মহিলা শ্রমিকের মৃত্যুতে উত্তেজনা ডেবরায়! টোলপ্লাজায় মহিলার লাশ ফেলে বিক্ষোভ ক্ষতিপূরনের

1689
মহিলা শ্রমিকের মৃত্যুতে উত্তেজনা ডেবরায়! টোলপ্লাজায় মহিলার লাশ ফেলে বিক্ষোভ ক্ষতিপূরনের 1

শশাঙ্ক প্রধান: হাওড়ায় কর্মরত ডেবরার এক দিনমজুর মহিলার মৃত্যুতে উত্তেজনা ছড়ালো এলাকায়। মৃত মহিলার পরিবারকে ক্ষতিপূরণ দেওয়ার দাবিতে ডেবরা টোলপ্লাজায় ২দিনের পচা লাশ রেখে বিক্ষোভ দেখালেন কিছু মানুষ। যদিও ঘটনার পেছনে টোলপ্লাজার কর্তৃপক্ষর কোনো ভূমিকা নেই বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট আধিকারিক।
স্থানীয় সুত্রে জানা গেছে, ডেবরার বাড়াগড়ের বাসিন্দা পেশায় শ্রমিক দুই মহিলা আরতি রানা এবং ভারতী রানা মা মেনকা অ্যাসোসিয়েট নামক একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের অধীনে হাওড়াতে রাস্তা মেরামতির কাজে কর্মরত ছিলেন। এই ঠিকাদারি সংস্থাটিকে শ্রমিক জোগাড় করে দিয়েছিল অশোকা কোম্পানি যারা  ডেবরা টোলপ্লাজার পরিচালনা করে।

গত ২৩ শে নভেম্বর ডোমজুড়ের অন্তর্গত অঙ্কুর চকে কাজ করার সময় গাড়ির ধাক্কায় গুরুতর আহত হয় আরতি ও ভারতী। অভিযোগ মা মেনকা তাদের চিকিৎসার কোনও দায় নেয়নি। স্থানীয় মানুষজনই তাঁদের হাসপাতালে ভর্তি করে। পরে বাড়ির লোকেরা প্রতিবেশীদের সহায়তা নিয়ে ২জনকে মেদিনীপুর মেডিক্যাল কলেজে নিয়ে আসে। সেখানেই পরে চিকিত্‍সা চলাকালীন মৃত্যু হয় আরতি রানার। ভারতীর হাত ভেঙে গিয়েছে।

মহিলা শ্রমিকের মৃত্যুতে উত্তেজনা ডেবরায়! টোলপ্লাজায় মহিলার লাশ ফেলে বিক্ষোভ ক্ষতিপূরনের 2

আরতির গ্রামবাসীদের দাবি, মা মেনকা অশোকা কোম্পানির অধীনেই রাস্তা সংস্কারের কাজ করছে। তারাই মা মেনকাকে শ্রমিক সরবরাহ করেছিল অথচ আরতির আহত হওয়া থেকে মৃত্যু অবধি কোনোও দায়িত্ব পালন করেনি এরা।এমনকি মৃত্যুর পর মৃতদেহ দুদিন পড়ে থাকে, ময়নাতদন্ত হয়নি। গ্রামবাসীদের উদ্যোগে বুধবার তাঁর ময়নাতদন্ত হয় এবং ক্রুদ্ধ গ্রামবাসীরা আরতির মৃতদেহ টোলপ্লাজার সামনে রেখে বিক্ষোভ দেখাতে শুরু করে।

বুধবার রাত্রি ১ টা থেকে প্রায় ঘন্টা খানেক বিক্ষোভ দেখানোর পর স্থানীয় তৃণমূল নেতৃত্ব এবং পুলিশ আধিকারিকদের প্রতিশ্রুতিতে অবরোধ প্রত্যাহৃত হয়। পুলিশ গিয়ে পরিস্থিতি আয়ত্তে নিয়ে আসে। পুলিশ প্রতিশ্রুতি দেয় কেউ দোষী হলে উপযুক্ত শাস্তি পাবেই।
এদিকে টোলপ্লাজা কর্তৃপক্ষের দাবি, এই ঘটনায় টোলপ্লাজা কর্তৃপক্ষের কোনোও ভুমিকা নেই। তাঁরা কোনোও শ্রমিক সরবরাহ করেনি। এটা তাঁদের কাজও নয়। কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে যেভাবে পচনশীল মৃতদেহ এনে বিক্ষোভ দেখানো হয়েছে তা মারাত্মক বিষয়। একে করোনা আবহে তাঁদের কাজ করতে হচ্ছে তারমধ্যে কম্পাউন্ডের ভেতরে পচা লাশের গন্ধ ছড়িয়েছে। এই পরিস্থিতিতে কাজ করা অসম্ভব হয়ে পড়েছিল। তাঁরা নিরাপত্তার অভাব বোধ করছেন।

কোম্পানির এক আধিকারিক জানিয়েছেন, ”আমরা টোলপ্লাজার সঙ্গে জড়িত রাস্তা নির্মাণের সঙ্গে নয় তাছাড়া ঘটনাটি ঘটেছে হাওড়া এলাকায় তার সঙ্গে আমাদের কী সম্পর্ক। মাঝরাতে যে ভাবে আমাদের কমপ্লেক্সে পচা মৃতদেহ রেখে বিক্ষোভ দেখানো হল তাতো ভয়ঙ্কর। এরপর আমাদের কর্মীরা কাজ করতে ভয় পাচ্ছে।”

পাল্টা বিক্ষোভকারি দের দাবি, রাস্তা মেরামতির মূল দায়িত্ব প্রাপ্ত কোম্পানি অশোকা। মা মেনকা তাঁর অধীনস্ত পেটি ঠিকাদার। তাঁরা অশোকার নির্লিপ্ততার বিরুদ্ধেই বিক্ষোভ দেখিয়েছেন। বৃহস্পতিবার বিক্ষোভকারি ও টোলপ্লাজা কর্তৃপক্ষকে নিয়ে আলোচনায় বসেছে পুলিশ।