ঘাটালে সিল করা হল আক্রান্তের পাড়া, স্যানেটাইজ করা হল হসপিটাল, দুই মেদিনীপুর সীমান্তে কড়া পাহারা

2208
Advertisement

নিজস্ব সংবাদদাতা: ঘাটাল শহরের ১৩নম্বর ওয়ার্ডের যে এলাকায় বৃহস্পতিবার করোনা আক্রান্তের সন্ধান মিলেছিল সেই এলাকাটি সিল করে দিল ঘাটাল পুলিশ। পাড়ার প্রতিটি রাস্তা বাঁশের বেড়া অথবা গার্ডরেল দিয়ে ঘিরে ফেলা হয়েছে। ওই পাড়ার প্রায় ১৫০টি পরিবারকে ঘর থেকে বেরুতে নিষেধ করা হয়েছে পাশাপাশি আপাতত ওই বাড়িগুলিতে প্রশাসন ও স্বাস্থ্যকর্মী ছাড়া অন্য কেউ যেতে পারবেন না বলেও জানিয়ে দেওয়া হয়েছে।

Advertisement

পাড়ার বিভিন্ন মুখ কার্যত ঘিরে কড়া নজরদারিতে রয়েছেন পুলিশ ও সিভিক ভলেনটিয়ার্সরা। মানু্ষের গতিবিধির ওপর নজর রাখার পাশাপাশি পরিবারগুলির প্রয়োজনীয় সামগ্রী জোগান দিচ্ছেন তাঁরাই। পরিবার গুলিকে পুলিশের হেল্প লাইন নম্বর দেওয়া হয়েছে। খাদ্য ওষুধ সহ প্রয়োজনীয় বস্তু সরবরাহ করছেন পুলিশ কর্মীরাই।
অন্যদিকে বৃহস্পতিবারই ঘাটালের ওই অ্যাম্বুলেন্স চালকের করোনা পজিটিভ ধরা পড়ার পরই রাতেই ঘাটাল মহকুমা হাসপাতালের জরুরি বিভাগ এবং পুরুষ ও আইসোলেশন ওয়ার্ডগুলি স্যানিটাইজ করা হয়। শুক্রবার সকাল থেকে পুরোদমেই স্বাভাবিক সমস্ত ওয়ার্ড।

Advertisement
Advertisement

জেলার স্বাস্থ্যদপ্তর সূত্রে জানা গেছে ওই অ্যাম্বুলেন্স চালকের মা, স্ত্রী এবং দুই সন্তানকে নিয়ে যাওয়া হয়েছে মেদিনীপুর আয়ুষ হাসপাতালে। সেখানেই পর্যবেক্ষনে রয়েছেন তাঁরা। আর যে ফ্ল্যাটে তাঁরা ভাড়া থাকতেন সেখানকার ২৯জনকে সরিয়ে নিয়ে যাওয়া হয়েছে ঘাটাল অরবিন্দ স্টেডিয়ামের কোয়ারেন্টাইন সেন্টারে।
এদিকে ঘাটাল মহকুমার সাথে দাসপুরের যে এলাকা দিয়ে পুর্ব মেদিনীপুর জেলার সীমান্ত সেই খুকুড়দহ তে নাকা চেকিং জোরদার করা হয়েছে। নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্য যেমন খাদ্য শষ্য , সবজি, দুধ, ওষুধ ইত্যাদি ছাড়া কোনও গাড়ি পশ্চিম মেদিনীপুর জেলার ভেতরে আসতে দেওয়া হচ্ছেনা। উপযুক্ত কারন ছাড়া দুই জেলার মধ্যে ব্যক্তিগত ভাবেও কাউকে যাওয়া আসা করতে দেওয়া হচ্ছেনা।

উল্লেখ্য গত ২০তারিখ ওই অ্যাম্বুলেন্স চালক ঘাটাল হাসপাতালের দুটি ওয়ার্ডের একটি থেকে অন্যটিতে স্থানান্তরিত হওয়ার পরেও অবস্থা অবনতি হওয়ায় মেদিনীপুরে পাঠানোর পরই করোনা পজিটিভ ধরা পড়ে। লকডাউনের সময় অ্যাম্বুলেন্সে কোন কোন যাত্রীকে বহন করা হয়েছিল তারও হদিস পেতে চাইছে স্বাস্থ্য দপ্তর। কারন এখনও অবধি ওই ব্যক্তির করোনা কার সংস্পর্শে এসেছে তা নির্ধারন করা যায়নি। জেলার মূখ্য স্বাস্থ্য আধিকারিক গিরিশ চন্দ্র বেরা বলেন, ‘ আমরা তো খুঁজছি কিন্তু যিনি মনে করবেন যে ওই যুবকের সংস্পর্শে এসেছিলেন তাঁকে বা তাঁদেরকেও এগিয়ে আসতে হবে। এতে সবারই ভাল।”