দিঘায় ডুবে গেল মাছভর্তি লঞ্চ, উদ্ধার নিখোঁজ মাঝির মৃতদেহ

453
দিঘায় ডুবে গেল মাছভর্তি লঞ্চ, উদ্ধার নিখোঁজ মাঝির মৃতদেহ 1

নিজস্ব সংবাদদাতা: দিঘা; দিঘায় গভীর সমুদ্র থেকে ফেরা মাছ ভর্তি একটি লঞ্চ ডুবে গিয়ে মৃত্যু হল লঞ্চের এক মৎসজীবীর। বুধবার সকালে মধ্যবয়স্ক ওই মৎসজীবীর দেহ উদ্ধার করেছে দিঘা কোস্টাল থানার পুলিশ। জানা গেছে গৌরহরি ঋষি নামের ওই ব্যক্তির বাড়ি কালীনগর এলাকার বজবজিয়া গ্রামে। মঙ্গলবার সন্ধায় দিঘা মোহনার অদুরেই শঙ্করপুর মৎসবন্দরে যাওয়ার জন্য সমুদ্র খাড়ির চড়ায় ধাক্কা লেগে উল্টে যায় লঞ্চটি।

সন্ধা ৭টা নাগাদ ঘটনাটি ঘটে। উল্টে যাওয়ার পরই ধীরে ধীরে তা জলের টানে সমুদ্রের দিকে তলিয়ে যেতে থাকে। লঞ্চটি উল্টে যাওয়ার সময় লঞ্চে থাকা ৭জন মৎসজীবী সাঁতরে পাড়ে আসতে সক্ষম হলেও নিখোঁজ হয়ে যান গৌরহরি। মনে করা হচ্ছে কোনও ভাবে লঞ্চে আটকে রয়ে গিয়েছিলেন তিনি, মৃত্যুর পরে ভেসে ওঠে তাঁর দেহ।

দিঘায় ডুবে গেল মাছভর্তি লঞ্চ, উদ্ধার নিখোঁজ মাঝির মৃতদেহ 2

দিঘা মৎসজীবী তথা মৎসব্যবসায়ীদের নেতা শ্যামসুন্দর দাস জানান, “দীর্ঘ পক্ষকাল সমুদ্র বক্ষে মাছ ধরার পর শঙ্করপুর বন্দরে ফিরছিল মা মহামায়া নামের ওই লঞ্চটি। দিঘা মোহনা থেকে অদুরেই দুর্ঘটনাটি ঘটে। অর্ধ কোটি টাকার কাছাকাছি ক্ষতি হয় এই ধরনের দুর্ঘটনায় তার ওপর একটি প্রানের ক্ষতি আরও বেশি।”
সূত্র মারফৎ জানা গেছে এই ধরনের লঞ্চ গুলির মূল্য ২৫ থেকে ৩০ লক্ষ টাকা। এর সঙ্গে ভর্তি মাছের মূল্য, ১৫ দিনের সমুদ্র যাত্রার খরচ, মৎসজীবীদের মজুরি ইত্যাদির পুরোটাই লোকসান হয় লঞ্চের মালিকদের।

দাস জানিয়েছেন, ‘প্রতি বছরই এই ক্ষতির শিকার হতে হয় লঞ্চ ব্যবসায়ীদের। খাড়ির নাব্যতা দিন দিন কমছে। প্রায় ১দশক ড্রেজিং হয়নি খাড়িতে। দীর্ঘদিন ধরে সরকারের কাছে আমরা দাবি করে আসছি ড্রেজিং করার জন্য কিন্তু সরকার কর্ণপাত করেনি। তারই মূল্য দিলেন লঞ্চের মালিক কালীনগরের বাসিন্দা পৃথ্বীরাজ পয়ড়া। প্রানের বিনিময়ে মূল্য চোকালেন গৌরহরি ঋষি। বাড়ির কাছে বাড়ি ফেরা হলনা তাঁর। গতবছরও এই খাড়ির চড়াতেই ধাক্কা লেগে আগুন লেগে গিয়েছিল একটি ট্রলারে। সরকারের ঘুম তবুও ভাঙেনা।”

পাড়ে ফিরে আসা মৎসজীবীরা জানিয়েছেন দুর্যোগপূর্ন আবহাওয়া ছিল ফলে চড়ার অস্থিত্ব নজরে আসেনি। লঞ্চটি সরাসরি চড়ায় গিয়ে ধাক্কা মারে এবং বালি মিশ্রিত গাঢ় পলি মৃত্তিকায় আটকে যায় সেটি আর ক্রমশ কাত হয়ে উল্টে ডুবে যায়। এরপর সমুদ্রের পৃষ্ট টানে তা ধিরে ধিরে সমুদ্র গর্ভের দিকে চলে আসে।