ঢুকতে দেয়নি গ্রাম, ২ বছর পরে বাড়িতে প্রবেশ করতে না পেয়ে আত্মঘাতী বৃদ্ধ, পুলিশকে মৃতদেহ উদ্ধারে সাহায্য করে নির্বাসিত যুবক

1045
ঢুকতে দেয়নি গ্রাম, ২ বছর পরে বাড়িতে প্রবেশ করতে না পেয়ে আত্মঘাতী বৃদ্ধ, পুলিশকে মৃতদেহ উদ্ধারে সাহায্য করে নির্বাসিত যুবক 1

নিজস্ব সংবাদদাতা: দু’বছর পর বাড়ি ফিরেছিলেন বৃদ্ধ কিন্তু গ্রামের মানুষ তাঁকে গ্রামে ঢুকতে দেয়নি করোনা সংক্রমনের ভয়ে তাই অভিমানে আত্মঘাতী হলেন ৬৫ বছরের ওই বৃদ্ধ। বুধবার বাড়ি থেকে বেশ কিছুটা দুরে এক জঙ্গল থেকে উদ্ধার হয় ওই বৃদ্ধের ঝুলন্ত দেহ। অভিযোগ সেই দেহ উদ্ধার করতে পুলিশকে সাহায্য করায় গ্রামের এক যুবককেও গ্রামে ঢুকতে দেওয়া হয়নি। পশ্চিমমেদিনীপুর জেলার কেশিয়াড়ী থানার কুসুমপুর গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকার ঘটনায় বৃদ্ধের পরিবারের অনুযোগ পুলিশের দিকেই। পুলিশ আরেকটু সক্রিয় ও মানবিক হলে এ মৃত্যু এড়ানো যেত বলেই দাবি পরিবারের।

পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, ৬৫ বছরের ওই আত্মঘাতী বৃদ্ধ রামচন্দ্র মাইতির বাড়ি ওই গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকার তেঁতুলমুড়ি গ্রামে কিন্তু তিনি গত দুবছর ধরে হাওড়ার সাঁতরাগাছিতে ছেলের কাছে থাকতেন। মঙ্গলবার দুপুরে তিনি হঠাৎই হাজির হন কেশিয়াড়ীর গ্রামে। কিন্তু তাঁকে গ্রামের মুখে দেখেই আঁতকে ওঠেন গ্রামবাসীরা। করোনা আতঙ্কিত গ্রামবাসীরা জানিয়ে দেন যেহেতু তিনি কন্টাইনমেন্ট জোন থেকে এসেছেন তাই তাঁর গ্রামে থাকা চলবেনা। বাড়ির থেকে দুরে জল আর খাবার দেওয়া হয়। গ্রামবাসীরা খবর দেয় পুলিশে। কেশিয়াড়ী থানার এক সিভিক ভলেনটিয়ার এসে একই কথাই জানান, গ্রামে থাকা যাবেনা, রামচন্দ্রবাবুকে আগে স্বাস্থ্য কেন্দ্রে যেতে হবে।
দুপুর তিনটে নাগাদ গ্রাম থেকে বেরিয়ে যান রামচন্দ্র বাবু। তারপর খোঁজ পাওয়া যায়নি আর।

ঢুকতে দেয়নি গ্রাম, ২ বছর পরে বাড়িতে প্রবেশ করতে না পেয়ে আত্মঘাতী বৃদ্ধ, পুলিশকে মৃতদেহ উদ্ধারে সাহায্য করে নির্বাসিত যুবক 2

বুধবার সকালেই সহরিয়া এলাকার জঙ্গল থেকে তার মৃতদেহ উদ্ধার হয়। ঘটনার পর পুলিশের গাফিলতির অভিযোগ উঠেছে। রামচন্দ্র মাইতি কী ভাবে সাঁতরাগাছি থেকে কেশিয়াড়ী এলেন এর উত্তর মেলেনি। গ্রামের মানুষ হেঁটেই বাড়ি ঢুকতে দেখেছিলেন তাঁকে। পরিবারের অভিযোগ, দু’বছর পর বাড়ি এসেছিল মানুষটা। কেন এসেছিল , কী বলতে এসেছিল কিছু জানারই অবকাশ হয়নি। কেউ যদি বাইরে থেকে আসেন, আসতে বাধ্য হন তাঁর ব্যবস্থা রয়েছে। তিনি হোম কোয়ারেন্টাইনে থাকবেন অথবা স্বাস্থ্যকেন্দ্রে। পুলিশ তাঁকে স্বাস্থ্যকেন্দ্রে নিয়ে যেত। তা না করে যা করা হল এবং পুলিশের লোক তাতে সায় দিল! মানুষ এতটাই অমানবিক হয়ে যেতে পারে?

আরও পড়ুন -  কলকাতার রিজেন্ট পার্কের ছায়া মেরাঠে, বিয়ের প্রস্তাব ফেরানোয় খুন বাবা ও মেয়ে

পুলিশ বলছে, গ্রামবাসীরা এরকম ব্যবহার করেছে জানা যায়নি। এদিকে রামচন্দ্র মাইতির মৃতদেহ গাছ থেকে নামাতে সাহায্য করেছিল স্থানীয় গোবরাগেড়িয়া গ্রামের বাসিন্দা ঝন্টু সিং নামে এক যুবক।পুলিশের উপস্থিতিতে রাম মাইতির ঝুলন্ত দেহ গাছ থেকে নামায়। পরে সেই ব্যক্তিকে গ্রামের মানুষ আর গ্রামে ঢুকতে দেয়নি তাকে। গ্রামবাসীদের বক্তব্য, বাইরে থেকে এসেছিলেন ওই ব্যক্তি। কী অবস্থায় ছিলেন আমরা কেউ জানি না। তাকে ছুঁয়েছেন ঝন্টু। ফলে তাকে প্রশাসন কোয়রান্টিন কেন্দ্রে নিয়ে যাক। দীর্ঘক্ষণ গ্রামে ঢোকার মুখে বসে থাকলেও পুলিশ প্রশাসন কোনও ব্যবস্থা নেয়নি।