দিতে পারেননি ২০ হাজার টাকা, বিনা চিকিৎসায় অ্যাম্বুলেন্সেই মৃত্যু হল করোনা আক্রান্ত বৃদ্ধার, কাঠগড়ায় বেসরকারি হাসপাতাল

201
দিতে পারেননি ২০ হাজার টাকা, বিনা চিকিৎসায় অ্যাম্বুলেন্সেই মৃত্যু হল করোনা আক্রান্ত বৃদ্ধার, কাঠগড়ায় বেসরকারি হাসপাতাল 1

ওয়েব ডেস্ক : ফের অমানবিকতার নজির বেসরকারি হাসপাতালে। মাত্র ২০ হাজার টাকা দিতে না পারায় বিনা চিকিৎসা বেঘোরে প্রাণ হারালেন এক করোনা রোগী। গত দু’দিন আগেই বেসরকারি হাসপাতালগুলিতে করোনা চিকিৎসার ক্ষেত্রে একাধিক নিয়মে বেঁধে দিয়েছিল স্বাস্থ্য কমিশন৷ বলা হয়েছিল রোগী হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার সময় ৫০ হাজার টাকার বেশি নিতে পারবে না বেসরকারি হাসপাতালগুলি। পাশাপাশি এও জানানো হয় যে রোগী ভর্তির সময় পরিবারকে মোট খরচের পরিমাণ জানিয়ে প্রথমে তার ২০% টাকা নেওয়া যাবে। এই ঘোষণার ৪৮ ঘন্টা কাটতে না কাটতেই কলকাতার বেসরকারি হাসপাতালের বিরুদ্ধে উঠলো অভিযোগ। যদিও বেসরকারি হাসপাতালের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ একেবারেই অস্বীকার করেছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ।

আরও পড়ুন -  ৪৫ বছর পর ফের চীন ভারত সীমান্ত সংঘর্ষ, স্রেফ হাতাহাতি আর পাথরবাজিতেই নিহত ২০ ভারতীয় জওয়ান, হতাহত চীনেরও

জানা গিয়েছে, মৃত ওই বৃদ্ধা পূর্ব মেদিনীপুরের তমলুকের বাসিন্দা। বেশ কিছুদিন ধরেই অসুস্থ ছিলেন তাঁর স্বামী। সেকারণেই কলকাতায় চিকিৎসা করাতে এসেছিলেন ওই বৃদ্ধ দম্পতি। কিন্তু শনিবার আচমকাই মৃত্যু হয় ওই বৃদ্ধার স্বামীর। এদিকে স্বামীর মৃত্যুর খবর শুনে অসুস্থ হয়ে পড়েন বৃদ্ধাও। এরপর পরিবারের তরফে আশঙ্কাজনক অবস্থায় দ্রুত পার্ক সার্কাসের একটি বেসরকারি হাসপাতালে তাঁকে ভর্তি করা হয়। সেখানে তাঁর করোনা পরীক্ষা করা হলে জানা যায়, বৃদ্ধা করোনায় আক্রান্ত। কিন্তু যেহেতু ওই হাসপাতালে করোনা রোগীদের জন্য কোনও চিকিৎসা ব্যবস্থা নেই সেই কারণেই রোগীকে অন্যত্র স্থানান্তরের সিদ্ধান্ত নেয় পরিবার। সেই মতো ওই বৃদ্ধাকে কলকাতার ডিসান হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়।

দিতে পারেননি ২০ হাজার টাকা, বিনা চিকিৎসায় অ্যাম্বুলেন্সেই মৃত্যু হল করোনা আক্রান্ত বৃদ্ধার, কাঠগড়ায় বেসরকারি হাসপাতাল 2

পরিবারের অভিযোগ, ভর্তির জন্য হাসপাতালের তরফে মোট ৩ লক্ষ টাকা দাবি করা হয়। কিন্তু, সেই মূহুর্তে পুরো টাকা না থাকায় ২ লক্ষ ৮০ টাকা জমা দিয়েছিলেন তাঁরা। কিন্তু হাসপাতালের তরফে জানানো হয় ভর্তির সময় বাকি ২০ হাজার টাকা জমা না দিলে রোগীর চিকিৎসা করা সম্ভব হবে না৷ এরপর পরিবারের তরফে আশ্বাস দেওয়া হয় রোগীর চিকিৎসা শুরু করুক হাসপাতাল, বাকি টাকার ব্যবস্থা করে দ্রুত তারা জমা দেবেন। কিন্তু তাতেও চিড়ে ভেজে না। টালবাহানা শুরু করে ডিসান কর্তৃপক্ষ। এই অশান্তির মাঝে গুরুতর অসুস্থ হয়ে শেষমেশ অ্যাম্বুল্যান্সেই মৃত্যু হয় ওই বৃদ্ধার।

আরও পড়ুন -  গালওয়ান উপত্যকায় শহিদ ২ বাঙালী জওয়ান, পরিবারদের আর্থিক সাহায্যের আশ্বাস মমতার

এই ঘটনায় স্বাভাবিকভাবেই হাসপাতালের বিরুদ্ধে ক্ষোভ উগরে দিয়েছেন রোগীর আত্মীয়রা। যদিও রোগী পরিবারের অভিযোগ একেবারেই ভিত্তিহীন বলেই দাবি করেছেন হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। এবিষয়ে ডিসান কর্তৃপক্ষের তরফে জানানো হয়, মৃত অবস্থাতেই ওই রোগীকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল। তাই চিকিৎসা করা সম্ভব হয়নি। তবে এই প্রথম নয়, এর আগে একাধিকবার শহর কলকাতার অমানবিকতার ছবি প্রকাশ্যে এসেছে। রোগী চিকিৎসার আগেই টাকা নিয়ে দর কষাকষিতে প্রাণ গিয়েছে বহু করোনা রোগীর। কিন্তু তাতেও টনক নড়েনি বেসরকারি হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের।