ফের ভুল, ফের উল্টো পতাকা! এবার সেই পতাকা তুলে বিতর্কে স্বয়ং দিলীপ ঘোষ,সমালোচনার ঝড়ে অস্বস্তিতে বিজেপি

428
ফের ভুল, ফের উল্টো পতাকা! এবার সেই পতাকা তুলে বিতর্কে স্বয়ং দিলীপ ঘোষ,সমালোচনার ঝড়ে অস্বস্তিতে বিজেপি 1

নিউজ ডেস্ক : কবিগুরু বলেছেন, ‘তোমার পতাকা যারে দাও, তারে বহিবারে দাও শকতি।’ এবার হয়ত বলার দরকার যে, ‘পতাকা তুলিতে যারে দাও, তারে পতাকার মর্ম বোঝার দাও বুদ্ধি।’ প্রতিবারই হয় স্বাধীনতা দিবস কিংবা প্রজাতন্ত্র দিবসের সময় কোথাও না কোথাও উল্টো পতাকা তোলার খবর আসেই কিন্তু তারপরেও আবার পরের বার সেই একই ঘটনার পুনরাবৃত্তি। হয়ত সাধারণ কারও কারও ভুল হয়ে যায় কিন্তু সেই ভুল যদি নেতাদের হয় তখন আর বিড়ম্বনার শেষ থাকেনা। এবার যেমনটা হল বিজেপির রাজ্য সভাপতি দিলীপ ঘোষের সঙ্গেই। ৭২তম প্রজাতন্ত্র দিবসে এক দলীয় কার্যালয়ে কর্মীদের আয়োজিত পতাকা তুলে চরম বিতর্কে জড়ালেন দিলীপ। যদিও পরে বিষয়টির ভুল বুঝতে পেরে সঙ্গে সঙ্গে পতাকা ঠিক করেন। ফের তুলতে শুরু করেন। এই ঘটনায় কার্যত তাঁকেও যে অস্বস্তিতে পড়তে হয়েছে তা স্বীকার করে নিয়েছেন দিলীপবাবু।

সোমবার রাতে পুজো দেওয়ার জন্য তারাপীঠে গিয়েছিলেন মেদিনীপুরের সাংসদ। মঙ্গলবার সকালে পুজো দেওয়ার পর ৭২-তম সাধারণতন্ত্র দিবস উপলক্ষে রামপুরহাটের দলীয় কার্যালয়ে উল্টো জাতীয় পতাকা তুলতে গিয়েই এই অস্বস্তির ঘটনা ঘটে। উল্টো জাতীয় পতাকা তুলছেন দিলীপ ঘোষ নিমেষে সেই ঘটনা ছড়িয়ে পড়ে মোবাইল বন্দি হয়ে। রাজ্য সভাপতির তোলা উল্টোপতাকার মোবাইলবন্দি ভিডিওটি মুহূর্তে ভাইরাল হয়ে যায়। যদিও সংবাদ মাধ্যমের সঙ্গে কথা প্রসঙ্গে ঘটনাটি যে অস্বস্তিকর তা দিলীপ ঘোষ স্বীকার করে নিয়েছেন।

ফের ভুল, ফের উল্টো পতাকা! এবার সেই পতাকা তুলে বিতর্কে স্বয়ং দিলীপ ঘোষ,সমালোচনার ঝড়ে অস্বস্তিতে বিজেপি 2

এই প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “এটা একটা খুবই অস্বস্তিকর ঘটনা। পতাকা তোলার আগে তো পরীক্ষা করে দেখিনি। কিন্তু পতাকা তোলার সঙ্গে সঙ্গেই বিষয়টা আমার চোখে পড়ে। তখন নিজেই হাত লাগাই। তার পর সঠিক ভাবে জাতীয় পতাকা তুলি। যাঁরা ওই দায়িত্বে ছিলেন, তাঁদের পরে বলেছি, এমন ভুল যেন আর কখনও না হয়। জাতীয় পতাকাকে অসম্মান করার কোনও উদ্দেশ্য ওঁদের ছিল না। ভুল করেছেন। সংশোধন করেছেন।”

ভিডিওটিতে দেখা গিয়েছে, দিলীপবাবু পতাকা তুলতে গিয়েই দেখেন সেটি উল্টো তবে ততক্ষণে অনেকটাই দেরি হয়ে গেছে। ভুল বুঝতে পেরে দ্রুততার সঙ্গে নিজেই পতাকাটি খুলে ফের সোজা করে দেন। কর্মী সমর্থকরা এদিকে ভারত মাতার জয় স্লোগান দিচ্ছে। রাজ্য সভাপতি বিড়ম্বনা কাটাতে জাতীয় সংগীত গাইতে শুরু করেন। অন্যান্যদেরও যোগ দিতে বলেন।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বারবার ভুল হচ্ছে বলা হচ্ছে বটে কিন্তু তাকে শুধরে নেওয়ার কোনোও চেষ্টা করা হয়েছে। এই যে ভুলটা বারংবার হয়েই যাচ্ছে এটা শুধরানোর দায়িত্ব আর কর্তব্য নেওয়া উচিৎ নেতৃত্বকেই। যাঁরা হুজুগে পতাকা বাঁধেন তাঁদের ভুল হতেই পারে কিন্তু যিনি পতাকা তুলবেন আশা করা যায় তিনি নিশ্চিত ভাবেই হুজুগে পতাকা তুলছেন না! তিনি নেতা, তিনি মন্ত্রী, শিক্ষক, অধ্যাপক যাই হোন না কেন পতাকা তোলার আগে তিনি দেখে নেবেননা পতাকা ঠিকঠাক রয়েছে কীনা? তা নাহলে বুঝতে হবে পতাকা তোলার যোগ্য তিনি নন।