লকডাউনে চরম দুরবস্থায় নাট্যকর্মীরা, নাটকেই দাবি জানানো হল শিল্পী ও শিল্পকে বাঁচানোর

68
লকডাউনে চরম দুরবস্থায় নাট্যকর্মীরা, নাটকেই দাবি জানানো হল শিল্পী ও শিল্পকে বাঁচানোর 1

সুদীপ খাঁড়া : করোনা ভাইরাসের সংক্রমণের কারনে গভীর সঙ্কটের মুখে এই রাজ্যের সাংস্কৃতিক জগৎ। যদিও সরকার ইতিমধ্যে সিনেমা ও টিভির সিরিয়ালের কলাকুশলীদের জন্য মাসিক অনুদান, মেডিক্লেমসহ অন্যান্য সুযোগ সুবিধার কথা ঘোষণা করেছেন।

কিন্তু রাজ্যের নাট্যকর্মী ও নেপথ্যের কলাকুশলীদের সম্পর্কে রাজ্য সরকার নীরব।অথচ একটা বড় অংশের নাট্যকর্মী নাটক কে জীবিকা হিসেবে গ্রহণ করেছে।এখন বিপন্ন তাঁদের জীবন।যেহেতু নাটক শিল্পী ও দর্শকের মধ্যে সরাসরি মাধ্যম।তাই অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে নাট্যশিল্পীদের ভবিষ্যৎ।

এই সঙ্কট কাটিয়ে উঠতে কলকাতা সহ সব জেলার নাট্যকর্মীরা একজোট হয়ে ‘কথাবার্তা ‘ নামে একটা গ্রুপের মাধ্যমে পারস্পরিক আলোচনায় ৬ দফা দাবীপত্র মুখ্যমন্ত্রী ও রাজ্যপালের দপ্তরে জমা দিয়েছে। সিদ্ধান্ত হয় ১৯ শে জুলাই এই ৬ দফা দাবী নিয়ে সারারাজ্যের নাট্যকর্মীরা পথে নামবে।

আরও পড়ুন -  বৃষ্টি আসছে খড়গপুর মেদিনীপুরেও! জানালো হাওয়া অফিস, কালো মেঘ ভাসছে দুই শহরের মাথায়, মাঝে মধ্যে বৃষ্টি

এই ৬ দফা দাবীতে রয়েছে নাট্যকর্মীদের মাসিক আর্থিক সহায়তা, মেডিক্লেম প্রদান, সরকারি প্রেক্ষাগৃহ এক-তৃতীয়াংশ ভাড়ায় নাট্যদলগুলিকে দেওয়া,নাট্যানুষ্ঠানের জন্য সরকারি জটিলতা সরলীকরণ করা, নাট্যকর্মীদের স্বরোজগার যোজনার মাধ্যমে ঋণের সুযোগ দেওয়া ও সর্বস্তরের শিক্ষাক্রমে নাট্যচর্চাকে যুক্ত করা।
এই দাবীগুলো কে সামনে রেখে মেদিনীপুর শহরের নাট্যদলগুলি সম্মিলিত ভাবে ১৯ জুলাই সন্ধ্যায় কলেজ রোড ও অশোকনগরে দুটি পথসভা ও পথনাটক করে।

আরও পড়ুন -  দাদা, আমরা নেগেটিভ! চিৎকার করে কাঁদছে পরিবার, শুনেছেনা হৃদয়হীন মেদিনীপুর শহর

বক্তব্য রাখেন শহরের বিশিষ্ট নাট্যব্যক্তিত্ব রঘুনাথ ভট্টাচার্য ও পার্থ মুখোপাধ্যায়। দাবীগুলির সাথে সঙ্গতি রেখে নাটককার পিনাকী মজুমদারের পথনাটক ‘ আগুন জ্বালো’ পরিবেশিত হয়।দুপুর থেকে অবিরাম বর্ষনের পর সন্ধ্যায় পথচলতি উৎসুক মানুষ শুনেছেন নাট্যকর্মীদের বক্তব্য, সমর্থন জানিয়েছেন দাবীসমূহ, এমনকি পথসভার খরচ তুলতে যে যার মতো স্বেচ্ছায় অর্থ তুলে দেয় নাট্যকর্মীদের হাতে।

লকডাউনে চরম দুরবস্থায় নাট্যকর্মীরা, নাটকেই দাবি জানানো হল শিল্পী ও শিল্পকে বাঁচানোর 2