খড়গপুর রেলস্টেশনের যাত্রী স্বাচ্ছন্দ্য পরিষেবা সহ একগুচ্ছ প্রকল্পের উদ্বোধন করলেন সাংসদ

752
খড়গপুর রেলস্টেশনের যাত্রী স্বাচ্ছন্দ্য পরিষেবা সহ একগুচ্ছ প্রকল্পের উদ্বোধন করলেন সাংসদ 1

নিজস্ব সংবাদদাতা: যাত্রীদের জন্য একগুচ্ছ সুবিধা প্রদান ব্যবস্থা করল দক্ষিণপূর্ব রেলের খড়গপুর শাখা। গত প্রায় ১বছর ধরেই এই সংস্কারের কাজ করে আসছিল রেল যদিও করোনা জনিত লকডাউনের কারনে মাঝে কিছুদিন সেই কাজ বন্ধ ছিল। পরে আনলক পর্বে দ্রুততার সঙ্গে সেই কাজ শেষ করা হয়েছে বলে জানালেন রেলের ইঞ্জিনিয়াররা। বুধবার সেই পরিষেবা গুলির শুভ উদ্বোধন অনুষ্ঠান হয়ে গেল খড়গপুর রেল স্টেশনের দক্ষিণ প্রান্তের টিকিট কাউন্টার সংলগ্ন স্থানে। উদ্বোধন করলেন মেদিনীপুরের সাংসদ তথা বিজেপি রাজ্য সভাপতি দিলীপ ঘোষ। অনুষ্ঠানে আমন্ত্রিত ছিলেন খড়গপুর শহরের বিধায়ক প্রদীপ সরকারও যদিও ব্যস্ততার কারন দেখিয়ে সেই অনুষ্ঠান এড়িয়ে গেছেন সরকার।

খড়গপুর রেলস্টেশনের যাত্রী স্বাচ্ছন্দ্য পরিষেবা সহ একগুচ্ছ প্রকল্পের উদ্বোধন করলেন সাংসদ 2

রেলের তরফে জানানো হয়েছে খড়গপুর স্টেশন হল এন.এস.জি-২ শ্রেণীর রেল স্টেশন। অর্থাৎ নন সাবার্বান স্টেশন যেখানে বছরে রেল ১০০কোটি টাকার ওপরে ৫০০কোটির মধ্যে আয় করে এবং ১০ মিলিয়ন থেকে ২০মিলিয়ন যাত্রী যাতায়ত করে। তাছাড়া অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ জংশন এটি। সেই দিকে নজর দিয়েই রেলের তরফে এই যাত্রী পরিষেবা ঢেলে সাজানো হল। এই পর্যায়ে আমূল পরিবর্তন আনা হয়েছে রেলের বুকিং কাউন্টারের। আগের তুলনায় কাউন্টার গুলিকে একটু নিচে নামানো হয়েছে যাতে যাত্রীরা স্বাচ্ছন্দ্যে টিকিট কাটতে পারেন।

খড়গপুর রেলস্টেশনের যাত্রী স্বাচ্ছন্দ্য পরিষেবা সহ একগুচ্ছ প্রকল্পের উদ্বোধন করলেন সাংসদ 3

অন্যদিকে রেলের প্রতীক্ষালয়টি আরো সুবিধাযুক্ত করা হয়েছে। যাত্রীদের বসার সোফা গুলির আদল বদলে এমন ভাবে করা হয়েছে যাতে দূরপাল্লার যাত্রার আগে জিরিয়ে নিতে পারেন। এই পর্যায়ে স্টেশনের ১ নম্বর ও ৩ নম্বর প্ল্যাটফর্মের সংস্কার করা হয়েছে। পুরানো মেঝে তুলে ফেলে বসানো হয়েছে মার্বেল পাথর। পাশাপাশি দক্ষিণপ্রান্তে বহুদিন যাবৎ যে বৃহৎ আকার সেড নির্মাণ হচ্ছিল এবং সৌন্দর্যায়নের কাজ চলছিল তারও এদিন উদ্বোধন হয়।

খড়গপুর ডিভিশনের রেলওয়ে ম্যানেজার মনোরঞ্জন প্রধান জানিয়েছেন, সময়ের সঙ্গে সঙ্গে রেলের পক্ষ থেকে খড়গপুর স্টেশনের সংস্কার করা হয়ে থাকে। আমরা নজরে রাখি যাত্রীদের কী কী ধরনের সুবিধার প্রয়োজন হয় সেই মতই পরিকল্পনা করা হয়। এই পর্বে সেরকমই একটি উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এই পরিকল্পনা ধারাবাহিক ভাবেই চলবে।” উপস্থিত ছিলেন ডিভিশনাল কমার্শিয়াল ম্যানেজার আদিত্য চৌধুরী জানান, প্রায় ৪কোটি টাকা ব্যয় করা হয়েছে এই সংস্কারের কাজে।

পূর্বেই উল্লেখ করা হয়েছে যে এই পরিষেবার উদ্বোধন করার জন্য আমন্ত্রিত হয়েছিলেন বিজেপির রাজ্য সভাপতি দিলীপ ঘোষ। ঘোষ এরই পরিষেবার পাশাপাশি এদিন খড়গপুর-টাটা শাখার খেমাশুলির নব নির্মিত স্টেশনভবন এবং দুটি প্ল্যাটফর্মের উদ্বোধন করেন। ঘোষ জানিয়েছেন, ‘ রেলের পক্ষ থেকে রাস্তা সম্প্রসারণ, আলোকিত করনের কাজ করা হয়েছে। তিনি দাবি করেন, যাত্রীদের চাহিদার কথা মাথায় রেখে খড়গপুর থেকে হাওড়া অবধি একটি সরাসরি লোকাল ট্রেন চালানো উচিৎ যা মধ্যিখানে থামবেনা। যদিও এটি আগে থেকেই রেলের পরিকল্পনার মধ্যে রয়েছে বলে রেল আগেই জানিয়েছে। অন্যদিকে সাংসদ অমৃতসর অবধি একটি এক্সপ্রেস চালানো উচিত বলে জানিয়েছেন। ঘটনাচক্রে পাঞ্জাবের কৃষকদের বর্তমান কেন্দ্র বিরোধী আন্দোলন চলছে। তাই অনেকে মনে করছেন খড়গপুরে যেহেতু বড় অংশের শিখ সম্প্রদায়ের মানুষ রয়েছেন তাই তাঁদের সমবেদনা পেতেই সাংসদের এই দাবি।

এদিকে ঘটনা এটাও যে বহুদিন বাদে রেল এই ধরনের অনুষ্ঠানের উদ্বোধন একজন সাংসদ কাম রাজনৈতিক নেতাকে দিয়ে করালো। সম্ভবতঃ ২০২১য়ের নির্বাচনের কথা মাথায় রেখেই রেলের কাছ থেকে এই সুবিধা নেওয়ার ভাবনাটা রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত আর এটা অনুধাবন করেই এই কর্মসূচি এড়িয়ে গেছেন শহরের বিধায়ক।
তবে সবচেয়ে নজর কেড়েছে বিশাল মঞ্চ তৈরি করে রেলের এই উদ্বোধন অনুষ্ঠান যা আগে কখনও দেখা যায়নি। আর এই মঞ্চে বিশিষ্ট জনদের বসার আসনের সিংহভাগই দখল নিয়েছিলেন বিজেপির কর্মীরা। এমনকি সাংবাদিক, রেল আধিকারিকদের বসার আসনও জোটেনি। ছবি- বিভূ কানুুুনগো

Previous articleমঙ্গলকোটে তৃণমুল নেতা খুন,আটক ছয় বিজেপি কর্মী
Next articleআজকের রাশিফল, ২৮শে জানুয়ারি’২০২১