সবংয়ের পর দাঁতনেও উদ্ধার ১০০ কেজি গাঁজা! ওড়িশা সীমান্তে নাকা তল্লাশিতে বামাল গ্রেপ্তার ৩

688
সবংয়ের পর দাঁতনেও উদ্ধার ১০০ কেজি গাঁজা! ওড়িশা সীমান্তে নাকা তল্লাশিতে বামাল গ্রেপ্তার ৩ 1

সবংয়ের পর দাঁতনেও উদ্ধার ১০০ কেজি গাঁজা! ওড়িশা সীমান্তে নাকা তল্লাশিতে বামাল গ্রেপ্তার ৩ 2নিজস্ব সংবাদদাতা:পশ্চিম মেদিনীপুরের সবং থেকে গাঁজা উদ্ধারের ২৪ঘন্টার মধ্যেই বিপুল পরিমাণ গাঁজা উদ্ধার হল ওড়িশা সীমান্তের দাঁতন থানা এলাকা থেকে। পশ্চিম মেদিনীপুরের দাঁতন থানার অধীন ওড়িশা সীমান্তে সংলগ্ন এলাকা থেকে উদ্ধার হওয়া সেই গাঁজার পরিমান ১০০কেজি বলে জানা গিয়েছে। এরই সাথে তিন ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করতেও সক্ষম হয়েছে পুলিশ। বৃহস্পতিবার সকালে বালেশ্বর-রানীগঞ্জ ৬০ নম্বর জাতীয় সড়কের সোনাকনিয়াতে নাকা তল্লাশি চালানোর সময় একটি চারচাকা গাড়ির পেছনের অংশে প্যাকেটবন্দি অবস্থায় রাখা ছিল ওই গাঁজা। যা তল্লাশিতে ধরা পড়ে যায়।

পুলিশ সূত্রে জানা যায় ওড়িশার দিক থেকে আগত ওই গাড়িটির আরোহীরা দূর থেকেই লক্ষ্য করেছিল যে নাকা তল্লাশি চলছে। বিষয়টা বুঝতে পেরেই গাড়ি ঘুরিয়ে ফের ওড়িশার দিকেই পালানোর চেষ্টা করে তারা কিন্তু পুলিশও বিষয়টি নজর রাখছিল। গাড়িটি থমকে পিছনে যাওয়ার প্রস্তুতি নিতেই সন্দেহ হয় পুলিশের। সাথে সাথেই পুলিশও ধাওয়া করে গাড়িটিকে। অবশেষে কিছুটা দুরত্বেই আটকানো সম্ভব হয় গাড়িটিকে। এরপরই গাড়ি তল্লাশিতে পেছনের ডিকি থেকে বেরিয়ে পড়ে ২৫টিরও বেশি প্যাকেট।

সবংয়ের পর দাঁতনেও উদ্ধার ১০০ কেজি গাঁজা! ওড়িশা সীমান্তে নাকা তল্লাশিতে বামাল গ্রেপ্তার ৩ 3

পুলিশ জানিয়েছে, উদ্ধার হওয়া  ওই ১০০কিলো  গাঁজার বাজার মূল্য প্রায় ৬লক্ষ টাকা। প্রাথমিক ভাবে পুলিশের অনুমান গাঁজা ওড়িশার গঞ্জাম জেলা থেকে যাচ্ছিল দক্ষিণ ২৪পরগনায়। তবে সেখানেই গাঁজার চুড়ান্ত যাত্রা নাকি জলপথ ধরে গাঁজা বাংলাদেশেও পাচার হত তা খতিয়ে দেখছে পুলিশ। পুলিশের এক আধিকারিক জানিয়েছেন, ‘ওড়িশা থেকে বাংলা হয়ে গাঁজা বিভিন্ন পথে বিভিন্ন জায়গায় ছড়িয়ে পড়ে। করোনা পরিস্থিতির আগে ট্রেন এবং সড়ক উভয় পথেই এই পাচার চক্র সক্রিয় ছিল। লকডাউন পর্বে তা পুরোপুরি সড়ক নির্ভর হয়ে পড়ে। এর আগেও বেশ কয়েকবার এভাবেই গাঁজা ধরা পড়েছে গাড়ি সহ।’

ধৃতদের পরিচয় জানাতে গিয়ে পুলিশ বলেছে, ধৃতরা হল দক্ষিণ ২৪ পরগনার মন্দির বাজারের বাসিন্দা রাজু সর্দার এবং ওড়িশার চন্ডিপাদা এলাকার বাসিন্দা বিকাশরঞ্জন ভুটিয়া, বৈরাগী ভুটিয়া। খড়গপুরের দায়িত্বপ্রাপ্ত পশ্চিম মেদিনীপুরের অতিরিক্ত পুলিশ রানা মুখোপাধ্যায় জানিয়েছেন, ‘ধৃতদের আদালতে পেশ করার পর আমাদের হেফাজতে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে।’

উল্লেখ্য মঙ্গলবার সবং থানার পুলিশ বিশেষ অভিযান চালিয়ে পাচারের আগেই উদ্ধার করেছিল ৫ কেজি গাঁজা। পাচারকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগে একজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। জানা গেছে’ ধৃত ব্যাক্তির বাড়ি পশ্চিম মেদিনীপুর জেলার সবং থানার ১১নং মোহাড় অঞ্চলের দুবরাজপুর গ্রামে। সবং থানার ভারপ্রাপ্ত পুলিশ আধিকারিক (OC) গৌতম মাইতির নেতৃত্বে একদল পুলিশ আধিকারিক মঙ্গলবার রাতে মোহাড়ের দুবরাজপুর এলাকায় রীতিমত ওঁত পেতে গাঁজা সহ ওই পাচারকারীকে বামাল পাকড়াও করেন। দড়কাতলা গ্রামের রাস্তা দিয়ে কাটাখালি অভিমুখে গাঁজা পাচার করা হচ্ছিল বলে পুলিশ জানিয়েছে। ধৃত রামকৃষ্ণ মন্ডল সবং থানার দুবরাজপুর গ্রামের বাসিন্দা বলে জানা গেছে।