করোনার বলি কলকাতা পুলিশের উপনগরপাল, উদ্বিগ্ন লালবাজার

178

ওয়েব ডেস্ক : করোনাযুদ্ধে পরাজিত হয়ে চলে গেলেন কলকাতা পুলিশের অ্যাসিস্ট্যান্ট কমিশনার উদয় শংকর বন্দ্যোপাধ্যায়। শুক্রবার ভোরে কলকাতার বাইপাস সংলগ্ন একটি বেসরকারি হাসপাতালে মৃত্যু হয় তাঁর। ঘটনার খবর প্রকাশ্যে আসতেই শোকস্তব্ধ লালবাজারের পুলিশ কর্তা ও কর্মী সকলেই। এর ঘটনায় স্বাভাবিকভাবেই পুলিশকর্মী ও আধিকারিকদের মধ্যে উদ্বেগের সৃষ্টি হয়েছে। এর আগে মারণ ভাইরাসে সংক্রমিত হয়ে বেশ কয়েকজন কর্মী প্রাণ হারিয়েছেন। কিন্তু এই প্রথম করোনায় আক্রান্ত হয়ে কোনো অ্যাসিস্ট্যান্ট কমিশনার পদাধিকারী পুলিশ আধিকারিকের মৃত্যু হল।

আরও পড়ুন -  মঙ্গলেই লাখে পা, জুনের মাঝামাঝি দেড় লাখ, বাংলা পৌঁছে যেতে পারে ২০ হাজারে

পুলিশ সূত্রে খবর, বেশ কিছুদিন ধরে শারীরিকভাবে অসুস্থ থাকার পর চিকিৎসকের পরামর্শ মতো সপ্তাহখানেক আগে তাঁর করোনা পরীক্ষা করানো হলে রিপোর্ট পজিটিভ আসে৷ এরপরই কলকাতা পুলিশের অ্যাসিস্ট্যান্ট কমিশনারকে বাইপাসের ধারে বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি করানো হয়৷ এরপরই আচমকা এসিপির শারীরিক অবস্থার অবনতি হতে শুরু করে। এরপরই আর দেরি না করে তাকে ভেন্টিলেশনে রাখা হয়। গত চারদিন তিনি ভেন্টিলেশনে ছিলেন। কিন্তু তাতেও অবস্থার পরিবর্তন হয়নি। বরং উপনগরপালের শারীরিক অবস্থা ক্রমশ অবনতি হওয়ায় চিকিৎসকরা এসিপিকে নিয়ে দুশ্চিন্তা করছিলেন। চিকিৎসকদের বহু চেষ্টা সত্ত্বেও উদয়শংকরবাবুর শারীরিক অবস্থার কোনও উন্নতি হয়নি। শেষমেশ শুক্রবার ভোরে মারণ ভাইরাসের সাথে যুদ্ধে হার মানলেন কলকাতা পুলিশের উপনগরপাল উদয়শংকর বন্দ্যোপাধ্যায়।

দক্ষ ও বিচক্ষণ পুলিশ অফিসার হিসেবে পুলিশ মহলে বরাবরই সুনাম ছিল এসিপি উদয়শংকর বন্দ্যোপাধ্যায়ের। আচমকা তাঁর চলে যাওয়া স্বাভাবিকভাবেই মেনে নিতে পারছেন না লালবাজারের পুলিশকর্মী থেকে উচ্চপদস্থ কর্তারা। তার উপর কলকাতা পুলিশের অন্দরে সংক্রমণের আশঙ্কা যেভাবে জাঁকিয়ে বসছে তাতে স্বাভাবিকভাবেই উদ্বিগ্ন পুলিশকর্মীরা। সূত্রের খবর, এখনও পর্যন্ত করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন কলকাতা পুলিশের প্রায় ১৯০০ জন কর্মী। তবে এর আগে মারণ ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে ইন্সপেক্টর, সাব-ইন্সপেক্টর পদের অফিসাররা করোনা লড়াইয়ে হার মানলেও এই প্রথম করোনায় আক্রান্ত হয়ে কোনও উপনগরপালের মৃত্যু হল। এ নিয়ে এ পর্যন্ত করোনায় মৃত্যু হল ৯ জনের। তবে আপাতত কর্মীদের সুরক্ষার স্বার্থে লালবাজারের ভিতরে বেশ কয়েকটি আইসোলেশন সেল তৈরি করা হয়েছে৷ কিন্তু তাতেও কোনোভাবেই সংক্রমণ এড়ানো সম্ভব হচ্ছে না। এতে স্বাভাবিকভাবেই উদ্বিগ্ন প্রশাসন।

করোনার বলি কলকাতা পুলিশের উপনগরপাল, উদ্বিগ্ন লালবাজার 1