দিনে দুপুরে ঘরের মধ্যেই গলার নলি কেটে খুন বৃদ্ধাকে, ৬ ঘন্টা পেরিয়েও দাসপুরে ধন্দে পুলিশ

552
দিনে দুপুরে ঘরের মধ্যেই গলার নলি কেটে খুন বৃদ্ধাকে, ৬ ঘন্টা পেরিয়েও দাসপুরে ধন্দে পুলিশ 1

দিনে দুপুরে ঘরের মধ্যেই গলার নলি কেটে খুন বৃদ্ধাকে, ৬ ঘন্টা পেরিয়েও দাসপুরে ধন্দে পুলিশ 2নিজস্ব সংবাদদাতা: তিন তলা পাকা বাড়ি, প্রাচীর দিয়ে ঘেরা। সম্পন্ন পরিবার, মাত্র ৪ জনের সংসার। সেই সম্পন্ন বাড়ি আবার হাট খোলা বাজারের ওপর, থানা মেরে কেটে ৭০০ মিটার। এমন বাড়ির মধ্যেই নিজের শোবার ঘরের মেঝেতে গলার নলি কাটা অবস্থায় পড়ে রয়েছেন ৫৯ বছরের বয়স্কা গিন্নি। পুত্রবধূ রান্না ঘরে রান্না করছেন, পরিবারের কর্তা বাড়ির অদুরেই মন্দিরে কুলদেবতার পূজা করছেন আর একমাত্র পুত্র বেসরকারি অফিসে কাজে গিয়েছেন। বেলা আনুমানিক দেড়টা!

দিনে দুপুরে ঘরের মধ্যেই গলার নলি কেটে খুন বৃদ্ধাকে, ৬ ঘন্টা পেরিয়েও দাসপুরে ধন্দে পুলিশ 3শুক্রবার পশ্চিম মেদিনীপুর জেলার দাসপুর থানার দাসপুর বাজারেই শ্যামসুন্দরপুর এলাকার ঘটনাকে ঘিরে রহস্য ঘনীভূত হয়েছে। খুনের মোটিভ, খুনি চিহ্নিত করা তো দূরের কথা ঘটনার কুল কিনারা করতে পারছেনা পুলিশ। গত ৬ঘন্টা ধরে চলছে জিজ্ঞাসাবাদ কিন্তু এখনও অবধি নো ক্লু! পুলিশ জানিয়েছে মৃতা বৃদ্ধার নাম মৌসুমী গোস্বামীর বয়স ৫৯, স্বামী নিমাই গোস্বামী স্নানান্তে কুলদেবতার পুজো সেরে গিয়েছিলেন স্ত্রীকে ডাকতে। স্ত্রী তখন নিচের তলায় নিজের শোবার ঘরে ছিলেন। গিয়েই দেখেন রক্তাপ্লুত অবস্থায় পড়ে আছেন স্ত্রী। সঙ্গে সঙ্গে চিৎকার করে ডাকেন পুত্রবধূ সুস্মিতাকে।

সুস্মিতা তখন রান্না করছিলেন। ছুটে আসেন সুস্মিতা। এরপরই নিমাই ফোন করেন পুত্র শুভজিৎকে। বেসরকারি সংস্থার কর্মী শুভজিৎ ফোন পেয়ে ছুটে আসেন। এরপরই শুভজিৎ ফোন করেন পুলিশকে। তৎক্ষণাৎ চলে আসেন দাসপুর থানার ভারপ্রাপ্ত আধিকারিক সুদীপ ঘোষাল। ঘটনার গুরুত্ব বুঝে চলে আসেন ঘাটালের এসডিপিও অগ্নিশ্বর চৌধুরী। মৃতদেহ উদ্ধারের পাশাপাশি চলে খানা তল্লাশি কিন্তু মেলেনি কোনোও সূত্র। বাড়ি থেকে কোনোও জিনিস খোয়া যায়নি বা চুরি বা লুটপাটের কোনও চিহ্ন আপাত ভাবে নজরে পড়েনি।

আরও পড়ুন -  রাস্তায় রিমা আকাশ শ্রাবণী শান্তনুরা, নির্ভয়ে ভিকি টমি কালু লালুর দল

উঁচু প্রাচীর দিয়ে ঘেরা বাড়িতে ভর দুপুরে বাড়ির মধ্যে বাইরের লোক ঢুকল কী করে যদি অবশ্য বাইরের লোক ঘটনা ঘটায়। বাইরের লোক যদি ঘটনা ঘটায় কেন ঘটাবে? লুটপাটের চিহ্ন নেই তবে সামান্য ধস্তাধস্তির চিহ্ন রয়েছে। খাট থেকে মেঝেতে পড়ে বালিশ।

আরও পড়ুন -  সুশান্তের পরিবার চাইলে সিবিআই তদন্ত হতে পারে, জানালেন মুখ্যমন্ত্রী

ঘটনার সময় কোনোও চিৎকার চেঁচামেচি হয়নি। অপরিচিত লোক হলে বৃদ্ধা সেটা করতেন! বাড়ির কেউ যদি এই ঘটনা ঘটায় তবে কেন ঘটাবে? কী স্বার্থ? আবার বাড়ির লোকেরা কী পেশাদারি খুনির মত গলার নলি কেটে খুন করতে পারে? তাহলে কী পরিচিত কেউ ভাড়াটে খুনি দিয়ে এই কাজ করালো? কিন্তু করাবে কেন? পরিবারের সদস্যদের, প্রতিবেশীদের জিজ্ঞাসাবাদ করে রহস্যের কিনারা করতে চাইছে পুলিশ কিন্তু এখনও অবধি তেমন কোনোও অগ্রগতি হয়নি।

আরও পড়ুন -  সংঘাত নয়, থাকতে হবে সহাবস্থানে, সতর্কতায়! বন ও বন্য প্রান রক্ষায় শুরু হল জঙ্গল সাথী

পশ্চিম মেদিনীপুর জেলা পুলিশের এক কর্তা জানিয়েছেন, “অদ্ভুত রহস্যময় একটা ঘটনা। সচরাচর এরকম ঘটনা ঘটেনা। অপরাধ জগতে এই ঘটনা রীতিমত ব্যতিক্রম যার রহস্য উদঘাটন করতে পারলে আমরা নতুন কিছু দিক পেতে পারি। একটা মিসিং লিংক রয়েছে কোথাও যেটা সাদা চোখে ধরা পড়ছেনা কিন্তু আমাদের বিশ্বাস শেষ অবধি খুনি ধরা পড়বেই। আমাদের যথেষ্ট দক্ষ আধিকারিকরা মামলা টি নিয়ে পড়ে রয়েছে।”

দিনে দুপুরে ঘরের মধ্যেই গলার নলি কেটে খুন বৃদ্ধাকে, ৬ ঘন্টা পেরিয়েও দাসপুরে ধন্দে পুলিশ 4