ফের ২৭শে বৈঠক মূখ্যমন্ত্রীদের সঙ্গে, লকডাউন কি ফের বাড়াবেন প্রধানমন্ত্রী? বিশেষজ্ঞরা চাইছেন ১০ সপ্তাহের লকডাউন

1256
Advertisement

নিজস্ব সংবাদদাতা: চিনের পথেই হেঁটে মোট ১০ সপ্তাহের লকডাউন চাইছেন বিশেষজ্ঞদের একটি দল। তাঁদের মতে ১০ সপ্তাহ সঠিক ভাবে লকডাউন মানলে দেখা যাবে এই মহামারী থেকে নিস্তার পাওয়া যাচ্ছে। হিসাব অনুযায়ী, প্রথম দফার ২১দিন ও দ্বিতীয় দফার ১৯দিন ধরলে মোট ৪০দিনের লকডাউন চলছে যা শেষ হবে ৩রা মে। তারপর আরও ৩০দিন বা ১মাস লকডাউন চালাতে হয়। এই পরিস্থিতিতে আগামী ২৭এপ্রিল প্রধানমন্ত্রী রাজ্যগুলির মূখ্যমন্ত্রীদের সঙ্গে ফের একদফায় ভিডিও বৈঠক করতে চাইছেন। তাহলে কি ফের বাড়তে চলেছে লকডাউন ? প্রশ্নটা ঘুরছে।

Advertisement

আগামী তিন তারিখ শেষ হওয়ার কথা লম্বা লকডাউন। কিন্তু ইতিমধ্যে করোনায় আক্রান্তের সংখ্যা ২০ হাজার ছাড়িয়ে গিয়েছে। পরিস্থিতি খুব একটা আয়ত্তের মধ্যে নেই। এই পরিস্থিতিতে কি ফের বাড়ছে লকডাউন? তৈরি হয়েছে ধোঁয়াশা। যদিও সূত্রের খবর, কিছু কিছু ক্ষেত্রে আরও ছাড় দেওয়া হতে পারে। এমনকি গ্রিন জোনগুলিতে উঠতে পারে লোকডাউন। তবে এই সমস্ত কিছু সিদ্ধান্ত সমস্র রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীদের সঙ্গে নিতে চান প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী।
আর সেই কারণে ফের বৈঠক ডেকেছেন তিনি। আগামী ২৭ এপ্রিল ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে কেন্দ্র এবং রাজ্যগুলির মধ্যে বৈঠক হবে। যেখানে সমস্ত রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীরাই উপস্থিত থাকবেন। থাকতে পারেন বাংলার মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ও। সূত্রের খবর, রাজ্যগুলির হালহকিকত জানা এবং লকডাউন তোলার পদ্ধতি নিয়ে আলোচনা হতে পারে ওই বৈঠকে। ফলে এই বৈঠক যথেষ্ট তাৎপর্যপূর্ণ।

Advertisement
Advertisement

এদিকে করোনা পরিস্থিতিতে এর নতুন আর্থিক প্যাকেজ ঘোষণা করল মোদী সরকার। স্বাস্থ্যখাতে এমার্জেন্সির জন্য দেওয়া হল ১৫০০০ কোটি টাকা।বুধবার কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভার বৈঠকে এই প্যাকেজ ঘোষণার কথা বলা হয়েছে। জানা গিয়েছে, তিনটি পর্যায়ে ওই টাকা খরচ করা হবে। এদিন এই প্যাকেজের কথা ঘোষনা করেন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী প্রকাশ জাভড়েকর। তিনি বলেন, ”ভারতে যাতে যাতে করোনা দ্রুত না ছড়ায়, পরীক্ষা ও চিকিৎসার সবরকম বন্দোবস্ত যাতে থাকে, তার ব্যবস্থা করা হচ্ছে। চিকিৎসার সব সামগ্রী, ওষুধের জন্য এই ব্যবস্থা করা হয়েছে।”
একইসঙ্গে আগামিদিনে যাতে ছড়িয়ে না পড়ে, তার জন্যও এই টাকা বরাদ্দ করা হচ্ছে। এই টাকা কাজে লাগানো হবে গবেষণাগারে। মহামারী নিয়ে গবেষণার ক্ষেত্রে ব্যবহার করা যাবে এই টাকা। পুরোটাই স্বাস্থ্য মন্ত্রকের ছাতার তলায় হবে বলে জানা গিয়েছে। তিনি জানিয়েছেন, প্রত্যেকদিন টেস্টের পরিমাণ বাড়ানো হচ্ছে ভারতে।

৩রা মে পর্যন্ত লকডাউন ঘোষণা করেছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। আর লকডাউনের মেয়াদ শেষ হলেই আবার আগের মতোই স্বাভাবিক জীবনে ফিরে যাওয়া যাবে। এরকমই ভাবছেন অনেকে। ভাবনার অন্যতম কারন বিশেষজ্ঞদের ভাবনাতেও। মেডিকেল জার্নাল দ্য ল্যানসেট-এর এডিটর ইন চিফ রিচার্ড হর্টন এখনই ভারতে লকডাউন তুলতে না করছেন। তিনি বলছেন অন্তত টানা ১০ সপ্তাহ লকডাউন রাখা উচিত।
তিনি বলছেন, এই মহামারী চিরকালীন নয়। নিজে থেকেই এর শক্তি কমবে। আমাদের দেশ এই করোনা মোকাবিলার জন্য সঠিক কাজটাই করছে। ১০ সপ্তাহের শেষে ভাইরাসের উপস্থিতি একেবারেই না থাকলে আবার আগের মতো সব চলবে। একেবারে সব স্বাভাবিক হবে না হয়তো। শারীরিক দূরত্ব বজায় রাখতে হবে। আমাদের মাস্কও পরতে হতে পারে এবং পরিচ্ছন্নতার দিকে বিশেষ নজর দিতে হতে পারে।

রিচার্ড বলছেন, ” বুঝতে পারছি অর্থনীতির কথা মাথায় রেখে সব স্বাভাবিক করে নেওয়া দরকার। কিন্তু তাড়াহুড়ো করবেন না। তাড়াহুড়ো করলে আবার যদি করোনা ছড়িয়ে পড়তে শুরু করে তা আরও খারাপ হতে পারে। তখন আবার প্রথম থেকে লকডাউন শুরু করতে হবে। আপনারা অনেক সময়ে এই লকডাউনে দিয়েছেন। সেটাকে নষ্ট করবেন না। অন্তত ১০ সপ্তাহ এই লকডাউন রাখুন।”
তিনি বলেছেন, ”উহান কীভাবে টানা ১০ সপ্তাহ কড়া ভাবে লকডাউন চালু রেখে করোনা মুক্ত হতে পেরেছে। তিনি বলছেন, ২৩ জানুয়ারি থেকে টানা এপ্রিল পর্যন্ত ইউহান লকডাউন রেখেছিল। এখন তারা স্বাভাবিক জীবনে ফিরছে। সমস্ত মহামারীর মডেল থেকেই প্রমাণিত, তাঁদের এই লকডাউনের প্রয়োজন ছিল। কারণ এই ভাইরাসই এরকম। শারীরিক দূরত্ব বজায় না রাখলে জনবসতিতে শীঘ্র এই ভাইরাস ছড়িয়ে পড়ে।”

কিন্তু ১০ সপ্তাহ লকডাউন রাখলেই যে করোনা ভাইরাস চলে যাবে এর নিশ্চয়তা কী! এই প্রসঙ্গে রিচার্ড বলছেন, তখন এভাবেও করোনা ছড়াবে না। খুব সামান্য লোকের মধ্যে এই ইনফেকশন থাকবে। টেস্টিংও চালিয়ে নিয়ে যেতে হবে এর জন্য।
বলে রাখা প্রয়োজন, গত ১১ এপ্রিল দেশের সমস্ত রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীদের সঙ্গে বৈঠক করেছিলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। সেই বৈঠকে অধিকাংশ মুখ্যমন্ত্রী লকডাউন বাড়িয়ে দেওয়ার পক্ষে ছিলেন। রাজনৈতিকমহল মনে করেছিলেন ৩০ এপ্রিল পর্যন্ত বাড়তে পারে লকডাউন। কিন্তু প্রধানমন্ত্রী ১৪ এপ্রিল জাতির উদ্দেশ্যে ভাষণ দিয়ে লকডাউনের মেয়াদ আরও বাড়ান। ৩ মে পর্যন্ত করা হয় লকডাউন।  পাশাপাশি ধীরে ধীরে ছাড়ও দেওয়া হয় কিছু ক্ষেত্রে। এবার দেখা যাক কি সিদ্ধান্ত নেন প্রধানমন্ত্রী। হয়ত আরও কিছু ক্ষেত্রে ছাড় দিয়ে, কিছু নিয়ম শিথিল করে লকডাউন চালিয়ে যাওয়া হবে। অনেকের মতে চট করে লকডাউন না তুলে কিছু কিছু ক্ষেত্রে ছাড় দিয়ে পরীক্ষা নিরীক্ষার মাধ্যমে এভাবেই ধাপে ধাপে প্রত্যাহার করা হবে। এভাবেই জুন অবধি টেনে নিয়ে যাওয়া হবেই লকডাউন।