কংক্রিটের খুঁটি নেই, জনরোষ ঠেকাতে ভাঙা খুঁটিতেই গাছের ডাল বেঁধে বিদ্যুৎ সংযোগ, বিপদের আশঙ্কায় স্থানীয় বাসিন্দারা

437
Advertisement

ওয়েব ডেস্ক:  এ যেন শাঁখের করাত, যেতে আর আসতে দু’দিকেই কাটে। দিনের পর দিন বিদ্যুৎ নেই কারন একের পর এক খুঁটি ভেঙে ছিন্নভিন্ন বিদ্যুৎবাহী তার। বিদ্যুৎ নেই তাই প্রচন্ড গরমে পাখা নেই, সন্ধ্যের পর আলো নেই সর্বোপরি পানীয়জল নেই। ফলে দিনের পর এই অবস্থায় থাকায় বাড়ছে জনরোষ। এদিকে আবার একই সাথে হাজার হাজার বিদ্যুৎ খুঁটি একই সাথে ভেঙে পড়ায় দ্রুত সেগুলির বিকল্পও নেই কারন এত খুঁটি মজুদ নেই। স্বভাবতই ভাঙা খুঁটিতে কোথায়ও গাছের ডাল কোথাও বল্লি বেঁধেই চলছে বিদ্যুৎ সংযোগ। ফলে বিপদের আশঙ্কাও বাড়ছে।

Advertisement

উত্তর থেকে দক্ষিন ২৪ পরগনায় বিভিন্ন জায়গার চিত্রটা খানিকটা  এইরকম। আমফানের জেরে কার্যত ভেঙে পড়েছে ল্যাম্প পোস্ট। সেই ভাঙা ল্যাম্প পোস্টেই গাছের মোটা ডালের ঠেকনা দিয়ে হাই ভোল্টেজ তারে বিদ্যুৎ সংযোগ দিয়ে গিয়েছেন বিদ্যুৎ কর্মীরা। ঘটনায় স্বাভাবিকভাবেই ফের বড়ো কোনো দুর্ঘটনায় পড়ার আশঙ্কাতেই দিন কাটাচ্ছেন এলাকার বাসিন্দারা। তাদের অভিযোগ, আমফানের জেরে বহু জায়গায় বিদ্যুৎ পোস্ট ভেঙে পড়েছে। এই অবস্থায় বেশ কিছু দিন এলাকায় বিদ্যুৎ সংযোগ বন্ধ ছিল। কিন্তু বিদ্যুৎ সংযোগ ঠিক করতে এসে কর্মীরা গোজামিল দিয়ে হেলে পড়া পোস্টের মধ্যেই ফের নতুন বিদ্যুৎ সংযোগ দেওয়া হয়।

Advertisement
Advertisement

একই চিত্র উত্তর ২৪ পরগনার বারাসত ও দত্তপুকুরেও। স্থানীয়দের অভিযোগ, যে সকল তারে বিদ্যুৎ সংযোগ দেওয়া হয়েছে তাদের কোনোটি ৪৪০ ভোল্ট কোনোটি আবার ১১০০০ ভোল্টের। ফলে স্বাভাবিকভাবেই যে কোনো সময়ই বড়ো কোনো বিপত্তি ঘটতে পারে বলে মনে করছেন স্থানীয়রা।এ বিষয়ে বিদ্যুৎ কর্মীদের একাংশের দাবি, “বিদ্যুৎ সংযোগ না থাকায় গ্রামের মানুষ বিক্ষোভ দেখাচ্ছেন। বাধ্য হয়ে তাঁদের তড়িঘড়ি লাইন দিয়ে দিতে হচ্ছে। কাজেই সব জায়গাতে এইমুহূর্তে বিদ্যুতের নতুন পোস্ট দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না। তবে খুব শিঘ্রই নতুন করে পোস্ট লাগানো হবে।”এ বিষয়ে বিদ্যুৎমন্ত্রী শোভনদেব চট্টোপাধ্যায় বলেন,”আগে প্রাথমিকভাবে বিদ্যুৎ সংযোগ দেওয়াটা আমাদের টার্গেট ছিল। আগামী দু-তিন দিনের মধ্যে বড় কাজগুলো শেষ হয়ে যাবে। তারপর বাকি কাজ করা হবে। এই মূহুর্তে পোস্টের কোনও সমস্যা নেই।”তবে আশঙ্কা কাটয়ে কবে স্বাভাবিক হবে পরিস্থিতি, নতুন পোস্টে বিদ্যুৎ সংযোগ দেওয়া হবে এখন সেদিকেই তাকিয়ে রয়েছেন সাধারণ মানুষ।