পদে পদে বঞ্চনা! ৪দফা দাবি নিয়ে জেলা শাসকের দ্বারস্থ জাতীয় স্বাস্থ্য মিশনের (NHM) স্বাস্থ্য কর্মীরা

566
পদে পদে বঞ্চনা! ৪দফা দাবি নিয়ে জেলা শাসকের দ্বারস্থ জাতীয় স্বাস্থ্য মিশনের (NHM) স্বাস্থ্য কর্মীরা 1

নিউজ ডেস্ক: কেউ চিকিৎসক পদে বহাল রয়েছেন কেউ আবার নার্স, কেউ আবার ডাটা এন্ট্রি অপারেটর। জাতীয় স্বাস্থ্য মিশন বা National Helth MIssion (NHM)র আওতায় কাজ করে চলেছেন এঁরা এমন কি করোনা পরিস্থিতিতেও কাজ করছেন অন্যান্য স্বাস্থ্য কর্মীদের মতই কিন্তু সরকারের কাছ থেকে পাচ্ছেন দ্বিতীয় শ্রেনীর সুযোগ সুবিধা। এমনই অভিযোগ নিয়ে মেদিনীপুর এবং ঝাড়গ্রাম জেলার স্বাস্থ্য কর্মীরা শুক্রবার স্মারকলিপি দিলেন পশ্চিম মেদিনীপুর জেলা শাসকের কাছে।

জাতীয় স্বাস্থ্য মিশনের ওই কর্মীরা জানিয়েছেন, তাঁরা কোনও বিক্ষোভ নিয়ে নয় তাঁরা তাঁদের আর্তি জেলাশাসকের মারফৎ মূখ্যমন্ত্রীর কাছে পৌঁছে দিতে এসেছেন। কাজের নিশ্চয়তা, আর্থিক নিরাপত্তা, সামাজিক নিরাপত্তা এবং বেতন কাঠামোর পুনর্বিন্যাস এই চারটি দাবিকে সামনে রেখে জমা দেওয়া স্মারক লিপিতে তাঁরা আবেদন করেছেন যে অনিশ্চয়তা ও হীনমন্যতার পরিবেশে তাঁদের কাজ করতে হয় সেই পরিবেশ দুর করার উদ্যোগ নিন মূখ্যমন্ত্রী।

পদে পদে বঞ্চনা! ৪দফা দাবি নিয়ে জেলা শাসকের দ্বারস্থ জাতীয় স্বাস্থ্য মিশনের (NHM) স্বাস্থ্য কর্মীরা 2

কর্মীরা দাবি করেছেন যে বেতন সরকার তাঁদের দিচ্ছে তাতে সংসার চালানো তো দূর অস্ত এই দ্রব্য মূল্য বৃদ্ধির বাজারে এইভাবে চলতে থাকলে যদি সরকার বেতন পরিকাঠামো এখুনি সংশোধন করে তবে সেই দিন আর বেশি দূরে নেই, যখন আত্মহননই হবে একমাত্র পথ। এই করোনা মহামারীর পরিস্থিতিতে তাঁরা অন্যদের মত একই কাজ করছেন, সরকারের হাসপাতালের স্বাস্থ্যকর্মীদের সাথেই কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে একই কাজ করছি অথচ সম কাজে সম বেতন পাচ্ছেননা।

এই স্বাস্থ্যকর্মীদের দাবি সনদ প্রদান করতে এসে রাষ্ট্রীয় বাল স্বাস্থ্য কেন্দ্রে অধীনস্থ মেডিকেল অফিসার ডঃ নবীনা দাস চক্রবর্তী জানান জানান, ‘ প্রায় ১৬০ ধরনের কাজের সঙ্গে যুক্ত সাড়ে তিন থেকে চার হাজার কর্মী রয়েছি আমরা যাঁরা শিশু স্বাস্থ্য থেকে শুরু করে বয়ঃসন্ধিকালীন সময়ের মানসিক পরিচর্যা, রোগ প্রতিরোধ থেকে তথ্য সংরক্ষন, চিকিৎসা, সেবা, প্রশাসনিক নানাবিধ কাজের সঙ্গে যুক্ত। পাশাপাশি করোনা কালে সেই অতিমারির বিরুদ্ধে লড়াই সবটাই করছি কিন্তু সরকার আমাদের দেখছেন দ্বিতীয় শ্রেণীর কর্মী হিসেবে। আমি নিজে ব্যক্তিগতভাবে একজন মেডিকেল অফিসার পাশাপাশি দায়িত্ব সামলেছি একটি কোভিড কেন্দ্রের ডেপুটি সুপার হিসাবে। কাজ করেছি সপ্তাহের সাতদিনই চব্বিশ ঘন্টা কিন্তু যা বেতন পাই তা বলতে লজ্জা লাগে।”

ডাঃ নবীনা বলেন, “মূখ্যমন্ত্রী আমাদের দিদির মত। তিনি পথে কোনো পঙ্গু লোক দেখলে তার প্রতি সহযোগিতার হাত বাড়ায়,অথচ দিদি কি জানেন না যে আমাদের কোনও নির্দিষ্ট বেতন কাঠামো নেই! আমরাও তো আর্থিক দিক থেকে পঙ্গু। তো আমরা চাই দিদি হস্তুক্ষেপ করুক। আমাদের জন্য সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিক। আমরা ক্ষোভ প্রদর্শন করছি না, আমরা আর্তনাদ জানাচ্ছি। ৭০০০ থেকে ১২০০০ টাকা বেতন দিয়ে সংসার চালানো সম্ভব নয়। দিদি আমাদের দিকে একটু তাকান ,আমরা দিদির থেকে সহযোগিতার হাত চাইছি ।আমাদের মধ্যে সেকেন্ড এ.এন.এম দিদিরা রয়েছেন, বি.এ.এফ রয়েছেন, ডি.ও রয়েছেন, আর.বি.এস.কে, ব্লক একাউন্ট ম্যানেজার রয়েছেন।”