দাসপুরের দুধ সাপটি আসলে শ্বেত কালাচ, বড় বিপদ থেকে রক্ষা পেয়েছেন মানুষ! জানালেন বনকর্মীরা

1318
Advertisement

নিজস্ব সংবাদদাতা: বুধবার পশ্চিম মেদিনীপুরের দাসপুর থানা এলাকা থেকে উদ্ধার হওয়া দুধ সাদা রঙের সাপটি আসলে বিরল প্রজাতির শ্বেত কালাচ সাপ যা স্থানীয় ভাবে ডোমনা চিতি নামেই পরিচিত। সাপটির এমন দুধ সাদা রঙ দেখে স্থানীয় মানুষ বিস্মিত হয় আর ঘটনা চক্রে সেটি একটি শিব মন্দিরে আশ্রয় নেওয়ায় ধর্ম বিশ্বাসী মানুষ সেটিকে পুজো করতে শুরু করেন । যদিও বনদপ্তরের বক্তব্য সাপটি পূর্ন বয়স্ক এবং যথেষ্টই বিষ ধারণ করেছিল যদি কোনোও কারনে সেটি কাউকে ছোবল দিত তাহলে মারাত্মক দুর্ঘটনা ঘটে যেতেই পারত। কিন্তু যে কোনও কারণেই হোক সাপটি আহত হয়েছিল বলেই তার ক্ষিপ্রতা কম থাকায় সে নড়াচড়া করতে পারেনি।

Advertisement

মঙ্গলবার থেকে পশ্চিম মেদিনীপুর দাসপুর থানার খানজা মনোহরপুর গ্রামের বাসিন্দা হারাধন হাজরা-র বাড়ির সংলগ্ন শিব মন্দিরে সাপটি নজরে আসে। বাঁশের বেড়া দিয়ে ঘেরা ওই মন্দিরে শিবের অনুচর নন্দীর কংক্রিট মূর্তির আড়ালে আশ্রয় নিয়েছিল আহত সাপটি। মঙ্গলবার সকালে সাদা রঙের একটি সাপকে মূর্তির পাশে দেখতে পান হারাধন বাবু। খানিকটা আতঙ্কিত হয়ে পড়েন। গ্রামবাসীদের দেখাতে অনেকেই আবার ঠাকুরের সাপ মনে করে ভক্তি শ্রদ্ধা দেখাতে শুরু করেছিলেন।

Advertisement
Advertisement

যদিও গ্রামের কিছু শুভানুধ্যায়ী মানুষ মঙ্গলবার বিকেলে গ্রামবাসীরা বনদপ্তরে জানায়। বুধবার সকালে গ্রামে হাজির হয় বনদপ্তর এর কর্মীরা। সাপটিকে ধরে নিয়ে গিয়েছে বনদপ্তর। বন কর্মীরা জানিয়েছেন বিরল প্রজাতির শ্বেত সাপ কালাচ সাপ এটি। প্রাথমিক চিকিৎসার পর জঙ্গলে ছেড়ে দেওয়া হবে। কালাচ সাপ সাধারন ভাবে কালো হলেও জিন গত অসামঞ্জস্য কারনে সাধারন ভাবে কিছু কালাচের রঙ ধবধবে সাদা হয়ে যায়। বাংলায় দুধে খরিস কিংবা শাঁখামুঠি জাতীয় আরও দুটি সাদা বা সাদাটে সাপ দেখা যায় কিন্তু তার কোনোটাই শ্বেত কালাচের মত ধবধবে সাদা নয়।

সর্প বিশারদদের মতে শ্বেত কালাচ কোনও আলাদা প্রজাতি এমনটা প্রমান মেলেনি বরং তার সমস্তটাই সাধারন কালো কালাচের মতই এবং এটি আদতে কালাচ সাপই। জিনের ব্যতিক্রমী আচরনে এর গাত্র বর্ণ সাদা হয়ে পড়েছে যা অত্যন্ত বিরল ঘটনা হয়ত হাজারে বা লাখে একটি এমন ব্যতিক্রম হয়ে থাকে। কিন্তু এটা হয়ে থাকে বলেই এর নামকরন হয়ে আছে শ্বেত কালাচ। গত তিনবছরে পশ্চিম মেদিনীপুরের কয়েকটি জায়গায় এরকম তিন থেকে চারটি সাপের সন্ধান মিলেছে।

সর্প বিশারদদের মধ্যে অত্যন্ত বিষধর এই কালাচ সাপ যার কামড়ে বাংলাদেশে প্রচুর মৃত্যুর ঘটনা ঘটে। যে কারনে সাদা সাপ বলে অহেতুক কৌতূহল না দেখানো উচিত বরং সাপটিকে লোকালয়ের বাইরে চলে যেতে ব্যবস্থা করে দেওয়া কিংবা বনকর্মীদের খবর পাঠানোই শ্রেয়।