বিডিও গিয়ে ত্রান দিলেন দেবের জ্যাঠার বাড়িতে,একের পর এক ত্রান নিয়ে তৃনমূল নেতারা

3360
বিডিও গিয়ে ত্রান দিলেন দেবের জ্যাঠার বাড়িতে,একের পর এক ত্রান নিয়ে তৃনমূল নেতারা 1

নিজস্ব সংবাদদাতা: সকাল থেকে ত্রানের ঢল নামল কেশপুরের মহিষদা গ্রাম সাংসদ দেবের জ্যাঠতুতো ভাই বিক্রম অধিকারীর বাড়িতে। রবিবার সকালে একজন সহকারীকে নিয়ে ত্রান পৌঁছে দেন কেশপুরের বিডিও দীপক ঘোষ স্বয়ং।  দুপুর গড়াতেই পৌঁছে যান কেশপুর পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতি শুভ্রা দে সেনগুপ্ত ও স্থানীয় উপপ্রধান সেক মোজাম্মেল। তাঁরাও ত্রান তুলে দিয়ে আসেন। কেশপুর গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকার তৃণমূল অঞ্চল সভাপতি সেক ইজাহার আলি বিক্রমকে বাড়িতে ডেকে চাল আলু তুলে দিয়েছে। সাংসদের ভাইয়ের রেশনের কি দরকার বলে যে তৃণমূল নেতারা এতদিন বিক্রমকে খিল্লি করে এসেছেন তাঁরাও রবিবার ভিড় জমিয়েছেন বিক্রমের বাড়ির প্রাঙ্গনে। আর সবাই মিলে দোষটা চাপিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করেছেন বিক্রমেরই ওপরে, যেন সব দোষটা তারই। তিনিই রেশন কার্ড করেননি, তিনিই মায়ের বার্ধক্যভাতার জন্য আবেদন করেননি, তিনিই আবেদন করেননি প্রধানমন্ত্রী আবাস যোজনার বাড়ির জন্য!

বিক্রম অবশ্য সংবাদমাধম্যের সামনেই বলেছেন, আমি আমার মায়ের বার্ধক্যভাতার জন্য বিডিও অফিসে গেছিলাম তখন আমার সামনেই একজন ওই অফিসারকে ফোন করে বলে, আমি না বলা অবধি কারও বার্ধক্য ভাতা করা যাবেনা। কেশপুর পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতি বলেছেন, ‘উনি রেশন কার্ড সংশোধনের জন্য আবেদন করেননি। হয়ত বাসের হেল্পারি করার জন্য সময় পাননি।’অর্থাৎ বিক্রম রেশন কার্ডের জন্য আবেদন করেছিলেন কিন্তু সংশোধনের জন্য জানাননি। হতেই পারে এটা, গ্রামের সবাই সচেতন নন তাই এটা দেখার দায়িত্ব স্থানীয় পঞ্চায়েতের। ভোটের সময় যেমন বাড়ি বাড়ি গিয়ে ভোট চাইতে হয় তেমনই সরকারি প্রকল্প পাওয়ার জন্য বাড়ি বাড়ি গিয়ে পরিবারকে বলতে হয় আবাস যোজনা, রেশন কার্ড, নির্মল বাংলা মিশন কিংবা বিধবা ভাতা, বার্ধক্যভাতা পাওয়ার নিয়ম এবং প্রয়োজনে হাতে ধরে পঞ্চায়েতকেই আবেদনপত্র পূরণ করে দিতে হয়।

বিডিও গিয়ে ত্রান দিলেন দেবের জ্যাঠার বাড়িতে,একের পর এক ত্রান নিয়ে তৃনমূল নেতারা 2

দ্বিতীয়ত মূখ্যমন্ত্রী ঘোষনা করেছেন যাঁদের রেশন কার্ড নেই তাঁরাও রেশন পাবেন তাহলে বিক্রম অধিকারী পেলেননা কেন? বিক্রম বলছেন আমি স্থানীয় নেতা, প্রধানের স্বামীর কাছে গেছিলাম উনি বলে দিয়েছেন,তুই সাংসদের ভাই তোর আবার রেশন কী দরকার! শনিবার সংবাদমাধ্যমে খবর বেরুনোর পরই ত্রানের মেলা লেগে গেছে মহিষদা গ্রামে। আর কল্পতরু হয়ে গেছেন স্থানীয় পঞ্চায়েত সমিতি আর গ্রাম পঞ্চায়েত। সব সব কিছু করে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি পেয়েছেন বিক্রম ও তার পরিবার। বিক্রম বলেছেন, ভাল লাগছে এসব শুনে এখন সমস্ত কিছু পেলে আরও ভাল লাগবে।
সাংসদের ভাই বিক্রমের বাড়িতে হাঁড়ি চড়েনি খবর পেয়ে টনক নড়ে গেছে খোদ নবান্নের। জেলাশাসক, বিডিও, বিধায়ক সবাই খোঁজ নিয়েছেন পরিস্থিতির। যদিও এরমধ্যে আবার সিপিএমের চক্রান্তের অভিযোগও এসেছে। সব শুনে বিধায়ক শিউলি সাহা বলেছিলেন, দেবের পরিবার মানেই সিপিএম। নিশ্চিত সিপিএমের চক্রান্ত রয়েছে। এদিন খড়গপুরে সাংবাদিকরা পশ্চিম মেদিনীপুরের তৃণমূল জেলা সভাপতি অজিত মাইতিকে বিষয়টি নিয়ে প্রশ্ন করলে তিনি বলেন, ‘সিপিএম পাঁচ কিলো চাল তুলে দিয়ে রাজনীতি করছে আর মমতা ব্যানার্জী ১০ কোটি মানুষকে রেশন দিচ্ছেন।’ এসব সিপিএমের চক্রান্ত। এসব করে কিছু লাভ হবেনা।

এটা ঘটনা যে শুক্রবার চালের সন্ধানে ইতস্তত ঘুরতে থাকা বিক্রমকে দেখে সিপিএমের কর্মীরাই তাঁর বাড়িতে চাল আর আটা পৌঁছে দিয়ে আসে। এটাও ঠিক যে দেবের পরিবার আদিতে গোঁড়া সিপিএম ছিল এবং দেবের বড় জ্যাঠামশাই সিপিএমের নেতা ছিলেন। দেব তৃণমূল থেকে সাংসদ হওয়ার পর থেকেই মহিষদার অধিকারী পরিবার চুপচাপ হয়ে যায়। তারপরেও কী তৃণমূলের ধন্দ কাটেনি তাঁদের কে নিয়ে, তাই জন্য কী কোনও সুবিধা পায়নি বিক্রম অধিকারী? তৃণমূলের অঞ্চল সভাপতি সেক ইজাহার আলি অবশ্য বলেছেন, “কোথাও একটা সমস্যা হয়েছিল, আমরা খতিয়ে দেখছি। যতদ্রুত সম্ভব আমরা পরিবারটিকে প্রয়োজনীয় সরকারি সহায়তা দেওয়ার চেষ্টা করছি।”

Previous articleঅন্ধকারের আলোর সন্ধান – ১
Next articleএবার থেকে ভিডিও কলিং আ্যপ গুগল ডুয়ো ব্যবহার করা যাবে ডেস্কটপেও