পিংলার ‘হাঁসচরা’ রাস্তা সারানো কাজ শুরু ডেবরার সেই ডাক্তারবাবুর উদ্যোগে! দ্য খড়গপুর পোষ্ট জিন্দাবাদ, বললেন শিক্ষক

2117
পিংলার 'হাঁসচরা' রাস্তা সারানো কাজ শুরু ডেবরার সেই ডাক্তারবাবুর উদ্যোগে! দ্য খড়গপুর পোষ্ট জিন্দাবাদ, বললেন শিক্ষক 1

শশাঙ্ক প্রধান: হাঁস চরত কিনা জানা নেই কিন্তু চ্যাংড়া ছেলের দল রাস্তার নাম দিয়েছে হাঁসচরা রাস্তা! পশ্চিম মেদিনীপুরের পিংলা থানার মালিগ্রাম গ্রাম পঞ্চায়েতের কেলেয়াড়া গ্রামের ভেতর রাগপুর থেকে এই রাস্তা চলে গেছে হাউর রেল স্টেশন অবধি। সেই রাস্তার মধ্যিখান দিয়ে চলে গেছে রাস্তা। রাস্তার ধারে খান তিরিশেক ছোট বড় লাগোয়া বাড়ি। সেই বাড়ি গুলোর কয়েকটা ছোট ছেলে দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে দেখছে রাস্তা সরানোর চিপস ডাঁই করে রাখা হচ্ছে। কাজ শুরু হবে।

পিংলার 'হাঁসচরা' রাস্তা সারানো কাজ শুরু ডেবরার সেই ডাক্তারবাবুর উদ্যোগে! দ্য খড়গপুর পোষ্ট জিন্দাবাদ, বললেন শিক্ষক 2
কাজ শুরুর আগে পড়ছে নির্মাণ সামগ্রী

একটা ছেলে অন্য একটা ছেলেকে দেখিয়ে বলছে, রাস্তা সারানো হবে বলে ওর খুব মন খারাপ। কেন? মন খারাপ কেন? রাস্তা সারানো হবে এতো সুখের কথা! ছেলেটা রিপোর্টারকে বলল, ‘না, স্যার। ওদের সদ্য ডিম ফুটে বেরুনো হাঁসের বাচ্চা গুলোকে মা হাঁস এখানেই সাঁতার কাটা শেখাতো কিনা। ডাইরেক্ট পুকুরে নামালে যদি ডুবে যায়!’ বলে হি হি করে হেসে লুটিয়ে পড়ে ছেলেগুলো। এতক্ষনে বোঝা যায় কেন চ্যাংড়া গুলো রাস্তাটার নাম দিয়েছে হাঁসচরা রাস্তা।

পিংলার 'হাঁসচরা' রাস্তা সারানো কাজ শুরু ডেবরার সেই ডাক্তারবাবুর উদ্যোগে! দ্য খড়গপুর পোষ্ট জিন্দাবাদ, বললেন শিক্ষক 3

পিংলা যে সে এলাকা নয়, মন্ত্রী সৌমেন মহাপাত্রের এলাকা। বিজেপির ঘাটাল সাংগঠনিক জেলার সভানেত্রী অন্তরা ভট্টাচার্যর গ্রাম কিন্তু তবুও গত ২বছর ধরে বৃষ্টি হলেই হাঁটু ডোবা এই রাস্তা। আর রাত দিন দুর্ঘটনার সঙ্গী। রাস্তা নিয়ে নাজেহাল মালীগ্রাম, লক্ষীবাড়ি,আগরআড়া, কেলেয়াড়া ইত্যাদি খান পঁচিশেক ছোট বড় গ্রাম। কৃষি নির্ভর অর্থনীতির পাশাপাশি ছানা এবং ফুল এই এলাকার সফল ব্যবসা।

পিংলার 'হাঁসচরা' রাস্তা সারানো কাজ শুরু ডেবরার সেই ডাক্তারবাবুর উদ্যোগে! দ্য খড়গপুর পোষ্ট জিন্দাবাদ, বললেন শিক্ষক 4
ডাঃ সুমিত সুর

সেই ছানা আর ফুল নিয়ে শত শত মানুষ এই রাস্তা দিয়েই ছোটে হাউর রেল স্টেশন কিংবা ৬নম্বর জাতীয় সড়কে। এছাড়াও চাকুরী জীবী, স্কুল ও কলেজ পড়ুয়া, দিন মজুর হাজার হাজার মানুষের নিত্যদিনের যাত্রা এই রাস্তা দিয়েই। এ হেন রাস্তার জন্য কারও মাথা ব্যথা নেই, এমনকি চলতি পথশ্রী পরিকল্পনায় লটারি পায়নি এই রাস্তা। হয়ত এরকমই থেকে যেত এক শিক্ষক উদ্যোগ না নিলে আর তাঁর পাশে যদি ডেবরার সেই ডাক্তারবাবু সুমিত সুর না দাঁড়াতেন।

নিজের নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক পিংলার সেই মধ্য তিরিশের শিক্ষক জানালেন, ‘গত ৭ই অক্টোবর দ্য খড়গপুর পোষ্ট নিউজ পোর্টাল থেকেই জানতে পারি ডাঃ সুমিত সুরের কথা। জানতে পারি তাঁর চেষ্টাতেই ২বছর ধরে তামাদি হয়ে থাকা ডেবরা থানার আষাঢ়ী থেকে হিজলদা রাস্তার কাজ শুরু হয়েছে। জানতে পারি ২বছর ধরে শুধু ট্যুইট করেই রেলের কাছ থেকে আদায় করে নিয়েছেন রাধামোহনপুর স্টেশন সংলগ্ন রাস্তা। এরপরই ওনার সঙ্গে যোগাযোগ করি।”

স্থানীয় একটি উচ্চ মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সেই শিক্ষক আরও বলেন, “উনি আমার কাছ থেকে রাস্তার ছবি, প্রকল্পের নাম ইত্যাদি নিয়ে প্রক্রিয়া শুরু করেন। এরপরই গত সপ্তাহে রাস্তা মেরামতির মালপত্র পড়তে শুরু হয়েছে। আমি এই এলাকার ১০হাজার মানুষের পক্ষ থেকে ওনাকে আমাদের আন্তরিক ধন্যবাদ ও নমস্কার জানাই।”

১৭ই সেপ্টেম্বর দ্য খড়গপুর পোষ্টে প্রকাশিত হয় আষাঢ়ী থেকে হিজলদা রাস্তার ২বছরের যন্ত্রণার কথা। এরপরই ডাঃ সুমিত সুরের লড়াই। সরাসরি দিল্লিতে নালিশ ঠুকেছিলেন ডাক্তারবাবু। নালিশ নবান্ন, পঞ্চায়েত ও গ্রামন্নোয়ন দপ্তরে। এরপর ফের শুরু হয়েছে সেই রাস্তা। দ্য খড়গপুর পোষ্ট সেই খবরও প্রকাশ করে ৭ই অক্টোবর।

ডাঃ সুর জানালেন, ‘ওই সাকসেস স্টোরি দ্য খড়গপুর পোষ্ট প্রকাশ করার পর বিভিন্ন জায়গা থেকে ফোন আর ইনবক্সে ম্যাসেজ পেতে থাকি। শুধু নিজের থানা নয় আশেপাশের সবং, পিংলা, গ্রামীন খড়গপুর, নারায়নগড় এমনকি পাশের জেলা পূর্ব মেদিনীপুর থেকেও মানুষ তাঁদের সমস্যার কথা জানাতে শুরু করেছেন। সমস্যা হচ্ছে সবাই যথাযথ তথ্য দিতে পারছেননা। পিংলার মাস্টারমশাই আমাকে পর্যাপ্ত তথ্য দিয়েছিলেন।”

ডাক্তারবাবু জানান, “আমি সেই সব তথ্য ঘেঁটে দেখলাম প্রশাসনিক গাফিলটিতেই অবহেলিত রাস্তাটি। সংশ্লিষ্ট জন প্রতিনিধিরাও উপযুক্ত উদ্যোগ নিয়েছেন বলে মনে হয়নি। আমি মুখ্য সচিব, পঞ্চায়েত ও গ্রামন্নোয়ন দপ্তর, জেলা পরিষদ, বিডিও সমস্ত স্তরে মেল এবং হোয়াটস্যাপ চ্যাটে যোগাযোগ করতে শুরু করি। অবশেষে এই ফল। পিংলার তৎকালীন বিডিও শঙ্খ ঘটক মশাই আমাকে যথেষ্ট সাহায্য করেছেন। আর আমি অবশ্যই এই সাফল্যের অংশীদারিত্ব দেব দ্য খড়গপুর পোষ্ট কে। তাঁরা এই উদ্যোগকে জন সমক্ষে না আনলে কাজটা সম্ভব হতনা।” কেউ কেউ অবশ্য বলছেন রাস্তা সারানোর মালপত্র পড়ার পরই এই সাফল্য নেওয়ার রাজনৈতিক প্রক্রিয়া শুরু হয়ে গেছে। আগের সেই দুটি খবর পড়তে নিচে দেওয়া লিংকে ক্লিক করুন।

দিল্লিতে নালিশ ঠুকেই নিজেদের রাস্তা আদায় করলেন ডেবরার গ্রামবাসীরা, পথ দেখালেন ডাক্তারবাবুই

২ বছর ধরে মরচে পড়ছে বোর্ডে, রাস্তার নামগন্ধ নেই, বছর ভর কাদা ভাঙে ডেবরার আষাঢ়ি থেকে হিজলদা