সবং শহীদের বদলা সেই অনন্তনাগেই, গুলিতে খতম হিজবুল মুজাহিদিন কমাডেন্ট সহ ৩ জঙ্গি, খতম করল শ্যামলের সহযোদ্ধারাই

127

নরেশ জানা ও নিউজ এজেন্সি: চোখের জল শুকায়নি পশ্চিম মেদিনীপুরের সবং থানার সিংপুর গ্রামের শহীদ শ্যামল কুমার দে র বাবা-মার তারই মধ্যে খুশির খবর এল সেই অনন্তনাগ জেলা থেকেই, সোমবার ভোর রাতে ৩জঙ্গিকে নিকেশ করেছে সিআরপিএফের ৯০ নম্বর ব্যাটেলিয়ানের জওয়ানরা। রবিবার রাত থেকে শুরু হওয়া এই সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে বিজবেহারা থেকে মাত্র ২০ কিলোমিটার দুরে খুলচোহার নামক এলাকায়।

মনে করা হচ্ছে শুক্রবার বিজবেহারার কাছেই জারিপোরা গ্রামের কাছে পড়শাহীবাগ সেতুর কাছে শ্যামলের ওপর হামলার পরে খুলচোহার এলাকায় আশ্রয় নিয়েছিল জঙ্গিরা।
শুক্রবারের হামলার পর থেকেই বদলার তোড়জোড় শুরু হয়ে যায়। সম্ভাব্য সমস্ত এলাকা ঘিরে ফেলা শুরু হয়। সতর্ক করা হয় কুলগাঁও জেলাকে কারন অনন্তনাগের গা ঘেঁষে থাকা বিজবেহারার এই পথেই শুক্রবার পালানোর চেষ্টা করছিল জঙ্গির দলটি। যদিও পড়শাহীবাগের হামলার পর তারা পাহাড়ি পথে আরও দক্ষিনে নেমে খুলচোহার দিয়ে সেই কুলগাঁও দিয়েই পালানোর ছক কষে কারন অনন্তনাগের ভেতরে ঢুকে আসার সব রাস্তাই বন্ধ করে দিয়েছিল যৌথবাহিনী।

রবিবার দুপুর ২টা নাগাদ যখন সিংপুরে নিজের বাড়িতে সাজানো চিতায় পঞ্চভূতে বিলীন হয়ে যাচ্ছিলেন শ্যামল ঠিক তখুনি জম্মু কাশ্মীর পুলিশের জঙ্গি দমন বাহিনীর গোয়েন্দারা নিশ্চিত হয়ে যান খুলচোহারে লুকিয়ে আছে জঙ্গির দল।
এজেন্সির খবর অনুযায়ী জম্মুকাশ্মীর পুলিশ, ভারতীয় সেনার ১৯নম্বর রাষ্ট্রীয় রাইফেল বাহিনী ও সিআরপিএফের ৯০ নম্বর ব্যাটেলিয়ান মিলিত অভিযান শুরু করে বিকাল তিনটে নাগাদ। খুলচোহার ঘিরে ফেলা হয় রাত্রি ৯টা নাগাদ। পরের পদক্ষেপ ছিল খুলচোহারের ভেতরে ঢোকার সেই প্রক্রিয়া শুরু হয় রাত্রি ১০টায়।

আরও পড়ুন -  খড়গপুরে ফের কাউন্সিলার টানলে পুলিশকে দেখে নেওয়ার হুংকার সায়ন্তনের

১১টা নাগাদ যৌথবাহিনীর অস্তিত্ব টের পাওয়ার পরই জঙ্গিরা গুলি বর্ষন শুরু করে পাল্টা জবাব দিতে শুরু করে বাহিনী। সারারাত গুলি বর্ষনের পর সোমবার সকালে তিনজঙ্গির মৃতদেহ উদ্ধার করে যৌথবাহিনী। উদ্ধার হয়েছে ১টি এ.কে- ৪৭ রাইফেল ও ২টি পিস্তল। সেনাবাহিনী জানিয়েছে মৃতদের মধ্যে পাকিস্তান মদতপুষ্ট জঙ্গি সংগঠন হিজবুল মুজাহিদিনের এক শীর্ষ কমান্ডার রয়েছে।

আরও পড়ুন -  ১৫ই এপ্রিল থেকে বুকিং শুরু করল রেল, লকডাউন ওঠার আশায় দেশ

জম্মুকাশ্মীর পুলিশের সূত্রে জানা গেছে এই তিনজনের মৃত্যুকে ধরে এবছরই কাশ্মীর উপতক্যায় মোট ১১৬ জন জঙ্গি নিকেশ হল যার মধ্যে ৭ জন শীর্ষ কমান্ডার রয়েছে। অন্যদিকে এ মাসে এটা ছিল ১৩ নম্বর এনকাউন্টার আর এ মাসেই ৪০ জন জঙ্গি নিকেশ করেছে যৌথবাহিনী। কাশ্মীর পুলিশ সূত্রে জানানো হয়েছে শুক্রবার ঝারিপোরার কাছে এই জঙ্গিদলটি আশ্রয় নিয়েছে খবর পেয়েই অভিযান শুরু করেছিল ৯০নম্বর ব্যাটেলিয়ান। পথে পড়শাহীবাগ সেতুর কাছে এক ৮ বছরের শিশুকে টোপ হিসেবে ব্যবহার করে শ্যামলদের বাহিনীকে বিভ্রান্ত করে গ্রেনেড হামলা চালায় জঙ্গিরা। নিহত হন শ্যামল ও সেই শিশু। ৭২ ঘন্টার মধ্যে সেই হামলার প্রতিশোধ নিয়ে গর্বিত শ্যামলের সহযোদ্ধারা।

সবং শহীদের বদলা সেই অনন্তনাগেই, গুলিতে খতম হিজবুল মুজাহিদিন কমাডেন্ট সহ ৩ জঙ্গি, খতম করল শ্যামলের সহযোদ্ধারাই 1