পুলিশ আর প্রশাসন তৃনমূলের অগ্রনী সৈনিকের ভূমিকায় কাজ করেছ, ফের ট্যুইট বোমা ধনকড়ের

95
পুলিশ আর প্রশাসন তৃনমূলের অগ্রনী সৈনিকের ভূমিকায় কাজ করেছ, ফের ট্যুইট বোমা ধনকড়ের 1

নিজস্ব সংবাদদাতা: লকডাউন আর আমফান বিধ্বস্ত বাংলায় সরকারি ত্রান নিয়ে বিভিন্ন জায়গাতেই ব্যাপক দলবাজির অভিযোগ আসছে। অভিযোগ আসছে বিধ্বস্ত বাংলার বিভিন্ন প্রান্তে ত্রান নিয়ে যেতে, দুর্গত এলাকায় পরিদর্শনে যেতে বাধা দিচ্ছে পুলিশ। সংবাদমাধ্যমে উঠে আসছে সেরকমই কিছু চিত্র। এনিয়ে শাসক ও বিরোধীদলের চাপন উতোরের মাঝখানেই বোমা ফাটালেন রাজ্যের রাজ্যপাল জগদীপ ধনকড়। বুধবার সকালেই দু’দুটো ট্যুইট বোমায় জগদীপের বিস্ফোরক মন্তব্যে ফের তোলপাড় রাজ্য রাজনীতি। চূড়ান্ত অস্বস্তিতে শাসকদল।

বুধবার সকালে ওই জোড়া টুইটে ধনকড় সরাসরি মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে উদ্দেশ করে রাজ্যপাল সরাসরি মন্তব্য করেছেন, রাজ্যের পুলিশ-প্রশাসন শাসক দলের অগ্রনী কর্মীবাহিনী হিসেবেই কাজ করছে সঙ্গে রাজ্যপালের হুঁশিয়ারি লিখেছেন, “এর শেষ দরকার। এটা বড়সড় গাফিলতি এবং একে কোনওভাবেই এড়িয়ে যাওয়া যাবে না। হালকা করে দেখা যাবেনা।” পুলিশ প্রশাসনকে সতর্ক করে রাজ্যের সাংবিধানিক প্রধান লিখেছেন, “আইনের রক্ষকরা যদি আইন মাফিক কাজ না করেন তবে এর জন্য তাঁদের বড় মূল্য চোকাতে হবে।”

পুলিশ আর প্রশাসন তৃনমূলের অগ্রনী সৈনিকের ভূমিকায় কাজ করেছ, ফের ট্যুইট বোমা ধনকড়ের 2

অবশ্য রাজ্যপালের তোলা এই বক্তব্যই বহুদিন ধরে তুলে আসছিলেন বিরোধীরা। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সরকার আসার দেড় বছরের সময় থেকেই এই অভিযোগ উঠতে শুরু করে। ২০১২ সালে রাজ্যের দুই প্রান্তের দুই কলেজে অধ্যাপক হেনস্থার ঘটনায় অভিযুক্ত হয়েছিল টিএমসিপি এবং বাম ছাত্র সংগঠন এসএফআই। দেখা গিয়েছিল, রায়গঞ্জ কলেজে অভিযুক্ত তৃণমূল ছাত্রনেতারা জামিন পেয়েছেন আর নদিয়ার মাজদিয়া কলেজের বাম ছাত্রনেতাদের জেলে যেতে হয়েছে।

আরও পড়ুন -  সরকারি রিলিফ ফান্ডের ওয়েবসাইট থেকে ২৬১ কোটি টাকা হাতিয়ে নিল হ্যাকাররা।

শুধু তাই নয়, গত কয়েক বছর ধরে বিজেপিরও একই অভিযোগ। গেরুয়া শিবিরের বক্তব্য, গ্রামেগঞ্জের কয়েক হাজার বিজেপি কর্মীকে নারকোটিক্স কেস দিয়ে জেলে পুরে রাখা হয়েছে। মঙ্গলবারের ভার্চুয়াল জনসভায় কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহও এই প্রসঙ্গ তুলে তৃণমূলের বিরুদ্ধে আক্রমণ শানান।
রাজনৈতিক হিংসা ও ভোট লুঠ নিয়েও শাসকদলের বিরুদ্ধে সুর চড়িয়েছেন জগদীপ ধনকড় । মুখ্যমন্ত্রীকে নিশানা করে রাজ্যপাল লিখেছেন, “রাজনৈতিক হিংসা, রিগিং বন্ধ হলে তবেই বাংলায় গণতন্ত্র টিকে থাকবে। গণতন্ত্র ছাড়া স্বাধীনতা থাকে না।”

আরও পড়ুন -  বেলপাহাড়ীতে ফের মাওবাদী পোস্টার! এবার হুমকি ঠিকাদারকে, একমাসে তিনবার নিজেদের অস্তিত্ব জানান দিল মাও-স্কোয়াড

এদিন মুখ্যমন্ত্রীকে স্মরন করিয়ে রাজ্যপাল মনে করিয়ে বলেছেন, “গণতন্ত্র রক্ষার জন্য কত মানুষ আত্মত্যাগ করেছেন। যে কোনও মূল্যে তা নিশ্চিত করতে হবে বলে টুইটে লিখেছেন ধনকড়। তাঁর কথায়, নীরব এবং বিজ্ঞানসম্মত রিগিং হতাশা তৈরি করছে।”
এ যেন ঠিক ইতিহাসের পুনরাবৃত্তি। বাম আমলের শেষের দিকে ঠিক এভাবেই সরকারের সমালোচনায় সরব হয়েছিলেন তৎকালীন রাজ্যপাল গোপালকৃষ্ণ গান্ধী। মাত্র এক দশক পরেই আবার এক রাজ্যপালের এই শাসক বিরোধী সমালোচনা কি ২০১১ র মতেই ধুয়ে দিতে যাচ্ছে ২০২১য়ের শাসকদলকে? উত্তর পেতে আরও ৯মাস অপেক্ষা করতে হবে।