মৃত্যু হয়েছে ৮৫৪ জনের।

বৃহস্পতিবার বিকেল পাঁচ টা থেকে কলকাতা সহ রাজ্যের ৪৩৪টি কনটেনমেনট জোনে নতুন করে শুরু হয়েছে লকডাউন। এই সব এলাকায় চলছে কড়া পুলিশি নজরদারি । এই সব এলাকায় জানিয়ে দেওয়া হয়েছে যে জরুরি প্রয়োজন ছাড়া কেউ এলাকায় বাইরে যেতে পারবেন না , এলাকায় আসতেও পারবেন না । শুধু মাত্র ওষুধের দোকান খোলা থাকবে । বাকি সব দোকান বন্ধ থাকবে । বন্ধ থাকবে ওই কনটেনমেনট জোন এলাকায় থাকা যাবতীয় সরকারি ও বেসরকারি অফিস । আর এই দিনেই রেকর্ড সংখ্যক করোনা আক্রান্তর সন্ধান পাওয়া গেল পশ্চিমবঙ্গে। বৃহস্পতিবার, রাজ্যের সরকার জানিয়েছে যে এই মুহুর্তে বিভিন্ন কোভিড হাসপাতালে চিকিৎসাধীন সক্রিয় আক্রান্ত ৮২৩১জন। তবে আশার কথা একটাই। ডিসচার্জ রেট ৬৫শতাংশ ।

নয়া লকডাউনেই আক্রান্ত ও মৃত্যুতে রেকর্ড গড়ল রাজ্যে, ২৭ মৃত্যু নিয়ে আক্রান্ত ছাড়াল হাজার 2

করোনাভাইরাস আক্রান্তের সংখ্যা ক্রমশ বেড়ে যাওয়ায় কলকাতা সহ পশ্চিমবঙ্গের কনটেইনমেন্ট এলাকাগুলিতে আবারও লকডাউন শুরু হয়েছে বৃহস্পতিবার বিকেল ৫টা থেকে। মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জী বলেছেন আপাতত সাতদিনের এই লকডাউন কঠোরভাবে বাস্তবায়ন করা হবে। নতুনভাবে লকডাউনে কনটেইনমেন্ট এলাকাগুলিতে অত্যাবশ্যকীয় আর ওষুধের দোকান ছাড়া অন্য কোনও দোকান খোলা রাখতে দেওয়া হবে না বলে প্রশাসন নির্দেশ দিয়েছে। জানিয়ে দেওয়া হয়েছে যে রাজ্য সরকারের পক্ষে ওই সব এলাকায় সবজি ও অন্যান্য জিনিস বিক্রি করা হবে । সেই সব কিনতে ঘরের বাইরে এলে মাস্ক পড়ে বের হতে হবে ।

ওই এলাকায় সরকারি, বেসরকারি অফিস, কলকারখানা, যানবাহন সম্পূর্ণভাবে বন্ধ রাখা হবে। কাউকেই ওইসব এলাকা থেকে বাইরে বেরতে বা ওই এলাকাগুলোয় ঢুকতে দেওয়া হবে না। রাজ্য সরকার জানিয়েছে যে কলকাতাতে কনটেনমেনট এলাকা ২৫টি। রাজ্যের মধ্যে সবচেয়ে বেশি করোনা সংক্রমণের সংখ্যা কলকাতাতেই সব চেয়ে বেশি । এছাড়া উত্তর চব্বিশ পরগনা জেলাতে ৯৫টি, দক্ষিণ চব্বিশ পরগনা জেলার ৫৪ টি , হাওড়া জেলার ৫৬টি, হুগলি জেলার ২১টি, নদিয়া জেলাতে ২৫টি , পূর্ব মেদিনীপুর জেলাতে ১২টি ও পশ্চিম মেদিনীপুর জেলাতে ২৩টি এলাকাকে কনটেনমেনট জোন বলে ঘোষণা করে সেখানে লকডাউন কার্যকর করা হয়েছে । উত্তরবঙ্গের জেলাতেও একইভাবে লকডাউনের ঘোষণা করা হয়েছে ।

এই সব এলাকায় আপাতত সাত দিনের জন্য সম্পূর্ণ লকডাউনের ঘোষণা করা হয়েছে । তবে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে না এলে ও করোনা আক্রান্তর সংখ্যা বাড়লে আরও নতুন এলাকা লকডাউনের আওতায় আসবে ও লকডাউনের সময়সীমা বাড়ানো হবে বলেও জানানো হয়েছে রাজ্য সরকারের পক্ষে । তবে রাজ্যের মধ্যে তিনটি জেলায় কোনও রকম কনটেনমেনট জোন নেই । তাই লকডাউনের আওতার বাইরে থাকছে কোচবিহার, পশ্চিম বর্ধমান ও ঝাড়গ্রাম জেলা ।