বেচারামের পর এবার হুগলি জেলা সভাপতি দিলীপ যাদবের বিরুদ্ধে ক্ষোভ উগড়ালেন আরামবাগের সাংসদ

78
বেচারামের পর এবার হুগলি জেলা সভাপতি দিলীপ যাদবের বিরুদ্ধে ক্ষোভ উগড়ালেন আরামবাগের সাংসদ 1

ওয়েব ডেস্ক : নির্বাচনের আগে শাসকদলের অন্দরে ক্রমশ গোষ্ঠী কোন্দল লেগেই রয়েছে। প্রায় প্রতিদিনই একের পর এক দলীয় নেতৃত্বের উপর ক্ষোভ উগড়াচ্ছেন শাসকদলের নেতা নেত্রীরা। রবিবারই তৃণমূল হুগলি জেলা সভাপতি দিলীপ যাদবের বিরুদ্ধে মুখ খুলেছিলেন বেচারাম মান্না। তার ২৪ ঘন্টা কাটতে না কাটতেই এবার দিলীপ যাদবের বিরুদ্ধে মুখ খুললেন সাংসদ অপরূপা পোদ্দার। ২০২১-এর বিধানসভা নির্বাচনকে কেন্দ্র করে এই মূহুর্তে দলের মধ্যে একে অপরের হাত শক্ত করে যখন নির্বাচন লড়ার বার্তা দিচ্ছেন তৃণমূল, সেই সময় দাঁড়িয়ে ক্রমশ তাসের ঘরের মতো ভেঙে পড়ছে হুগলির তৃণমূল নেতৃত্ব।

এদিকে ২০১৯ এ লোকসভা নির্বাচনে হুগলিতে বিজেপির ফল ভালো হয়। এরপরই শাসকদলের তরফে তৎকালীন হুগলি জেলা সভাপতি তপন দাশগুপ্তকে সরিয়ে দিলীপ যাদবকে নতুন জেলা সভাপতি করা হয়। এরপর কিছুদিন সব ঠিকঠাক চলার পর আচমকাই নানা কারণে দলের অন্দরে বেশ কয়েকজন দিলীপ যাদবের বিরুদ্ধে বিরোধীতা শুরু করেন। দিলীপ যাদবকে জেলা সভাপতি পদ থেকে সরাতে উত্তরপাড়ার বিধায়ক প্রবীর ঘোষাল, প্রাক্তন জেলা সভাপতি তপন দাশগুপ্ত, ধনিয়াখালীর বিধায়ক অসীমা পাত্র, হরিপালের বিধায়ক বেচারাম মান্না, চুঁচুড়ার বিধায়ক অসিত মজুমদার, জাঙ্গিপাড়ার বিধায়ক স্নেহাশিষ চক্রবর্তী, আরামবাগের সাংসদ অপরূপা পোদ্দার এরা প্রত্যেকে দিলীপের বিরুদ্ধে একজোট হয়ে হুগলি জেলায় দিলীপ বিরোধীরা নিজেদের মধ্যে একজোট হয়ে একাধিকবার গোপন বৈঠক করেন। সেই বিষয়ে শাসকদলের অন্দরে কানাঘুষোও শুরু হয়।

এদিকে রবিবারই প্রকাশ্য কর্মীসভায় যোগ দিয়ে নাম না করে দিলীপ যাদবের বিরুদ্ধে ক্ষোভ প্রকাশ করে বেচারাম মান্না বলেন, “‌পার্টি থেকেই কেউ করে খায়, কিন্তু ওই একই ব্যক্তি কর্মীদের যদি বঞ্চিত করে, তা হলে কর্মীরাই তাকে ঘাড় ধাক্কা দিয়ে দল থেকে বের করে দেবে। সেই পরিবেশ হুগলি জেলায় তৈরি হচ্ছে। এটা আপনারা জেনে রাখুন।” শুধু তাই নয়, বিগত কয়েকবছর শাসকদলে কর্মী হিসেবে ছিলেন বেচারাম মান্না। সেখান থেকেই জননেতা হয়ে উঠে আসা। এত বছর দল করার অভিজ্ঞতার প্রসঙ্গ টেনে নিয়ে এদিন আফসোসের সুরে বেচারাম বলেন, “আমরা কর্মীদের মধ্যে থেকে উঠে এসেছি। তাই কর্মীদের জ্বালা, যন্ত্রণা— সব কিছু বুঝি। যাঁরা কর্মীদের কথা গ্রাহ্য করে না, তাঁদের কোনও গুরুত্ব দেয় না, তাঁদের সঙ্গে ৬০০ জন নয়, ৬০ জনও থাকবে না।” তাঁর এই মন্তব্যের পর শাসকদলের অন্দরে ইতিমধ্যেই জল্পনা শুরু হয়েছে।

আরও পড়ুন -  কলকাতা থেকে মহিষাদল , তমলুকে জমজমাট নাট্য উৎসব

অন্যদিকে, রবিবারের ঘটনার রেশ কাটতে না কাটতেই সোমবার ফের আরামবাগের সাংসদ অপরূপা পোদ্দার সরাসরি জেলা সভাপতি দিলীপ যাদবের বিরুদ্ধে অভিযোগ করে বলেন, “জেলা সভাপতি দিলীপ যাদব বলেন যে সবসময় দলের নির্দেশ মানি। দল যা বলে তাই শুনে চলি। আমি ওনাকে একটা প্রশ্ন করতে চাই। দল কি ওনাকে বলেছে যে, আরামবাগের সাংসদের সঙ্গে কথা না বলেই তাঁর এলাকাতে সম্মেলন করতে? যেমন গতকাল পুরশুড়াতে সম্মেলন করেছেন বলে শোনা গিয়েছে। অথচ সেটা আমরা জানি না। পুরোনো দিনের কর্মীরা দুঃখ করছেন যে তাঁদের জানানো হয়নি। উনি তারকেশ্বরেও কিছুদিন আগে প্রোগ্রাম করলেন, অথচ আমাকে সাংসদ হিসেবে কিছুই জানানো হয়নি। উনি খানাকুলেও প্রোগ্রাম করলেন, সেখানেও জানানো হয়নি। দল কি ওনাকে বারণ করেছেন যে হুগলি জেলার মধ্যে আরামবাগ লোকসভা কেন্দ্রের সাংসদকে না জানিয়ে প্রোগ্রাম করতে ?”

আরও পড়ুন -  নদীর বালি হজম হয়, মুড়ির বালি নয়! দু'মুঠো বালির জন্য গ্রাম ছাড়া মহিলা, প্রহৃত সাংবাদিক

পাশাপাশি, এদিন অপরূপা দেবী আরও বলেন, “আমরা দলকে ভালোবাসি। দলের ঐক্যবদ্ধ সৈনিক হিসাবে ২০২১-এ একসঙ্গে লড়ব। কিন্তু উনি কেন এরকম করছেন, সেই উত্তর উনিই দিতে পারবেন। আমরা হুগলি জেলার ১৮টা আসনই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে উপহার দিতে চাই। আমরা চাই দলের শক্তি বৃদ্ধি হোক। কিন্তু দলের তৃণমূল স্তরের কর্মীরা ঝিমিয়ে পড়ছে। কবে কমিটি করবেন? এখনও কিছুই করছেন না সভাপতি। কোনও আলোচনা না করেই যা করার করছেন। আমরা মিটিং করছি ব্লক সভাপতি, এমএলএ-দের নিয়ে। একইসময়ে আরেকটা পাল্টা মিছিল হচ্ছে আমাদের জেলা সভাপতিকে নিয়ে। এতে মানুষের কাছে ঠিক বার্তা যাচ্ছে না।”

বেচারামের পর এবার হুগলি জেলা সভাপতি দিলীপ যাদবের বিরুদ্ধে ক্ষোভ উগড়ালেন আরামবাগের সাংসদ 2