চাল পাচারের আভিযোগে উত্তেজনা ডেবরার গ্রামে

1747
চাল পাচারের আভিযোগে উত্তেজনা ডেবরার গ্রামে 1

নিজস্ব সংবাদদাতা: ফের রেশনের চাল পাচারকে ঘিরে উত্তপ্ত হল পশ্চিম মেদিনীপুর জেলা। জেলার ডেবরা থানা এলাকার রাধামোহনপুর সংলগ্ন নিচ পপন গ্রাম থেকে রেশন দোকানের এক কর্মচারী ওই দোকান থেকে চাল নিয়ে যাচ্ছিল এই আভিযোগে ওই কর্মচারীকে আটকে রেখে বিক্ষোভ দেখায় স্থানীয় গ্রামবাসীরা। ৫ বস্তা চাল রেশন দোকান থেকে অন্যত্র পাচার করা হচ্ছিল বলেই আভিযোগ গ্রামবাসীদের। যদিও আভিযোগ অস্বীকার করেছেন ওই কর্মচারী ও রেশন দোকানের মালিক।

ঘটনা মঙ্গলবার রাতে যখন পাশের চকলালপুর গ্রামের তারাপদ খাটুয়া সাইকেলে এক বস্তা চাল নিয়ে নিচ পপন গ্রামের রেশন দোকানের মালিক পার্থ সারথী হুইয়ের বাড়ি থেকে নিজের গ্রামে যাচ্ছিলেন। তখনই গ্রামবাসীরা ঘিরে ধরে তাঁকে। গ্রামবাসীদের আভিযোগ এর আগে একটি ভ্যান রিকশায় চার বস্তা চাল পাচার করে দেওয়া হয়েছে। গ্রামবাসীদের চাপের মুখে তারাপদ লিখেও দেয় যে, তিনি রেশন দোকানের মালিকের নির্দেশেই চাল অন্যত্র নিয়ে যাচ্ছিলেন। যদিও পরে এই আভিযোগ অস্বীকার করে তিনি জানান, রেশন তুলতে আসা যে সব মানুষ চাল বিক্রি করে দেন সেই চাল কিনে তিনি আলাদা একটি বস্তায় রেখে দেন। সেই চাল নিয়েই তিনি যাচ্ছিলেন।

চাল পাচারের আভিযোগে উত্তেজনা ডেবরার গ্রামে 2

অন্যদিকে গ্রামবাসীরা দাবি করেন এই প্রথম নয়, এর আগেও এই রেশন দোকানের মালিক বহুবার চাল পাচার করেছেন। অরূপ দাস নামের এক গ্রামবাসী জানান, ” এর আগেও আমরা প্রশাসনকে আভিযোগ করেছি হুইয়ের বিরুদ্ধে। কিন্তু কোনও ব্যবস্থাই নেওয়া হয়নি। এখন মানুষ যখন খেতে পারছেনা তখনও এই চুরি চলছে। আজ হাতে নাতে ধরেছি আমরা। যদি ওটা ব্যক্তিগত চাল হবে তবে রাতের অন্ধকারে কেন নিয়ে যাওয়া হবে? ”
হুই অবশ্য জানিয়েছেন, ” ওই চাল আমার নয়, তারাপদর কেনা চাল। দোকানের কাজ সেরে সে নিয়ে যাচ্ছিল তাই রাত হয়েছে।” বিক্ষোভ জোরালো হওয়ায় ডেবরা থানার পুলিশ এসে ঘেরাও মুক্ত করে থানায় নিয়ে যায় তারাপদকে। যদিও সকাল অবধি কোনও আভিযোগ না হওয়ায় তাঁকে ছেড়ে দেওয়া হয়। ডেবরার বিডিও পিন্টু ঘরামি জানান, ” সমস্ত মানুষ যেন তাঁর প্রাপ্য রেশন পান তা নিশ্চিত করতে বলা হয়েছে খাদ্য পরিদর্শককে।”

উল্লেখ্য  লক ডাউনের সুযোগকে কাজে লাগিয়ে চলছে রেশনের মাল পাচার । সোমবার পশ্চিম মেদিনীপুর জেলার দাসপুরের সামাট থেকে ঘাটাল মহকুমা শাসক অসীম পালের নেতৃত্বে খাদ্য দফতরের আধিকারিকরা গিয়ে বাজেয়াপ্ত করে ৪ ট্রাক রেশন দ্রব্য। একই ভাবে পশ্চিম মেদিনীপুর পুলিশ ওড়িশা পাচার হওয়ার মুখে উদ্ধার করেছে লরি ভর্তি চাল। চাল লুট হয়েছে পশ্চিম মেদিনীপুরের এফসিআই গোডাউনে ঢোকার মুখ থেকেও। সোমবার সেরকমই বস্তা বস্তা চাল উদ্ধার করেছে পুলিশ।  এছাড়াও গোটা এপ্রিল মাস জুড়েই জেলার বিভিন্ন অংশ থেকে উদ্ধার হয়েছে রেশনের পাচার করতে যাওয়া সামগ্রী। গত শুক্রবারই সামনের মাসে রেশন বিলি বন্দোবস্ত নিয়ে সমীক্ষায় বসেছিল পশ্চিম মেদিনীপুর খাদ্য নিয়ামক। আলোচনায় উঠে এসেছে শুধু এপ্রিল মাসের শেষ ১৫দিনে ২২জন রেশন ডিলারকে শো-কজ , ৮ জনকে সাসপেন্ড ও তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।