বাহন সমেতই জীবানুমুক্ত করে দিচ্ছে করছে আইআইটি খড়গপুরের স্যানেটাইজ ট্যানেল

458
বাহন সমেতই জীবানুমুক্ত করে দিচ্ছে করছে আইআইটি খড়গপুরের স্যানেটাইজ ট্যানেল 1
বাহন সমেতই জীবানুমুক্ত করে দিচ্ছে করছে আইআইটি খড়গপুরের স্যানেটাইজ ট্যানেল 2

নিজস্ব সংবাদদাতা: এতদিন দেখা যাচ্ছিল করোনা সংক্রমন এড়াতে মানুষকে যেতে হচ্ছিল স্যানেটাইজ চ্যানেলে। এবার ব্যতিক্রম, পুরো গাড়ি সমেতই মানুষকে জীবানুমুক্ত করা হচ্ছে। উদ্ভাবনী শক্তিতে বরাবরই সবাই টেক্কা দিয়েছে আইআইটি খড়গপুর। এবারও তার ব্যতিক্রম হলনা। এবার বাহন সমেতই ক্যাম্পাসের ভেতরে প্রবেশ করা ব্যক্তিকে জীবানুমুক্ত করেই স্বাগত জানাচ্ছে দেশের প্রাচীনতম ও বৃহত্তর আইআইটি। আইআইটি ক্যাম্পাসে খড়গপুর শহরের পুরীগেট সংলগ্ন প্রধান ফটকেই তৈরি করা হয়েছে একটি স্যানিটাইজ ট্যানেল আইআইটির পোশাকি ভাষায় যার নামও দেওয়া হয়েছে ডিসইনফেকশন চেম্বার। কাউকে প্রবেশ করতে হলে এখান দিয়েই তা করতে হবে। এই চেম্বারের ওপরই বসানো হয়েছে একটি প্ল্যাস্টিক পিপে যা জীবানুনাশক তরলে ভরা। কেউ ভেতর ঢুকলেই বাতাসের তীব্র চাপে সৃষ্ট কুয়াশা ঝড় গাড়ি সমেত ব্যক্তিকে পরিশোধন করে দিচ্ছে।

৪লক্ষ টাকা ব্যয়ে এই ডিসইনফেকশন চেম্বারটি নির্মানে নেতৃত্ব দিয়েছেন আইআইটির মেকানিকাল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের অধ্যাপক মিহির ষড়ঙ্গী। অধ্যাপক ষড়ঙ্গী জানিয়েছেন, ” এই কুয়াশার মত মিশ্রনটি যে কোনও তরলের চাইতে দূষন মুক্ত করতে অধিক কার্যকরী এবং এরজন্য আমাদের কোনও জল নির্গমনের ব্যবস্থা করতে হচ্ছেনা।” উল্লেখ্য ইতিপূর্বে দক্ষিনপূর্ব রেলের খড়গপুর ডিভিসন বা পশ্চিমমেদিনীপুর পুলিশ লাইনে যে ট্যানেল গুলি প্রতিস্থাপন করা হয়েছে সেগুলি জল নির্ভর হওয়ায় গড়িয়ে পড়া জল নির্গমনের সুব্যবস্থা না রাখলে নিচে কাদা হয়ে যাওয়ার সম্ভবনা থাকে।
আইআইটি কর্তৃপক্ষ জানিয়েছেন, করোনা সংক্রমণ রুখতে যখন লকদডাউন শুরু হয়েছিল তখনই এই ব্যবস্থার পরীক্ষা নিরীক্ষা শুরু হয়। ক্যাম্পাসকে নিরাপদে রাখার জন্য তখন মানু্ষের যাতায়াত কিছুটা নিয়ন্ত্রন করা হয় বাধ্য হয়েই। এখন আর কোনও দুশ্চিন্তা নেই। সবার জন্যই ক্যাম্পাস অবারিত করা হল।

বাহন সমেতই জীবানুমুক্ত করে দিচ্ছে করছে আইআইটি খড়গপুরের স্যানেটাইজ ট্যানেল 3

এই প্রক্রিয়ায় আইআইটিতে প্রবেশের জন্য ‘একক প্রবেশ’ নীতি বা সোলো এন্ট্রি চালু করা হয়েছে। ক্যাম্পাসে প্রবেশের সমস্ত গেট বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে শুধুমাত্র এই প্রধান ফটকটি ছাড়া আর এখানেই প্রতিস্থাপন করা হয়েছে ডিসইনফেকশন চেম্বারটি, যার মধ্যে দিয়েই যেতে হবে সবাইকে। আর এই ট্যানেল আপনার আ নখ শির শুধুই নয়, জামা কাপড় জুতো মায় বাহনটি অবধি জীবানুমুক্ত করে দেবে। অবশ্য এরপরেই মুক্তি নেই আপনার। ট্যানেল পেরিয়েই নামতে হবে আপনাকে। লম্বা সার দেওয়া বেসিনে হাত রেখে পাশে রাখা লিকুইড সোপ দিয়ে কুড়ি সেকেন্ড ধোয়ার পরই, ”নমস্কার, আপনি আইআইটি খড়গপুর ক্যাম্পাসে স্বাগত।”

আইআইটির ডিরেক্টর বীরেন্দ্র কুমার তেওয়ারী জানিয়েছেন, ”আমাদের ক্যাম্পাস একটা ছোট শহরের মতই যেখানে মানুষ জন যাতায়ত করেন নানা প্রয়োজনে। কেউ কেউ ক্যাম্পাসকে বিভিন্ন পরিষেবা দেন। আমাদের কর্মীরাও তাঁদের সাথে কাজকর্ম করেন। এমতাবস্থায় বর্তমান পরিস্থিতিতে এই বিশুদ্ধিকরন প্রক্রিয়া খুবই জরুরি ছিল। আমি পুরো দলটাকেই ধন্যবাদ দেব যাঁরা এটা তৈরি করেছেন।”
‘আমরা ইতিমধ্যেই কোভিড-১৯য়ের সঙ্গে মোকাবিলায় বেশ কয়েকটি প্রযুক্তির উদ্ভাবন করেছি। করোনা যুদ্ধে ভারতকে শক্তিশালী করতে এই প্রক্রিয়া চলবে। ” বলে জানালেন ডিরেক্টর তেওয়ারী।

এদিকে নতুন এই স্যানেটাইজ ট্যানেলে খুবই খুশি সাধারন মানুষ। আইআইটি ক্যাম্পাসের টেকনোলজি মার্কেটে দোকান আছে এমন এক ব্যবসায়ী জানালেন। ”অসাধারণ এই ব্যবস্থা ! এতদিন শুনেছি যে শুধুই মানুষটিকে স্যানেটাইজ করা হত। এখন দেখছি আমার বাইকশুদ্ধ আমাকে স্যানেটাইজ করে দেওয়া হল। এতে নিজের গাড়িতেও হাত রাখতে ভয় চলে গেল। হয়ত অন্য কেউ বাজারে আমার গাড়িতে হাত রেখেছিল এই ভয়টা থাকত । এখন আর সেই ভয় নেই আর আলাদা করে গাড়ি রেখে স্যানেটাইজ হতেও যেতে হচ্ছেনা। পুরো গাড়ি সমেত ট্যানেলে ঢুকে ওপাশ দিয়ে বেরিয়ে গেলাম।”উল্লেখ্য করোনা মোকাবিলায় শিল্ড মাস্ক, সাধারন মাস্ক , হ্যান্ড স্যানিটাইজেশন সহ একগুচ্ছ প্রকল্প নিয়ে কাজ করেছে যা একেবারেই আলাদা। এবং প্রতিটি কাজই আইআইটির গবেষকরা করেছেন বাড়িতে থেকে কাজ করার পদ্ধতি মেনেই । এবারও সেই ধারাবাহিকতাই বজায় রাখল তারা।