কেশিয়াড়ীতে প্রার্থী করে পুলিন বিহারীর গোঁসা ভাঙল সিপিএম! ঝাড়গ্রামে মধুজাকেই ভাবছে দল

947
কেশিয়াড়ীতে প্রার্থী করে পুলিন বিহারীর গোঁসা ভাঙল সিপিএম! ঝাড়গ্রামে মধুজাকেই ভাবছে দল 1

নিজস্ব সংবাদদাতা: নিজে চেয়েছিলেন গোপীবল্লভপুর বিধানসভা কেন্দ্রের প্রার্থী হতে আর ঝাড়গ্রামে প্রদীপ সরকার দাঁড়াক কিন্তু দলের ভাবনায় ঝাড়গ্রামে দাঁড়াক রাজ্য মধুজা সেন। গোপীবল্লভপুরের জন্যও অন্য ভাবনা দলের, ফলে এক প্রকার গোঁসা ঘরে খিলই দিয়েছিলেন তিনি। সে গোঁসা এতটাই যে প্রার্থী বাছাইয়ের চূড়ান্ত পর্বে প্রায় গরহাজির থেকেই গেছিলেন ঝাড়গ্রাম সিপিএমের জেলা সম্পাদক ডঃ পুলিন বিহারী বাস্কে। ডঃ বাস্কের জন্ম ঝাড়গ্রাম জেলায় হলেও বেড়ে ওঠা, পড়াশুনা পশ্চিম মেদিনীপুর জেলায়। তখন অবিভক্ত পশ্চিম মেদিনীপুর। আর ঝাড়গ্রাম সহ সেই অবিভক্ত পশ্চিম মেদিনীপুরের জেলা পরিষদের সভাধিপতির দায়িত্ব সামলেছেন, পরে ঝাড়গ্রাম সংসদীয় ক্ষেত্রের সাংসদ।

২০১৬ সালে প্রথমে নয়াগ্রামে প্রার্থী হন কিন্তু জোট রাজনীতির স্বার্থে আসনটি কংগ্রেসকে ছেড়ে দিতে হয়েছিল। পরে তিনি দাঁড়ান গোপীবল্লভপুর থেকে। যদিও পরাজিত হন। পার্টি সূত্রে খবর এবারেও গোপীবল্লভপুর থেকেই দাঁড়াতে চেয়েছিলেন তিনি আর ঝাড়গ্রাম আসনে প্রথমে এক মহিলা কমরেডকে দাঁড় করানোর কথা ভাবেন কিন্তু তাঁর জনপ্রিয়তা নিয়ে প্রশ্ন ওঠায় ঝাড়গ্রামের প্রাক্তন পৌরপ্রধান প্রদীপ সরকারের নামই চূড়ান্ত করেন কিন্তু পার্টির অন্য একটি অংশ নতুন মুখ চাইছিলেন।

কেশিয়াড়ীতে প্রার্থী করে পুলিন বিহারীর গোঁসা ভাঙল সিপিএম! ঝাড়গ্রামে মধুজাকেই ভাবছে দল 2

ওই অংশ ঝাড়গ্রামের কৃতী ছাত্রী তথা বর্তমানে রাজ্যের নেত্রী মধুজা সেনকে চাইছিলেন। জানা যায় সিপিএমের রাজ্য কমিটি মধুজাকেই চূড়ান্ত হিসাবে গ্রহণ করে আর এটা বোঝার পরই ব্যথিত হন পুলিন বিহারী। উল্লেখ্য এই ঝাড়গ্রাম আসনটি গত বিধানসভায় ঝাড়খন্ড পার্টি (নরেন)কে ছাড়া হয়েছিল কিন্তু খুব একটা সুবিধা করতে পারেনি তারা। বর্তমানে ওই দলের অবস্থাও খুবই খারাপ ফলে এই আসনে নিজেরাই প্রার্থী দিতে মনস্থ করেছে সিপিএম। আর তারপরই মধুজার কথা ভাবা হয়।

মঙ্গলবার দুই জেলার প্রার্থী পদ নিয়ে চূড়ান্ত পর্যায়ের আলোচনার জন্য রাজ্য বামফ্রন্টের চেয়ারম্যান বিমান বসু মেদিনীপুর শহরে আসেন। পশ্চিম মেদিনীপুর ও ঝাড়গ্রাম জেলার সম্পাদক মন্ডলীর সাথে আলোচনা শুরু হয়। জানা গেছে এই মিটিং প্রথমে এড়িয়ে যান পুলিন বিহারী। জেলা সম্পাদক ছাড়া মিটিং কী ভাবে সম্ভব তাই নিয়ে সমস্যায় পড়েন কমিটির অন্য সদস্যরা। এদিকে ঝাড়গ্রামের কোনও আসনেই তাঁকে প্রার্থী করতে চায়না ঝাড়গ্রাম পার্টির বেশির ভাগ অংশই।

শেষমেশ ঠিক হয় পশ্চিম মেদিনীপুরের কেশিয়াড়ী বিধানসভায় প্রার্থী করা হবে তাঁকে। পার্টির ধারনা পুলিন বিহারীর পড়াশুনা ও বেড়ে ওঠা দাঁতন থানার মেনকাপুর এলাকায়। এখানে তাঁদের পারিবারিক পরিচিতিও যথেষ্ট। জেলাপরিষদের প্রার্থী হয়ে এখান থেকেই প্রথম জয়ী হন তিনি। তাঁর বাবা রাজনৈতিক আক্রোশে খুন হয়েছিলেন এই এলাকাতেই। দাঁতন থানার এই অংশটি কেশিয়াড়ী বিধানসভারই অংশ। ফলে সুবিধা পাবেন তিনি। এই কথা জানানো হয় তাঁকে। এরপরই মিটিংয়ে চলে আসেন পুলিন বিহারী বাস্কে। না, এরপর অবশ্য মধুজা নামে আর আপত্তি ওঠেনি।