মিথ্যে চুরির অপবাদে যৌনাঙ্গে লাঠি ঢুকিয়ে নৃশংস অত্যাচার, মৃত গৃহবধূ, অভিযুক্তদের ফাঁসির দাবিতে ফুঁসছে ভাঙড়

583
মিথ্যে চুরির অপবাদে যৌনাঙ্গে লাঠি ঢুকিয়ে নৃশংস অত্যাচার, মৃত গৃহবধূ, অভিযুক্তদের ফাঁসির দাবিতে ফুঁসছে ভাঙড় 1
মিথ্যে চুরির অপবাদে যৌনাঙ্গে লাঠি ঢুকিয়ে নৃশংস অত্যাচার, মৃত গৃহবধূ, অভিযুক্তদের ফাঁসির দাবিতে ফুঁসছে ভাঙড় 2

ওয়েব ডেস্ক : চোর অপবাদ দিয়ে দিনে দুপুরে এক গৃহবধূকে যৌনাঙ্গে লাঠি ঢুকিয়ে নৃশংস অত্যাচারের অভিযোগ উঠলো এলাকারই এক ব্যবসায়ী ও তাঁর লোকজনের বিরুদ্ধে। পাশবিক অত্যাচারে মৃত্যু হয়েছে ওই গৃহবধূর। শুক্রবার নৃশংস এই ঘটনাটি ঘটেছে ভাঙড়ের চিনেপুকুর গ্রামে। ঘটনায় অভিযুক্ত ৪ জনকে ইতিমধ্যেই গ্রেফতার করেছে কাশীপুর থানার পুলিশ। এদিকে গৃহবধূর মৃত্যুর পর থেকেই উত্তপ্ত হয়ে র‍য়েছে গোটা গ্রাম। অভিযুক্তদের ফাঁসির দাবিতে সরব হয়েছে গ্রামবাসীরা। অভিযোগ, শুক্রবার সকালে মইবুল মোল্লা নামে এলাকার এক ব্যবসায়ীর সাঙ্গপাঙ্গরা স্থানীয় এক বাসিন্দার বাড়িতে এসে তাকে অন্য কথা বলে বাড়ি থেকে ডেকে নিয়ে যায়। এরপর ওই ব্যক্তির বিরুদ্ধে ২ লক্ষ টাকা চুরির অভিযোগ তোলে ব্যাবসায়ী মইবুল মোল্লা।

অভিযোগ, মইবুলের কাছ থেকে এক টাকাও নেয়নি ওই ব্যক্তি। এই কথা বলতেই তাকে ঘরে আটকে প্রায় ৪০ জন লোক মিলে ওই ব্যক্তিকে মারধর করে। প্রাণ বাঁচাতে চুরির কথা স্বীকার করে টাকা ফেরত দেওয়ার প্রস্তাব দেন স্থানীয় ওই ব্যক্তি। কিন্তু তাতেও শান্ত হয়না মইবুল ও তাঁর লোকজন। ফের তারা গ্রামে গিয়ে ওই ব্যক্তির স্ত্রীর চুলের মুঠি ধরে টানতে টানতে মইবুলের ডেরায় নিয়ে আসে। সেখানেই ওই গৃহবধূর সাথে নারকীয় অত্যাচার করতে থাকে দুষ্কৃতিরা। ঘটনায় মৃতা গৃহবধূর স্বামীর অভিযোগ, স্ত্রীকে বাঁশের সাথে ঝুলিয়ে পেটাতে শুরু করে মইবুলের লোকেরা। ঘটনায় মৃতা গৃহবধূর দিদির অভিযোগ, শুধু মারধর করা হয়নি। পাশাপাশি তাঁর বোনের গোপনাঙ্গে কাঠ ঢুকিয়ে অত্যাচার চালিয়েছে দুষ্কৃতিরা। ক্ষত এতটাই গভীর যে অচৈতন্য হয়ে যায় ওই গৃহবধূ।

মিথ্যে চুরির অপবাদে যৌনাঙ্গে লাঠি ঢুকিয়ে নৃশংস অত্যাচার, মৃত গৃহবধূ, অভিযুক্তদের ফাঁসির দাবিতে ফুঁসছে ভাঙড় 3

এদিকে ইতিমধ্যেই এই খবর ছড়িয়ে পড়েছে গোটা গ্রামে। গ্রামবাসীরাই পুলিশকে খবর দেয়। এদিকে খবর পেয়ে তড়িঘড়ি ঘটনাস্থলে পৌঁছায় কাশীপুর থানার পুলিশ। এরপর গুরুতর জখম অবস্থায় স্বামী-স্ত্রীকে উদ্ধার করে স্থানীয় হাসপাতালে নিয়ে যায় পুলিশ। কিন্তু গৃহবধূর যৌনাঙ্গের ক্ষত এতটাই মারাত্মক যে এর জেরে তাঁর শারীরিক অবস্থার ক্রমশ অবনতি হতে থাকে। ফলে হাসপাতালের তরফে তাঁকে এসএসকেএম হাসপাতালে স্থানান্তরিত করা হয়। সেখানে মৃত্যু হয় গৃহবধূর।

এদিকে স্ত্রীর মৃত্যুর পর এই ঘটনায় অভিযুক্ত ব্যবসায়ী মইবুল সহ একাধিক ব্যক্তির বিরুদ্ধে খুনের অভিযোগ দায়ের করেছেন মৃতার স্বামী। পাশাপাশি এদিন তিনি বলেন, “আমি চুরি করিনি। মিথ্যে কথা বলে ডেকে নিয়ে গিয়ে চুরির অপবাদ দিয়ে আমাকে প্রথমে মারধর করেছে। তারপর মারধর করেছে আমার স্ত্রীকে। আমি দোষী হলে পুলিশে যেতে পারত।” এখানেই শেষ নয়। শুক্রবারের এই ঘটনার পর থেকেই ক্ষোভে ফুঁসছে গোটা গ্রাম। মইবুলের গ্রেফতারের পর ঘটনায় অভিযুক্তদের প্রত্যেকের ফাঁসির দাবিতে শনিবার সকাল থেকেই মইবুল মোল্লার দোকানের সামনে বিক্ষোভ দেখাতে থাকেন গ্রামবাসীরা। সকলের মুখে একটাই কথা, মিথ্যে চুরির অপবাদে যেভাবে ওই গৃহবধূকে তার যৌন হেনস্থা করা হয়েছে তাতে অভিযুক্তদের ফাঁসি দিতে হবে।