এবার করোনায় আক্রান্ত দেবদত্তার পুরো পরিবারই, কলকাতায় মিলছেনা বেড

126
এবার করোনায় আক্রান্ত দেবদত্তার পুরো পরিবারই, কলকাতায় মিলছেনা বেড 1

নিজস্ব সংবাদদাতা: এ যেন মরার মুক্তি নেই হুগলির ডেপুটি ম্যাজিস্ট্রেট দেবদত্তা রায়ের। তাঁর মৃত্যুর ২৪ ঘন্টার মধ্যেই মর্মান্তিক খবর এসেছে যে তাঁর পুরো পরিবারই করোনায় আক্রান্ত হয়েছে অথচ কলকাতার হাসপাতালে বেড পাওয়া যাচ্ছেনা। সোমবার সকাল ৯টায় মৃত্যু হয়েছে চন্দননগরের শহিদ করোনাযোদ্ধা দেবদত্তা রায়ের। হুগলি জেলায় ভিনরাজ্য থেকে ফিরে আসা পরিযায়ী শ্রমিকদের দেখভালের দায়িত্ব ছিল তাঁর কাঁধেই। সামনে থেকেই সে দায়িত্ব সামলেছিলেন তিনি। আর সম্ভবত সেখান থেকেই করোনায় আক্রান্ত হন।

তাঁরপর সেই দুর্ভাগ্য জনক ঘটনা। এবার জানা গেছে তাঁর গোটা পরিবারই করোনা আক্রান্ত। মঙ্গলবার পরিবারের লালারস পরীক্ষার রিপোর্ট আসার পর এই খবর জানা গিয়েছে। সঙ্গে আশঙ্কার খবর, কলকাতা বা শহরতলির কোনও হাসপাতালে ভর্তি হতে পারছেন না তাঁরা।

সোমবারই শ্রীরামপুর শ্রমজীবী হাসপাতালে মৃত্যু হয় চন্দননগরের ডেপুটি ম্যাজিস্ট্রেট দেবদত্তা রায় (৩৮)-এর। এর পর তাঁর গোটা পরিবারের করোনা পরীক্ষার নমুনা নেওয়া হয়। মঙ্গলবার বিকেলে তার রিপোর্ট এলে জানা গিয়েছে, দেবত্তার স্বামী, চার বছরের সন্তান ও শাশুড়িও করোনা আক্রান্ত। এমনিতেই পুরো পরিবার শোকে মুহ্যমান হয়েছিলেন দেবদত্তার মৃত্যুতে তার মধ্যেই নিজেরা আক্রান্ত হওয়ায় উদ্বেগ বেড়েছে আর তারপর কোনও ভালো হাসপাতালে বেড না পাওয়ায় পরিবারের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়েছে, তাঁদেরও না দেবদত্তার মত পরিনতি না হয়। আতঙ্কের আরও কারন চার বছরের শিশুটিকে নিয়ে।

আরও পড়ুন -  'বিজেপির ভাষায় কথা বলছে মন্ত্রী!' তৃনমূলের অন্দরে রাজীব আতঙ্ক, প্রকাশ্যে দুই মন্ত্রীর দ্বন্দ্ব, বিধানসভার আগেই কোন্দল বিধ্বস্ত শাসকদল

পরিবার সূত্রে জানা গিয়েছে, হুগলি জেলা বা কলকাতায় কোনও হাসপাতালে ভর্তির জন্য বেড খালি পাচ্ছেন না তাঁরা। প্রশাসনের তরফেও তাঁদের ভর্তি করানোর চেষ্টা চলছে।
উল্লেখ্য চন্দননগরের ডেপুটি ম্যাজিস্ট্রেট দেবদত্তা রায় আক্রান্ত হওয়ার পর হোম আইসলেশনেই ছিলেন কিন্তু অবস্থার অবনতি হওয়ায় হাসপাতালে ভর্তি করার চেষ্টা করা হয় তাঁকে। কিন্তু কলকাতার কোনও হাসপাতালেই জায়গা হয়নি।

আরও পড়ুন -  খড়গপুর মহকুমা করোনায় লালে লাল, একই দিনে তিন আক্রান্ত নিয়ে খাতা খুলে ফেলল সবং

শেষবার চেষ্টা করা হয়েছিল এমআর বাঙুর হাসপাতালে ভর্তি করানোর চেষ্টা চলছিল। কিন্তু শেষ পর্যন্ত সেখানে ভর্তি করানো যায়নি তাঁকে। এরপরই তড়িঘড়ি তাঁকে হুগলির শ্রমজীবী হাসপাতালে আনা হয় কিন্তু বাঁচানো সম্ভব হয়নি তাঁকে। তার মৃত্যুর অনেক পরে শোক প্রকাশ করেছিলেন মুখ্যমন্ত্রী। কিন্তু তারপরেও তাঁর পরিবারের এমন দুরাবস্থা হবে কেন তাই নিয়ে জল্পনা শুরু হয়েছে। যদিও প্রশাসনের পক্ষ থেকে চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে বলেই জানা গেছে।

এবার করোনায় আক্রান্ত দেবদত্তার পুরো পরিবারই, কলকাতায় মিলছেনা বেড 2