পুজোর আগে লাভের আশায় ইলিশ মজুত! আগুনে পুড়ে ছাই ৫লাখের রুপালি শস্য

589
পুজোর আগে লাভের আশায় ইলিশ মজুত! আগুনে পুড়ে ছাই ৫লাখের রুপালি শস্য 1

নিজস্ব সংবাদদাতা: বাজারে ইলিশের হাহাকার! করোনা যুগে বাঙালির পাতে ইলিশের আকাল। সামনে পুজো, হাড় কিপ্টে বাঙালিও পকেটে থেকে দু’চার টাকা খসায়। আর সেই বাজার ধরার জন্য বাছাই করা ইলিশ মজুত করা হয়েছিল ঢাউস ঢাউস ফ্রিজে। মাঝরাতে আগুন লেগে পুড়ে গেল সেই লাখ লাখ টাকার ইলিশ।পুজোর আগে লাভের আশায় ইলিশ মজুত! আগুনে পুড়ে ছাই ৫লাখের রুপালি শস্য 2

শনিবার রাত বারোটা নাগাদ দিঘার মোহনা বাজার সংলগ্ন মোহনা পাড়ের বাজারে অগ্নিকাণ্ডে পুড়ে গেছে প্রায় ডজন খানেক দোকান। যার মধ্যে ছিল বাবলু গাজির মাছের দোকান আর সেই দোকানেই মজুত ছিল বারশো থেকে আঠারশো গ্রামের কয়েক কুইন্টাল ইলিশ। দোকানে আগুন লেগে পুড়ে গেছে সবই। পুজোর আগে লাভের আশায় ইলিশ মজুত! আগুনে পুড়ে ছাই ৫লাখের রুপালি শস্য 3স্থানীয় বাসিন্দারা জানিয়েছেন, মাছের দোকান ছাড়াও পুড়ে গেছে একটি মাংস দোকান, একটি সেলুন, ২টি কাপড় দোকান, একটি চা-টিফিনের দোকান, ব্যাটারি দোকান, মোবিল দোকান সহ ১২টি দোকানের একটা সারি।

খবর পেয়ে রামনগর থেকে দমকলের জোড়া ইঞ্জিন এসে আধ ঘন্টার চেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে যদিও দাহ্য পদার্থ ভর্তি দোকানগুলো শেষ হয়ে গেছিল। মাছের দোকানের মালিক বাবলু গাজি জানান, ” এবছর ইলিশের আকাল। ইলিশের জন্য মানুষ ছটপট করছে। লকডাউন উঠে যাচ্ছে ফলে মানুষ দিঘা মুখি হচ্ছেন। পুজোর আগে পর্যটক আরও বাড়বে। তাঁরাই বাড়ির জন্য ইলিশ নিয়ে যান। নিজের পরিবার, বন্ধু বান্ধব, আত্মীয় স্বজনের জন্য। সেই বাজারের কথা মাথায় রেখেই, দিনের পর দিন বাছাই করা কিছু ইলিশ মজুত করেছিলাম। ওই ইলিশের আনুমানিক বাজার মূল্য ছিল ৫লক্ষ টাকা। আগুন লেগে সর্বস্ব শেষ হয়ে গেল।”

আরও পড়ুন -  দিঘার হোটেল থেকে মিলল মালিকেরই ঝুলন্ত দেহ, তদন্তে পুলিশ

জানা গেছে, রাত ১০ টার পর বন্ধ হয়ে গেছিল মোহনা পাড়ের বাজার। গভীর রাতে হঠাৎই আগুন লেগে যায়।লোকজন তখন ঘুমাচ্ছিলেন দোকানের মধ্যে। মাছের দোকান থেকে প্রথমে ধোঁয়া বেরোতে দেখেন স্থানীয়রা। তারপরই ফেটে যায় ওই দোকানে থাকা একটি গ্যাস সিলিন্ডার। এরপরই দাউ দাউ করে ছড়িয়ে পড়ে আগুন। দমকলের প্রাথমিক অনুমান শর্ট সার্কিট থেকে আগুন লাগতে পারে। আহত হয়েছেন সবুজ মাইতি নামের এক দোকানকর্মী। দোকান গুলির মালিকেরা দাবি করেছেন, আগুনে আনুমানিক প্রায় কোটি টাকার ক্ষতি হয়েছে।

আরও পড়ুন -  চলন্ত ট্রেনের তলায় চলে যাওয়া থেকে খড়গপুরের সুজয়কে নতুন জীবন দিলেন আরপিএফ জওয়ান

দিঘা ফিসারম্যান অ্যান্ড ফিশ ট্রেডার্স অ্যাসোসিয়েশনের সম্পাদক শ্যামসুন্দর দাস বলেন, ‘দোকানগুলো হোগলা ,বাঁশ,খড় ও প্লাস্টিকের দিয়ে তৈরি হওয়ার কারণে এবং মবিল, কাপড়, সোলার বক্সের মতো দাহ্য বস্তু মজুত থাকায় মুহূর্তের মধ্যে ছড়িয়ে পড়ে আগুনের লেলিহান শিখা। কিছু বোঝার আগেই দাউদাউ করে জ্বলতে থাকে দোকানগুলো।পুজোর আগে এভাবে আগুনে সব হারিয়ে সর্বস্বান্ত ব্যবসায়ীরা।’

পুজোর আগে লাভের আশায় ইলিশ মজুত! আগুনে পুড়ে ছাই ৫লাখের রুপালি শস্য 4