পথের কাঁটা সরাতে প্রেমিক পুরোহিতকে সঙ্গে নিয়েই শাশুড়িকে খুন পুত্রবধুর! দাসপুর বৃদ্ধা খুনের রহস্য উন্মোচন

1322
পথের কাঁটা সরাতে প্রেমিক পুরোহিতকে সঙ্গে নিয়েই শাশুড়িকে খুন পুত্রবধুর! দাসপুর বৃদ্ধা খুনের রহস্য উন্মোচন 1

নিজস্ব সংবাদদাতা: দুপুরে স্বামী বেরিয়ে যাওয়ার পর শিশুকন্যাটি ঘুমিয়ে পড়ত, দিবা নিদ্রায় যেতেন শ্বশুরও কিন্তু ঘুমোতেন না শাশুড়ি। শাশুড়ি মৌসুমী গোস্বামী শুধু জেগেই থাকতেন না, এঘর ওঘর করে বেড়াতেন। আর তিনিই জানতে পেরেছিলেন বাড়ির কুলপুরোহিতের সাথে পুত্রবধূর সম্পর্কটা স্বাভাবিক নয় আর ছিলেন তক্কে তক্কে। আর সেভাবেই একদিন আপত্তিকর অবস্থায় দেখে ফেলেছিলেন দুজনকে। আর তখন থেকেই প্রেমের পথের কাঁটা সরানোর জন্যই ছক কষে ছিলেন শাশুড়িকে দুনিয়া থেকে সরিয়ে দেওয়ার। শুক্রবার দুপুর বেলা দেড়টা নাগাদ সেই রিরংসারই বলি হলেন ৫৯ বছরের মৌসুমী।পথের কাঁটা সরাতে প্রেমিক পুরোহিতকে সঙ্গে নিয়েই শাশুড়িকে খুন পুত্রবধুর! দাসপুর বৃদ্ধা খুনের রহস্য উন্মোচন 2

টানা ১০ঘন্টা জেরার পর পুলিশ উন্মোচন করল দাসপুরের শ্যামসুন্দরপুরের বৃদ্ধা খুনের রহস্যে। গ্রেপ্তার করা হয়েছে পুত্রবধূ সুস্মিতা ও পুরোহিত গোরাচাঁদ মুখোপাধ্যায়কে। উল্লেখ্য পশ্চিম মেদিনীপুরের দাসপুর বাজারের ওপর শ্যামসুন্দরপুরে মৌসুমী খুন হয়েছিলেন প্রাচীর দিয়ে ঘেরা সুরম্য তিনতলা বাড়ির নিচের তলায় নিজের শোবার ঘরে। দুপুর দেড়টা, বৃদ্ধার স্বামী নিমাই গোস্বামী স্নানান্তে কুলদেবতার পূজায় ব্যস্ত, পুত্র শুভজিৎ কর্মক্ষেত্রে, পুত্রবধূ সুস্মিতা ‘রান্না’ করছিলেন আর শিশুকন্যাটি বাড়ির অন্যত্র। পরিবারের সদস্য ছাড়া আর কে এই খুন করতে পারে এ নিয়ে ধন্দে পড়ে যায় পুলিশ।

পুলিশের এক আধিকারিক জানান, ” ধন্দের কারন বাড়ির ভেতর থেকে কোনও লুটপাট হয়নি, লুটপাটের চেষ্টাও হয়নি অর্থাৎ লুটপাটের কোনও মোটিভ ছিলনা। দ্বিতীয়ত, বাড়ির ভেতরে অপরিচিত মানুষ দেখলে সাধারন ভাবে চিৎকার চেঁচামেচি হয়ে থাকে কিন্তু এক্ষেত্রে কোনও আওয়াজ হয়নি। প্রাচীর ঘেরা বাড়িতে অন্য কারও ঢোকা সাধারন ভাবে সম্ভব নয় কিন্তু খুনের ধরন অত্যন্ত পেশাদারি যা পরিবারের সদস্যদের পক্ষে বিশেষ করে বৃদ্ধ কিংবা পুত্রবধূর একার পক্ষে এটা করা সম্ভব নয়। যে কেউ হঠাৎ করে একা একা গলার নলি কেটে কাউকে খুন করতে পারেনা। একমাত্র পেশাদারি খুনিই একা একা এটা করতে পারে অথবা একাধিক ব্যক্তি মিলে এধরনের খুন করতে পারে তাও কোনও নির্দিষ্ট স্বার্থ পূরনে ওই একাধিক ব্যক্তির একাগ্রতা থাকতে হবে।”

আরও পড়ুন -  শ্যামলদের ফাঁদে ফেলতে ৮ বছরের শিশুকেই টোপ বানিয়েছিল কাপুরুষ জঙ্গীরা

ওই আধিকারিক বলেন, ” বাড়িতে শ্বশুর ও পুত্রবধূ। এই দুজনে মিলে খুনটা করতেই পারে কিন্তু এক্ষেত্রে ২ জনের কমন ইন্টারেস্ট বা সাধারন স্বার্থ কী? জিজ্ঞাসাবাদে তেমন কোনও স্বার্থ মেলেনি। গোড়া থেকেই একটা বিষয় পরিষ্কার হয়ে যাচ্ছিল যে পরিবারের কেউ ঘটনায় জড়িত কিন্তু বাইরের লোকের সহায়তায় কাজটি হয়েছে। পরিবারের সদস্যই বাইরের লোককে ভেতরে আসার সুযোগ করে দিয়েছে। প্রশ্ন হচ্ছে পরিবারের সেই ব্যক্তি কে এবং খুনের পেছনে তার মোটিভ কী? এই কারনেই আমরা বৃদ্ধার ছেলে, ছেলের বউ এবং স্বামীকে টানা জেরা করতে থাকি। এই টানা জেরার মুখে তিনজনের কাছ থেকেই একটি সাধারন বিষয় বেরিয়ে আসে তা’হল পুত্রবধূ ও শাশুড়ির সম্পর্ক ইদানিং ভাল যাচ্ছিলনা। যদিও ঘটনাটি কিছু অস্বাভাবিক নয়। শাশুড়ি আর পুত্রবধূর সম্পর্ক অনেক ক্ষেত্রই খারাপ থাকে কিন্তু তার জন্য সাধারণ ভাবে পরস্পর পরস্পরকে খুন করেনা। তাহলে? তাহলের উত্তরটা মেলে ওই ‘ইদানিং’ শব্দটার মধ্যেই। ইদানিং কেন সম্পর্ক খারাপ হল তারই দীর্ঘ জেরায় উঠে আসে বাড়ির পুরোহিতের সঙ্গে পুত্রবধূর প্রেম কাহিনী এবং তারও চেয়ে বেশি কিছু যা দেখে ফেলেছিলেন শাশুড়ি।”

আরও পড়ুন -  বাজারে আসার পথে গোপীবল্লভপুরে দুর্ঘটনায় মৃত্যু হেলমেট বিহীন বাইক আরোহীর

এখনও অবধি যেটুকু জানা গেছে। পরিবারের কর্তা নিমাই গোস্বামী যেমন কুলদেবতার পুজো করতে স্নান সেরে মন্দিরে গিয়েছিলেন ঠিক তেমনই স্নান সেরে কাপড় বদলাতে নিজের ঘরে ঢুকেছিলেন পরিবারের গিন্নি মৌসুমী। এই সময়েই ঘরে ঢুকে পড়েন প্রেমিক পুরোহিত গোরাচাঁদ। পরিকল্পনা মত সুস্মিতা রান্না ঘর থেকে ঢুকে পড়ে শাশুড়ির ঘরে। মৌসুমী তখন সবে সায়া পরেছেন কিন্তু শাড়ি পরার সুযোগ পাননি। সেই অবস্থাতেই দুজনে মিলে জাপটে ধরে মৌসুমীকে। মৌসুমী হতবাক হয়ে নিজের সম্ভ্রম বাঁচাতে সায়াটি বুকের কাছে টেনে নিয়েছিলেন যা মৃত্যুর পরেও সেই রকমই হাতে ধরা অবস্থায় ছিল। মাটিতে পড়ে যান বৃদ্ধা। এরপর সুস্মিতা বালিশ দিয়ে মুখ চেপে ধরেন বৃদ্ধার। এর ফলে জ্ঞান হারান বৃদ্ধা। তারপরই গোরাচাঁদ ধারালো ছুরির সাহায্যে গলার নলি কেটে ফেলে বৃদ্ধার।

আরও পড়ুন -  সেশন কোর্টে বড়ো ধাক্কা, মাদককাণ্ডে রিয়া সহ ৬ অভিযুক্তের জামিন খারিজ আদালতের

এরপর সুস্মিতা রান্নার কাজে চলে যান আর পুরোহিত বেরিয়ে যান। কাপড় পাল্টে দেবতার কাছে আসতে এত দেরি হচ্ছে কেন খোঁজ নিতে গিয়ে নিমাই স্ত্রীকে পড়ে থাকতে দেখেন এবং ছেলেকে ফোন করে জানান। ছেলে এসে ঘটনা দেখার পর ফোন করে পুলিশকে। মাত্র ৭০০ মিটারের মধ্যেই থানা থেকে ছুটে আসে পুলিশ। গোটা ঘটনার তদন্ত শুরু করেন দাসপুরের ভারপ্রাপ্ত পুলিশ আধিকারিক সুদীপ ঘোষাল। আর নেতৃত্বে ছিলেন ঘাটালের এসডিপিও অগ্নিশ্বর চৌধুরী। প্রায় ৯ ঘন্টার জেরায় শেষ অবধি ভেঙে পড়েন সুস্মিতা। রাতেই তুলে আনা হয় পুরোহিত গোরাচাঁদকে। খুনে ব্যবহৃত অস্ত্র বাড়ির সোকপিটে লুকিয়ে রাখা হয়েছিল যা পুলিশ শনিবার সকালে উদ্ধার করেছে।

পথের কাঁটা সরাতে প্রেমিক পুরোহিতকে সঙ্গে নিয়েই শাশুড়িকে খুন পুত্রবধুর! দাসপুর বৃদ্ধা খুনের রহস্য উন্মোচন 3