নিরাপদ ও দ্রুত করোনা পরীক্ষার নমুনা গ্রহনে এক লপ্তে ৩২ কিয়স্ক বসাচ্ছে পশ্চিম মেদিনীপুর, প্রতিদিন ৬০০ নুমনা পরীক্ষার উদ্যোগ

890
নিরাপদ ও দ্রুত করোনা পরীক্ষার নমুনা গ্রহনে এক লপ্তে ৩২ কিয়স্ক বসাচ্ছে পশ্চিম মেদিনীপুর, প্রতিদিন ৬০০ নুমনা পরীক্ষার উদ্যোগ 1

নিজস্ব সংবাদদাতা: অসাবধানতায় মারাত্মক ভুল, সংক্রমন হয়ে যেতে পারে খোদ নমুনা সংগ্ৰহকারীরই। অথচ এভাবেই কাজ করতে হচ্ছে স্বাস্থ্যকর্মীদের। জেলার নিজস্ব পরীক্ষা তো আছেই কিন্তু তারও চেয়ে বড় সমস্যা এখন জেলার দাঁতন লাগোয়া ওড়িশা সীমান্ত। প্রতিদিনই হাজারে হাজারে মানুষ এই পথেই রাজ্যে প্রবেশ করছেন।এঁরা দক্ষিনে চিকিৎসা করতে গিয়ে লকডাউনে আটকে পড়া রোগী ও তাঁর পরিবার, এঁরা সারা দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে ঘরে ফেরা পরিযায়ী শ্রমিকের দল৷ পাশাপাশি রয়েছে খড়গপুর জংশন। এখানেও মানুষ ফিরছেন কাতারের কাতারে।

জেলার সাথেই রাজ্যের এই বাড়তি দায়িত্ব এখন পশ্চিম মেদিনীপুর পুলিশ , প্রশাসন ও অনিবার্য ভাবেই স্বাস্থ্যকর্মীদের ঘাড়ে। এঁদের সবারই নুমনা সংগ্ৰহ করতে হচ্ছে। জেলা জুড়ে এই নমুনা সংগ্ৰহ হচ্ছে গাছের তলায়, অস্থায়ী ছাউনি কিংবা ছোটখাটো স্বাস্থ্যকেন্দ্রে। পরিকাঠামোর অভাবে এই নমুনা সংগ্রহ করা আতংকের কিন্তু নিরুপায়। একদিকে ঝাড়খন্ড, অন্যদিকে ওড়িষ্যা ৷
স্বাস্থ্যকর্মীদের এই অসহয়তা ও অনিরাপদ অবস্থা দূর করতে উদ্যোগ হল পশ্চিম মেদিনীপুর জেলা প্রশাসন। জেলার স্বাস্থ্যকর্মীদের নিরাপত্তার স্বার্থে করোনা নমুনা সংগ্রহের জন্য কিয়স্ক বসাচ্ছে জেলা প্রশাসন ৷ একসাথে জেলার বিভিন্ন এলাকাতে বসছে ৩২ টি নমুনা সংগ্ৰহ কিয়স্ক ৷

নিরাপদ ও দ্রুত করোনা পরীক্ষার নমুনা গ্রহনে এক লপ্তে ৩২ কিয়স্ক বসাচ্ছে পশ্চিম মেদিনীপুর, প্রতিদিন ৬০০ নুমনা পরীক্ষার উদ্যোগ 2

করোনা অতিমারির প্রকোপ শুরু হওয়ার পর জেলার স্বাস্থ্য ব্যবস্থায় বড়সড় পরিবর্তন এনেছিল আইসিএমআর প্রতিষ্ঠিত মেদিনীপুর মেডিক্যাল কলেজের ভাইরাল ল্যাব। এরফলে দক্ষিণবঙ্গের একটি বৃহৎ অংশের পরীক্ষা এখন মেদিনীপুরেই হচ্ছে। দ্বিতীয় পরিবর্তন হয় একই সাথে পশ্চিম মেদিনীপুর জেলার মোট ১৬ টি স্থান থেকে করোনা নমুনা সংগ্রহ করার ব্যবস্থার মধ্যে৷ কিন্তু এই ১৬টি জায়গাতেই বেশিরভাগই উন্মুক্ত স্থান অথবা স্বাস্থ্যকেন্দ্রের খোলা কক্ষে বসেই নমুনা সংগ্রহ করা হত৷ এমনকি গাছের তলায় বসিয়েও নমুনা সংগ্রহ করা হচ্ছে ৷ তারপর পাঠানো হচ্ছে মেদিনীপুর মেডিক্যাল কলেজের ভিআরডিএল ল্যাবে ৷ নুমনা সংগ্রহের জন্য এবার কিয়স্ক গুলি স্বাস্থ্যকর্মীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করবে বলেই দাবি স্বাস্থ্য দপ্তরের।

জেলার মুখ্যস্বাস্থ্য আধিকারিক ডাঃ গিরিশচন্দ্র বেরা জানিয়েছেন, “এটা ঘটনা যে জেলার ১৬ টা যে নমুনা গ্রহন কেন্দ্রগুলি ততখানি সুসমন্বিত নয় যতটা দরকার। কিয়স্ক সেই অভাব দুর করবে। স্বাস্থ্যকর্মীদের ও রোগীদের ক্ষেত্রে সুবিধা হবে এবার নমুনা গ্রহন করতে। জেলার ১৬ টি স্থানেই দুটি করে এটিএম কাউন্টারের ন্যায় দেখতে কিয়স্ক বসানো হচ্ছে ৷ যেখানে কাঁচের রুমের ভেতরে বসেই নিরাপদে নমুনা সংগ্রহ করতে পারবেন ল্যাব কর্মীরা ৷ একসাথে এমন ৩২ টি কিয়স্ক বসানো হবে পশ্চিম মেদিনীপুরে৷”

বর্তমান পরিস্থিতিতে নমুনা গ্রহনের পরিমান বাড়ানোর হয়েছিল ৷ এবার সেটাকে নিরাপদ ও দ্রুত করার উদ্যোগ চালু হচ্ছে সোমাবার থেকেই৷ অতিরিক্ত জেলাশাসক উত্তম অধিকারি জানিয়েছেন- সোমবার ওড়িষ্যার দাঁতন সীমান্তে একসঙ্গে কয়েকটি কিয়স্ক বসানো হবে ৷ যার উদ্বোধন করবেন জেলা শাসক রশ্মি কমল ৷”
পশ্চিম মেদিনীপুর স্বাস্থ্যদপ্তর জানাচ্ছে,পশ্চিম মেদিনীপুরে প্রতিদিন নূন্যতম ৬০০ নমুনা পরীক্ষার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে ৷ এরমধ্যে ৪০০পরীক্ষা করা হবে মেদিনীপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ৷ অবশিষ্ট নমুনা কলকাতার দুটি বেসরকারি ল্যাবরেটরিতে ১০০ করে ভাগ করে দেওয়া হবে।